শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ১৪:২৫
প্রিন্ট করুন printer

আমনে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের স্বস্তির নিঃশ্বাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

আমনে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের স্বস্তির নিঃশ্বাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতসহ নিম্ন এলাকায় বন্যা হওয়ার পর এ মৌসুমে আমনের ফলন ভালো হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে যে দিকে চোখ যায় শুধু পাকা ধান আর পাকা ধান। চলছে ধান কাটা। আমন ধানকে ঘিরে কৃষকরা প্রাণভরে ধান কেটে মাড়াই কাজে এখন ব্যস্ত সময় করছেন। তবে এ মৌসুমে ধানের ফলন ভালো ও বাজারে বিক্রিতে ধানের ভালো দাম থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।  

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আমন মৌসূমে পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ উপজেলায় প্রায় ২৫শতাংশ আমন ধান কাটা হয়েছে। 

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষি শ্রমিকের চাহিদা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ধান কাটার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে কাজের শ্রমিক এলাকায় আসতে শুরু করেছে।

পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, খড়মপুর, দূর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ধান আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার মোগড়া গ্রামের কৃষক মো. তমিজউদ্দিন  বলেন, ৬বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেন। ৩ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। বিঘা প্রতি ১৬-১৭ মন ধান পেয়েছেন। স্থানীয় বাজারে ৮মন ধান ৯শত৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। সঠিক ভাবে জমির পরিচর্যা করায় ধানের ভাল ফলন হয়েছে বলে জানায়। 

কৃষক মো: আফজাল মিয়া বলেন, ১০বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেন তিনি। শুরুতে টানা বৃষ্টির কারনে জমি নষ্ট হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ৪বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। প্রতি বিঘা জমিতে ১৬-১৮ মন ধান হয়েছে। এবারের মতো ধান গত কয়েক বছরে হয়নি বলে জানায়। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেছে। 

কৃষক লিয়াকত হোসেন বলেন, আমন ধান আবাদে খরচের পরিমাণ বোরোর চাইতে তুলনামূলক অনেক কম হয়। নানা প্রতিকূলতার পরও এবার জমিতে ভালো ধান হয়েছে। কৃষক আবেদ আলী জানায়, গত মৌসুমের ক্ষতি পুষাতে ধার দেনা করে  ৫বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ করেন। দুই বিঘা জমির ধান তার কাটা হয়েছে। বিঘা প্রতি ধান পেয়েছেন ১৬-১৭ মন ধান। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুবই খুশি।  কৃষক আলী আজম বলেন, রোধ বৃষ্টি ভিজে দিন রাত পরিশ্রম করে ৮ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ করেন। আগামী সপ্তাহে জমির ধান কাটা হবে বলে জানায়। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ায় জমির দিকে তাকালে তার মন জুড়িয়ে যায় বলে জানায়। 

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সারা উপজেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে টানা বৃষ্টিপাত হলেও সময় মতো পানি চলে যাওয়ায় বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য