Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৩

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

ঠুঁটো জগন্নাথ অবস্থা কাম্য নয়

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

পাট বাংলাদেশের পরিচিতির অন্যতম অনুষঙ্গ। পাটের কারণেই এক সময় বাংলাদেশকে অভিহিত করা হতো সোনালি আঁশের দেশ হিসেবে। স্বাধীনতার আগে পাট ছিল এ অঞ্চলের প্রধান রপ্তানি পণ্য। স্বাধীনতার পরও প্রায় দেড় যুগ ধরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটের অবদানই ছিল মুখ্য। কালের বিবর্তনে কৃত্রিম তন্তুর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পাট তার স্থান হারালেও এখনো এটি দেশের অন্যতম কৃষিজাত রপ্তানি পণ্য। পাট চাষ, পাটকলের শ্রমিক সব মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা পাটের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ এবং এ জন্য পুরোদস্তুর একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করলেও মন্ত্রণালয়ের ঠুঁটো জগন্নাথ অবস্থা উদ্দেশ্য পূরণে অন্তরায় হয়ে উঠেছে। পাটের নামে একটি মন্ত্রণালয় থাকলেও তাদের হাতে নেই পাটের উৎপাদন, উন্নয়ন গবেষণা, কারিগরি গবেষণাসহ পাটের বাজার ও অর্থনৈতিক গবেষণার কোনো কিছুই। ফলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট বিভাগের কাজ হচ্ছে শুধু বাজার থেকে উৎপাদিত পাট বা পাটজাত পণ্য কেনা এবং দেশে-বিদেশে তা বাজারজাত করা। এ মন্ত্রণালয়ের ঠুঁটো জগন্নাথ অবস্থায় ঝুঁকিতে পড়ছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পাটের বাজার। দেশে-বিদেশে পাটশিল্প ও পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের কাজ  এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধক সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাট খাত। পাট আইন-২০১৬ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে সংসদীয় কমিটির সামনে পাট খাতের এ দুর্দশার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সংসদীয় কমিটির কাছে পাটের উৎপাদন, উন্নয়ন গবেষণা, কারিগরি গবেষণাসহ পাটের বাজার ও অর্থনৈতিক গবেষণার পুরো বিষয়টি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত করার দাবি উঠছে। সংসদীয় কমিটি এতে সহমত পোষণ করলেও এক্ষেত্রে সমস্যা কৃষি মন্ত্রণালয়। কারণ অন্য ফসলের মতো পাটও একটি কৃষিজাত ফসল। পাট চাষ থেকে বাজার পর্যন্ত পুরো বিষয়টি শুরু থেকেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন। ফলে এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ে শুরু হয় টানাটানি। এ অকাম্য অবস্থার অবসানে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় এনে কীভাবে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাট কৃষিপণ্য হলেও এ বিষয়ে যেহেতু স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় রয়েছে সেহেতু পাট সম্পর্কিত সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব তাদের ওপরই থাকা উচিত।  বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে দুই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এমনটিই কাম্য।


আপনার মন্তব্য