শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৪

মদিনা শরিফের ফজিলত ও জিয়ারত

মুফতি মো. ওলিউল্লাহ পাটওয়ারী

মদিনা শরিফের ফজিলত ও জিয়ারত

যে ব্যক্তি হজে যায় বা আল্লাহ যাকে হজে মাবরুর (কবুল হজ) নসিব করেন, সে আমলি ময়দানে জিরো থেকে হিরো হয়ে যায়। হাজী তার হজের ওসিলায় পুণ্যভূমি মদিনা জিয়ারতে ধন্য হয়।  মদিনাকে আল্লাহ ছুবহানাহু ওতায়ালা আরদুল্লাহ্ (আল্লাহর ভূমি) বলে আখ্যায়িত করেছেন। মদিনার মাটি ধন্য হয়েছে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরণ স্পর্শে। এর আকাশে-বাতাসে মিশে আছে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের সুবাস। তিনি মদিনাকে এত বেশি ভালোবাসতেন যে, মদিনার ধুলাবালি তার মুখমণ্ডলে এসে পড়লে তিনি তা পরিষ্কার করতেন না। একজন হাজী তার হজের ওসিলায় যেমনিভাবে বায়তুল্লায় নামাজ পড়ে ধন্য হয় তেমনি মসজিদে নববীতে নামাজ পড়েও পরম তৃপ্তি লাভ করে। আর এগুলোর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি বায়তুল্লায় এক রাকাত নামাজ পড়বে সে এক লাখ রাকাত নামাজের সওয়াব লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি মসজিদের নববীতে এক রাকাত নামাজ পড়বে সে অন্য মসজিদে ৫০ হাজার রাকাত নামাজের সওয়াব লাভ করবে। রসুল (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি মসজিদে নববীতে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ এভাবে আদায় করবে যে, এর মাঝে কোনো নামাজ ছুটে না যায়, তাহলে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং মোনাফেকি থেকেও মুক্তি দেওয়া হবে। আর মদিনার সব থেকে বড় আকর্ষণ হচ্ছে রওজা শরিফের জিয়ারত। রসুলুল্লাহ (সা.) হাদিস শরিফে বলেছেন— যে ব্যক্তি হজ সম্পন্ন করল এবং আমার মৃত্যুর পর আমার কবর জিয়ারত করল সে যেন জীবদ্দশায়ই আমার জিয়ারত (সাক্ষাৎ) করল। তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করল আমার ওপর তার জন্য সুপারিশ করা ওয়াজিব হয়ে গেল। এ ছাড়া মদিনায় জিয়ারতে হাজীদের জন্য আরও একটি সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে দুনিয়ায় জীবিত থাকতে জান্নাতে ভ্রমণ। রসুলুল্লাহ (সা.) বুখারি শরিফে বলেছেন, আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী জায়গাটুকু জান্নাতের বাগান। আর আমার মিম্বর আমার হাউজে কাউছারের ওপর। সবুজ গালিচা বিছানো এ জায়গাটুকু মসজিদে নববীতে চিহ্নিত রয়েছে। হাজী সাহেবরা প্রতিযোগিতা করে সেখানে প্রবেশ করে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়ায় মশগুল থাকেন। এতসব ফজিলত একমাত্র হাজীরাই অর্জন করতে পারে। হজ নসিব হওয়া সৌভাগ্যবান হওয়ার আলামত। আল্লাহ যাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ফরজ ইবাদত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হজে মাবরুর নসিব করুন।  আমিন!

লেখক : খতিব, বাইতুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ওলি মার্কেট, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য