শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:১০
প্রিন্ট করুন printer

মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় নিক্কন

দিনাজপুর প্রতিনিধি

মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় নিক্কন
বাবা-মা’র সাথে নিক্কন রায়।
Google News

মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে দিনাজপুরের ভ্যান চালকের ছেলে নিক্কন রায়। অভাব-অনটনের করাল গ্রাসে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্রতা। 

নিক্কন রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের সুন্দরবন গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক খনিজ চন্দ্র রায়ের ছেলে সে।

নিক্কন রায়ের বাবা ভ্যানচালক, মা দিনমজুর। পরিবারে অভাব-অনটন যাদের নিত্যদিনের সাথী। দুই ভাইসহ পরিবারের সংখ্যা চারজন। নিক্কন রায়ের বাবা খনিজ চন্দ্র রায় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। প্রতিদিন আয় মাত্র ২০০-৩০০ টাকা। বাবার একার পক্ষে সংসার পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই নিক্কন রায় মেধা তালিকায় স্থান পেলেও মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় নিক্কন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রাইভেট পড়ানো আর মানুষের অনুদানের টাকায় দু-এক মাস কোচিং করেন। দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে মেডিকেল পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল। মানুষের সেবার ইচ্ছায় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়েই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফল জানার পর আনন্দে আত্মহারা হলেও তার ভর্তি বাধা হয়ে দাঁড়ায় দারিদ্রতা। চোখেমুখে ফুটে ওঠেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান হলেও দারিদ্র্যের বাধা অতিক্রম করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়াটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে তার।

ভ্যান চালক বাবা খনিজ চন্দ্র রায় বলেন, ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে এতে খুশি। কিন্তু আর্থিক অনটনের সংসার। অনেক কষ্টে ছেলেকে এতদূর এনেছি। মেডিকেলে ভর্তি করাসহ পড়াশোনার ব্যয় বহনের মতো অবস্থা আমার নেই।

নিক্কনের মা মমতা রানী রায় বলেন, আমাদের কোনো জমিজমা নেই। শুধু ভিটেমাটি। স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে।

এসময় সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা ছাড়া মেধাবী নিক্কন ডাক্তারি ভর্তি অসম্ভব বলে জানান তার মা-বাবা।

চান্সপ্রাপ্ত নিক্কন রায় বলেন, ইশ্বর আমাকে মেধা দিয়েছে। কিন্তু বাবা-মাকে অর্থ দেয়নি। আমার খুব ইচ্ছা একজন চিকিৎসক হয়ে এদেশের অসহায়, গরিব ও দরিদ্র মানুষদের চিকিৎসা সেবা করবো। কিন্তু সে আশা হয়তো আশায় থেকে যাবে।

উল্লেখ্য, নিক্কন তৃতীয় শ্রেণি থেকে মেধাবী ছাত্র হিসেবে স্কুল-কলেজে প্রথম স্থান অধিকার করে এসেছে। নিক্কন ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। দিনাজপুর সদরের সুন্দরবন ইউনিয়নের আত্রাই স্কুলে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ও ২০২০ এইচএসসি দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর