শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ মার্চ, ২০২১ ১৮:৪৯
প্রিন্ট করুন printer

‘জনপ্রিয়তা ও সন্ত্রাসবিরোধী মনোভাবের কারণে’ ইউপি সদস্য খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

‘জনপ্রিয়তা ও সন্ত্রাসবিরোধী মনোভাবের কারণে’ ইউপি সদস্য খুন
ইউপি সদস্য নূর আলী শেখ।

সন্ত্রাসবিরোধী মনোভাব এবং জনপ্রিয়তার কারণেই খুন হতে হলো যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাঢ়া গ্রামের ইউপি সদস্য নূর আলী শেখকে। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা এমনটাই মনে করছেন। আর পুলিশ ধারণা করছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত ইউপি সদস্য খুনের ঘটনায় অভয়নগর থানায় কোনো মামলা হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তবে হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। নূর আলী শেখের দাফনের পর স্বজনরা মামলা দায়ের করতে পারেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

রবিবার রাত ৮টার দিকে অভয়নগরের বাবুরহাট বাজার থেকে ছেলের সাথে মোটরসাইকেল করে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন শুভরাঢ়া গ্রামের দুই নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর নূর আলী শেখ। এসময় তার ছেলের পায়েও গুলি লাগে।

নূর আলী শেখের ভাই রুহুল আমিন শেখ বলেন, ‘রবিবার সকালে ভাই আমাকে বলেছিলেন, কিছু লোক তাকে খুন করতে চায়। আমি তাকে সাবধানে চলতে বলি। ভাইয়ের সাথে এই আমার শেষ কথা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকা সন্ত্রাসপ্রবণ ছিল। ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমার ভাই এলাকার সকলকে নিয়ে রাত্রিকালীন ডিউটিসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি ভাল করে। এসব করে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। আগামীতে ইউপি সদস্য পদে তাকে কেউ হারাতে পারতো না। এসব কারণেই আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে।’

শুভরাঢ়া গ্রামের ইব্রাহিম আলী বলেন, মেম্বর সাহেব খুব ভাল লোক ছিলেন। সন্ত্রাসীদের কারণে এলাকায় থাকতে পারতাম না। সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকার পরিবেশ ভাল করেছেন তিনি। তিন-চার বছর এলাকায় শান্তি বিরাজ করে আসছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে দুই গ্রুপ রয়েছে। এই গ্রুপিংয়ের কারণেই তাকে মরতে হলো। মোক্তার হোসেন বলেন, নূর আলীর সাথে ৪-৫ বছর ধরে দলের একটি পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল।

তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিন বাবু বলেন, অত্যন্ত জনপ্রিয় মেম্বর ছিলেন নূর আলী। তার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করতো। দলীয় কোন্দল নিয়েও বিরোধ ছিল। কিন্তু এজন্য যে তাকে হত্যা করা হবে, তা চিন্তাও করা যায়নি।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেটা রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর