শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:৫৩
প্রিন্ট করুন printer

নরসিংদীতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করছে একদল যুবক

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করছে একদল যুবক

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিজেদের জীবন বাজী রেখে নরসিংদীতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছেন একদল যুবক। কখনও হাসপাতাল আবার কখনো বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করছেন তারা। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ কেউ আবার করোনায় আক্রান্তও হচ্ছেন। কেউ আবার চাকরি হারাচ্ছেন। বিনা চাকরি ও বিনা পারিশ্রমিকে টানা নয় মাস যাবৎ কাজ করলেও তাদের খোঁজ রাখেননি কেউ। চাকরির আশ্বাস দেয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। 

নরসিংদী সিভিল সার্জন বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবীদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাদের চাকরিতে স্থায়ী করণের জন্য ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই নরসিংদীতে আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার পর নরসিংদীকে করোনার রেড জোন ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরবর্তীতে সংক্রমণ রোধে নরসিংদী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসন। অন্য জেলার সাথে সীমান্ত পথ গুলো দিয়ে ইমাজেন্সি ব্যতীত সকল যোগাযোগ ও যানবাহন সহ সর্ব সাধারনের প্রবেশে নিষেধাঞ্জা জারী করা হয়। পরবর্তীতে কঠোর ভাবে সংক্রমণ রোধে এলাকা ভিত্তিকও লকডাউন দেয়া হয়।  

এদিকে, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সল্পতার কারণে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে হিমসিম খেতে হয়। পরবর্তীতে চাকরি দেয়ার আশ্বাসে তিন বছরের ডিপ্লোমাধারী ২৮ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে জেলা হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, পলাশ, শিবপুর, রায়পুরা ও মনোহরদী উপজেলায় কাজে যোগদান করানো হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ নয় মাস যাবৎ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করলেও তাদের খোঁজ রাখেনা কেউ। চাকরির আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি আজ পর্যন্ত। তবে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশে ২০২ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে নিযোগ দিয়েছে সরকার। তবে নরসিংদী জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কতৃক জেলার স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিতে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের তালিকা পাঠানো হলেও এখনো তাদেরকে চাকরির আওতায় আনা হয়নি। চাকরির আশায় স্বেচ্ছাশ্রমীরা আজও বিনা বেতনে দ্বয়িত্ব পালন করছেন। ফলে কোন অর্থ কষ্টে এদের অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 
 
জেলা হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আর এমও) এম এন মিজানুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯ রোগী কিছুটা কমলেও সম্প্রতি এই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকের পাশাপাশি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ নমুনা সংগ্রহ না করলে শনাক্তের হার বোঝার উপায় নেই।

২৮ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মীর অপরিসিম গুরুত্বের কথা স্বীকার করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: নূরুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ২৮ জন স্বেচ্ছাসেবক নেয়া হয়েছে। তারা জেলা হাসপাতাল, সদর হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই তাদের নামের তালিকা স্ব্যাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি। কোভিড-১৯ এর ২য় পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের প্রয়োজন রয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর