Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:২১

ক্যাসিনো থেকে হোয়াইট হাউস

নূরে আলম সিদ্দিকী

ক্যাসিনো থেকে হোয়াইট হাউস

ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ২৪০ বছরের ইতিহাসে সবচাইতে অনৈতিক ও চরিত্রহীন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এমন নৈতিকতাবিবর্জিত বর্ণবাদী উগ্র মুসলিমবিরোধী কোনো ক্যাসিনো ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট তো হয়ইনি, ওই পদের জন্য মনোনয়নও পায়নি। দুনিয়াজোড়া বামপন্থিরা আমেরিকা সম্পর্কে আগ্রাসন ও সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র বলে যত চিৎকারই করুক, আমেরিকা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি মধ্যপ্রহরের প্রদীপ্ত সূর্যরশ্মির মতো গণতন্ত্রের আলোয় উদ্ভাসিত রাষ্ট্র। আজকে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, বিক্ষুব্ধচিত্ত ও বিস্ময়াভিভূত ও আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাই এই ভেবে যে, রিপাবলিকান পার্টির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল দল এরকম একটি বিবেকবিবর্জিত কাণ্ডজ্ঞানহীন আনপ্রেডিক্টেবল ক্যাসিনো ব্যবসায়ীকে মনোনয়ন দিল কোন বিবেচনায়! রিপাবলিকান দলের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের কোনো সম্পর্কও ছিল না। রিপাবলিকান দল রক্ষণশীল হিসেবেই পরিচিত। বনেদি, আদি রক্ষণশীল অভিজাত শ্রেণি ও গোষ্ঠী; যারা তাদের আভিজাত্যের গৌরবে ও একটা ভিন্নস্তরের নাগরিক হিসেবে নিজেদের ভাবতে ভালোবাসেন, মূলত তারাই রিপাবলিকান দলের নীতিনির্ধারক। ট্রাম্প ক্যাসিনোর মালিক; বিগত নির্বাচনেও যিনি বারাক ওবামার নির্বাচনী ফান্ডে অর্থ জোগান দিয়েছিলেন এবং অতি অল্প দিন আগেই যিনি রিপাবলিকান দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের যৌবন থেকে শুরু করে প্রৌঢ়ত্ব পর্যন্ত চারিত্রিক অধঃপতন, দুশ্চরিত্রের প্রকট ও বীভৎস রূপের সঙ্গে রিপাবলিকানরা অপরিচিত ছিলেন বা তাদের কোনো ধারণা ছিল না— এটা বিশ্বাস করা যায় না।

আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদারস জর্জ ওয়াশিংটন, জন এডামস, থমাস জেফারসন, জেমস ম্যাডিসন, জন জে, আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন। এর  মধ্যে প্রথমোক্ত চারজন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের হাত ধরেই আমেরিকা একটা রাজনৈতিক নৈতিকতার ধারক এবং ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রের পাদপীঠে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব আব্রাহাম লিংকনও রিপাবলিকান দলের। সুকৌশলে গর্বাচেভকে কেজিবি প্রধান থাকাকালীন সিআই-এর এজেন্ট বানানোর সুচতুর কৌশলও রিপাবলিকান আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের। সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেওয়ার কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট নিক্সনের। তিনিও রিপাবলিকান। ২৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গৌরবকে ঘনঘোর অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো জুয়া ব্যবসায়ী, আত্মকেন্দ্রিক ও উদগ্র স্বার্থপর ব্যক্তির জাদুমন্ত্রে বশীভূত হয়ে রিপাবলিকানরা কেন তাদের ঐতিহ্য ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিস্মৃত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলেন, এটা আমার হিসাবে মেলে না। নির্বাচনের অপ্রত্যাশিত ফলাফল যখন আমি শুনলাম, তখন আমার মনে হলো, মোসাদের কাছে সিএনএন হেরে গেল। দুটি সংস্থাই ইহুদি নিয়ন্ত্রিত। শুধু সিএনএন নয়, ২৩০টি সংবাদমাধ্যম হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন জুগিয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনৈতিক কার্যকলাপের সচিত্র প্রমাণসহ আমেরিকার জনগণের সামনে বারবার তুলে ধরেছে। অনেক সংবাদমাধ্যম এবং তাদের প্রতিনিধি ও মুখপাত্ররা মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য একেবারেই যোগ্য নন।

