শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধ

জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে

অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোল টেবিল বৈঠকে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে এমন একটি ওষুধ যা দিয়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসা করা হয়। এই ওষুধের প্রতি যখন ব্যাকটেরিয়া আর সংবেদনশীল থাকে না তখনই অ্যান্টিবায়োটিক ওই ব্যাকটেরিয়াটির বিরুদ্ধে অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে খুবই সাধারণ ইনফেকশন বা সংক্রমণের চিকিৎসাও জটিল হয়ে পড়ে। সারা বিশ্বে অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল ইউরোপেই প্রতি বছর ৩৩ হাজার মানুষ অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতার কারণে মৃত্যুবরণ করে। অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতাকে রোধ করা না গেলে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতার হার যদি বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে অতি সাধারণ রোগেও মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য সাধারণ ওষুধের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারেন না, যে কারণে তারা অনেক সময় নিজের অজান্তে এবং অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক প্রহণ করেন। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মুদি দোকানে পর্যন্ত ওষুধ বিক্রয় করা হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর জন্য প্রধানত দায়ী সাধারণ মানুষের অসচেতনতা। তাদের অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন।  স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ অনুযায়ী কোর্স সম্পন্ন না করে নিজেদের জন্য বিপদ ডেকে আনেন। অ্যান্টিবায়োটিক-মিশ্রিত পশুখাদ্য এবং পোলট্রি-ফিড গ্রহণকারী প্রাণীর মাংস খাওয়াও এক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করছে। এ বিপদ ঠেকাতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কেউ যাতে ব্যবহার না করেন সে ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। প্রচার মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণার উদ্যোগও নেওয়া দরকার। বিশেষত পোলট্রি ও পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের ঢালাও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নিতে হবে।


আপনার মন্তব্য