৪ আগস্ট, ২০২১ ২২:০৮

নালিতাবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে বকের অভয়াশ্রম

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি

নালিতাবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে বকের অভয়াশ্রম

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বকের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত বাঘবেড় ইউনিয়নে বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের বাড়ীটি। কিন্ত আগের মত বড় বড় গাছ ও বাঁশঝাড় কেটে ফেলার কারণে দিন দিন বকের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। 

জানা গেছে, স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের বাড়িতে বক পাখির অভয়ারন্য গড়ে উঠে। হাজার হাজার বক তার বাড়ির বাঁশ ঝাড়ে বাসা বাঁধে। বক ছাড়াও পানকৌড়ি বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস ও দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখির নিরাপদ স্থান হিসেবে বাসা বাঁধে। সকাল সন্ধ্যা পাখিদের কলরবে মুখরিত হয়ে থাকতো। প্রতি বছর বর্ষা আসার আগেই বক এসে বাসা বাঁধে। এখনো বক ও অন্যান্য পাখি আছে তবে সংখ্যায় আগের তুলনায় কম।

এসব পাখির অভয়ারন্য দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শতশত মানুষের ভিড় জমে ওই বাড়িতে। ওই বাড়ীর মালিক বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মন বকগুলোকে পরিচর্চা করতেন। অনেক সময় বকগুলো তার ঘরে নেমে এসে আহার করতো। বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের শরীরে এসে বসতো বক। তখন থেকেই বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের বাড়ীটি বক বাড়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। গত বছর  বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের মৃত্যু হয়। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পরে বকগুলো।

তিনি প্রতিদিন বকগুলো দেখভাল করতেন। ছোট ছোট বাচ্চা ঝড়ে বাসা থেকে পরে গেলে সেই বাচ্চাটিকে পরিচর্যা করে আবার তার বাসায় তুলে দিতেন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও পাখি শিকারীদের অত্যাচারে দিনে দিনে বকগুলো এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের ছেলে সতিন্দ্র চন্দ্র বর্মন, সুকেন্দ্র চন্দ্র বর্মন ও রমেশ চন্দ্র বর্মন জানান, বর্তমানেও যে পরিমানের বক রয়েছে সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এখনও অভয়ারন্যটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

তারা জানান, বকগুলো আহার করতে গেলে আশপাশের শিকারীরা ধরে নিয়ে যায়। আবার রাতের অন্ধকারে প্রতিবেশীরা বাঁশ ঝাড়ে উঠে ধরে নিয়ে যায়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বকগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন,আমি ওইখানে বক দেখতে কয়েকবার গিয়েছি। আগে অনেক পাখি ছিলো। বড় বড় গাছ ও বাঁশঝাড় কেটে ফেলায় দিন দিন পাখির সংখ্যা এখন কমে আসছে। রক্ষণাবেক্ষনে আমাদের পক্ষ থেকে কিছু করার সুযোগ নাই।  

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

এই বিভাগের আরও খবর