এমনকি তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও তারা দেখেননি। রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস স্পিকার একই কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেননি। দুয়েকজন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছিলেন। বারবারা বুশ (সিনিয়র বুশের স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি) হিলারির নির্বাচনী ফান্ডে অর্থ সংগ্রহের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। জুনিয়র বুশের কন্যা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না। কারণ ট্রাম্পের উগ্র নারীবিদ্বেষী মানসিকতার প্রতিবাদ করা তার নৈতিক দায়িত্ব। এসব কারণে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মানুষেরই ধারণাটা বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল যে, হিলারি ক্লিনটনই আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।  অকস্মাৎ বজ্র পাতের মতো এফবিআইপ্রধান জেমস কোমি (ইসরায়েলের মোসাদ দ্বারা প্রভাবিত) একটি ঘোষণায় হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ আনলেন এবং দাবি করলেন— এসব ই-মেইলে আমেরিকার স্বার্থ ও গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে কিনা সেটি পর্যালোচনার জন্যই এফবিআই নতুন করে পর্যবেক্ষণ করে দেখছে। এটি ছিল হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় আঘাত এবং বিবৃতিটি জনমতের ওপর প্রভাব বিস্তারে মারাত্মক ভূমিকা রাখে। যদিও এফবিআই নির্বাচনের চার/পাঁচ দিন আগেই অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু ইতিমধ্যেই হিলারির জনপ্রিয়তার প্রচণ্ড ক্ষতিসাধিত হয়ে গেছে। কেননা, তখন অনেক জায়গায় আগাম ভোটপ্রদান চলছিল। 

 

 

পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জেনারেল রুজভেল্ট পরপর চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কারণে আমেরিকার শাসনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হয় যে, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন না। এরপর থেকে মোটামুটি একটা ধারাবাহিকতাও তৈরি হয়, একনাগাড়ে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার পর রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট গোষ্ঠীকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হয়েছে। হিলারির জন্য বিড়ম্বনার এটিও একটি কারণ। তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা দুই মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নিষ্ঠুর আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তিকে রিপাবলিকানদের মনোনয়ন দেওয়ার প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে আমি নির্বাচন প্রসঙ্গে যৎসামান্য আলোচনায় আসতে চাই।

আমেরিকা রাষ্ট্রটি অভিবাসী অধ্যুষিত। কিন্তু তারপরও ধারাবাহিকভাবে ২৪০ বছর ধরে যারা শ্বেতাঙ্গ ও প্রথম থেকে অভিবাসী, তারা নিজেদের এলিট মনে করেন। আমি আগেই বলেছি, অভিজাত রক্ষণশীলরাই রিপাবলিকানদের নীতিনির্ধারক। ডেমোক্রেটিক দলটি অপেক্ষাকৃত উদার, কৃষ্ণাঙ্গসহ সব অভিবাসী নাগরিকের সমঅধিকার ও আমেরিকায় সহাবস্থানে তারা বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে অভিজাত রিপাবলিকানরা এটিকে তাদের মর্যাদার জন্য হানিকর মনে করেন। তারা গোপনে গোপনে একাট্টা হয়ে গিয়েছিলেন হিলারির বিরুদ্ধে। ট্রাম্প উগ্র নারীবিদ্বেষী ও আত্মস্বার্থান্বেষী হলেও আমেরিকান মহিলা ভোটাররা তার বিরুদ্ধে একাট্টা হননি। ফলে হিলারি মাত্র ২% মহিলা ভোট বেশি পেয়েছেন। যেখানে ৮০% থেকে ৯০% মহিলা ভোট ডেমোক্রেটদের প্রত্যাশিত ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প নগ্ন ছবিতে অভিনয় করা থেকে শুরু করে জুয়া, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার খলনায়ক। এর আগে তার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ডেমোক্রেটরা তার কর প্রদানের আদ্যোপান্ত হিসাব জানতে চাইলে ধূর্ত ট্রাম্প কখনোই রাজি হননি। এই অপরাধটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যতটুকু তীব্র হওয়ার কথা ছিল, ভোটের ফলাফলে তা প্রতিফলিত হয়নি। অন্যদিকে ট্রাম্প আমেরিকার যুবসমাজকে একটি আকর্ষণীয় প্রলোভন দেখান যে, বিদেশে লগ্নিকৃত অর্থ প্রত্যাহার করে আমেরিকায় সেটা বিনিয়োগ করলে অনেক কর্মসংস্থান বাড়বে। নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প তা কতখানি করবেন বা করতে পারবেন, সেটি দেখার বিষয় হলেও বেকার তারুণ্যের একটা অংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করে।

এবার দুজন প্রার্থীর যোগ্যতার প্রসঙ্গে আসা যাক। ট্রাম্প অনৈতিক তো বটেই, অরাজনৈতিক ও নিছক অর্থলোলুপ একজন ব্যবসায়ী। তার মূল ব্যবসাটিও জুয়ার। অন্যদিকে হিলারি দুবারের ফার্স্টলেডি, নিউইয়র্কের মতো বিশাল রাজ্যের নির্বাচিত সিনেটর। সর্বশেষ তিনি বারাক ওবামার প্রথমবার রাষ্ট্রপতি মেয়াদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যেহেতু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত গুণাবলি বা রাজনৈতিক কর্মধারা তুলে ধরার মতো কিছুই ছিল না, ফলে ব্যক্তিগতভাবে হিলারিকে আক্রমণ করাকে তিনি কৌশল হিসেবে নেন। হিলারিকেও অতি পরিশীলিত ভাষায় তার জবাব দিতে হতো। রিপাবলিকানরা এটিকেও কাজে লাগায় এই বলে যে, দুই পক্ষের ব্যক্তিগত সমালোচনা ও কাদা ছোড়াছুড়ি ছাড়া এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নেই। ভোটারদের একাংশকে এ অপপ্রচারটিও প্রভাবান্বিত করেছে। হিলারিসহ ডেমোক্রেটিক ক্যাম্পে বিজয়ের প্রশ্নে মাত্রাতিরিক্ত আশাবাদ থাকায় হিলারির নির্বাচনী প্রচারণায় কিছুটা শৈথিল্য ছিল। হিলারি পেনসিলভেনিয়ায় যাননি। ফ্লোরিডায় যতটুকু জোর প্রচারণা দরকার ছিল সেটি করেননি। যে ছয়টি রিপাবলিকান অধ্যুষিত রাজ্যে বারাক ওবামা বিজয়ী হয়েছিলেন সেখানে হিলারি ক্লিনটন ইলেক্টোরাল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। বারাক ওবামার নির্বাচনী স্লোগান ছিল, yes, we can!  সেই তুলনায় হিলারির স্লোগান stronger together মারকাট্টা নয়। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গরা মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধার মতো করে যেভাবে ওবামার পক্ষে নেমেছিল, হিলারির ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। ট্রাম্পের বিজয়ের অন্য একটি কারণ, শিবসেনার পক্ষ থেকে তার নির্বাচনী ফান্ডে ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান, নরেন্দ্র মোদির টুইটার বার্তায় সরাসরি ট্রাম্পকে সমর্থন, মন্দিরে মন্দিরে ট্রাম্পের জন্য প্রার্থনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হিন্দু ও বৌদ্ধদের ট্রাম্পের পক্ষে প্রভাবিত করেছে। যদিও হিলারি পপুলার ভোটে ১০ লাখের অধিক ব্যবধানে বিজয়ী কিন্তু ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে যাওয়ার কারণে তিনি হোয়াইট হাউসের সিংহদ্বার পেরুতে পারলেন না।

আমেরিকার ২৪০ বছরের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এমন প্রচণ্ড বিক্ষোভ কখনো দেখা যায়নি। অভূতপূর্ব হলেও সত্য, বিক্ষোভের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫৮তলা ভবনটি আজকে বালির বস্তার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও ট্রাম্প তার নিজের এমনকি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি করছেন। তিনি নিজে নির্বাচিত হওয়ার পরে আতঙ্কিত হলেও তার দুষ্কর্মের পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছেন। মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের অভিলাষ প্রকাশ (যার নাম হবে ট্রাম্প প্রাচীর), মস্কোর সঙ্গে দহরম-মহরম, ন্যাটো ভেঙে দেওয়া এবং বিশ্ব পরিবেশ সুরক্ষায় সারা বিশ্বের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা বিশ্বমানবতাকে চমকে দিয়েছে। ট্রাম্পের এ ঔদ্ধত্য বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে। আমাদের ক্ষীণ আশা, রিপাবলিকানদের বিবেককেও তা নাড়া দেবে।

মুক্তবিশ্বের দুই শক্তিধর রাষ্ট্র জার্মানি ও ফ্রান্স এবং মুসলিম বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র ট্রাম্পের বিজয়কে অভিনন্দন জানায়নি। তা সত্ত্বেও ৯২ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান তড়িঘড়ি করে ট্রাম্পের বিজয়কে শুধু অভিনন্দনই জানাননি, অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে তাকে সস্ত্রীক বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।

ভারী অস্ত্র কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য বিগত ৬৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছে। এ অস্ত্র কারাখানাগুলোর বেশিরভাগেরই মালিক ইহুদিরা। এটা এ আশঙ্কার ইঙ্গিত বহন করে যে, শুধু আমেরিকার শেয়ারবাজার নয়, সারাবিশ্বের মানুষ আজ আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠিত এই ভেবে যে, উগ্র ট্রাম্প তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেন কি-না। আমি শতভাগ নিশ্চিত, বিশ্বের শান্তিকামী কোনো রাষ্ট্র বা মানুষই যুদ্ধ চান না। কারণ, যে কোনো যুদ্ধই মানবতাবিরোধী ও সভ্যতাবিধ্বংসী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সরাসরি অবলোকন করেছেন এমন মানুষ আজ হয়তো হাতে গোনা যাবে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীভৎসতা সম্পর্কে অবহিত বিশ্বের সব সচেতন মানুষ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েই ঘোষণা দিয়েছেন, Pakistan is my love ! ট্রাম্পের পূর্ব পুরুষরা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। ভয় হয়, তিনি কৌশলে যুদ্ধবাজ পাকিস্তানকে উসকে দিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ না বাধিয়ে দেন! উপসংহারে আমার ধারণা, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের উগ্রতার বিষয়টি ইতিমধ্যেই উপলব্ধি করেছেন। আশা করব, কোনো অঘটন ঘটানোর আগেই যত শিগগির সম্ভব তারা তার ইমপিচমেন্টের উদ্যোগটি গ্রহণ করবেন। যে জ্যোতিষী ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিনিও ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের ব্যাপারে নিশ্চিত।

     লেখক : স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা


আপনার মন্তব্য