Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মার্চ, ২০১৯ ২২:৫৬

পরিশুদ্ধ আমলই নেক আমল

আল্লামা মাহ্মূদুল হাসান

পরিশুদ্ধ আমলই নেক আমল

হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) এক বুজুর্গের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি তার বাগানের দারোয়ানের স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হন। ফলে কৌশল করে দারোয়ানকে দূরে কোথাও কাজের জন্য পাঠিয়ে দেন। তারপর দারোয়ানের বাসায় ঢুকে তার স্ত্রীকে বললেন, সব দরজা-জানালা বন্ধ করে এসো, কাজ আছে। দারোয়ানের স্ত্রী মালিকের মতলব বুঝে ফেলল। যা হোক দরজা-জানালা বন্ধ করে এসে হাজির হলো। মালিক জিজ্ঞাসা করলেন, সব দরজা বন্ধ করছ? সে বলল হ্যাঁ, একটি দরজা ছাড়া সব বন্ধ করেছি। মালিক বললেন, সেটাও বন্ধ করে এসো। দারোয়ানের স্ত্রী বলল, সেটা বন্ধ করতে পারি না। মালিক বললেন, সে আবার কোন দরজা? দারোয়ানের স্ত্রী বলল, যে দরজা দিয়ে আল্লাহ তাকিয়ে আছেন সেই দরজা বন্ধ করতে পারি না। মহিলার কথা শুনে মালিকের মনে ঝড় বয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সিজদায় পড়ে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও তওবা করতে শুরু করে দিলেন। এ ধরনের হাজারো ঘটনা রয়েছে। এখান থেকে বুঝে আসে, শুদ্ধ আমল মানুষকে গোনাহ থেকে বিরত রাখে। আমাদের বুঝে আসে না, আমরা নামাজ পড়ি, অন্যান্য নেক আমলও করি, সঙ্গে সঙ্গে গোনাহও করি কেন? সাহাবায়ে কিরাম নামাজ পড়তেন আমরাও নামাজ পড়ি। তাদের নামাজকে আল্লাহ আমাদের জন্য মাপকাঠি বানিয়েছেন। এখন বলুন, আমাদের নামাজ কি তাদের নামাজের মতো হয়? না হওয়ার একটি কারণ হলো আমরা চেষ্টা করেও তাদের মতো পারি না। তখন আল্লাহর ফয়সালা হলো, ‘চেষ্টা করেও যখন তোমরা সক্ষম হও না তখন আমি তোমাদের পরিপূর্ণ সওয়াব দান করব। কিন্তু অবহেলা ও অলসতার কারণে যদি তোমাদের নামাজ পরিশুদ্ধ না হয়, তাহলে এর  বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। দুনিয়ায় বিভিন্ন বালামুসিবত আসবে আর আখেরাতের মুসিবত তো পরে আসবেই।’ আমি নামাজ পড়ছি আবার আমার দ্বারা গোনাহও হচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে আমার নামাজ পরিশুদ্ধ হচ্ছে না। আলেমদের কাছে গিয়ে প্র্যাকটিকাল অনুশীলন করা উচিত। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

মোট কথা, পরিশুদ্ধ আমল করতে হবে, পরিশুদ্ধ আমলকেই নেক আমল বলে। যে আমল ইখলাস ও সুন্নত মোতাবেক হয় সেটাই নেক আমল। আমি বলি পরিশুদ্ধ হওয়াটা হলো আমলের জন্য রুকন। যেমন নামাজের মধ্যে রুকু, সিজদা, কিরাত রুকন। এগুলো ছুটে যাওয়ার পর সোহো সিজদা দিলেও নামাজ হবে না। ঠিক আমলেরও দুটি রুকন আছে। তা হলো, ইখলাস ও সুন্নত। যে কোনো আমল ইখলাসপূর্ণ ও সুন্নত মোতাবেক হতে হবে। কোনো আমলে এ দুটি না থাকলে ফলও উল্টো হবে। কিয়ামতের দিন আমল শুদ্ধ না অশুদ্ধ, ইমানওয়ালা না কুফরওয়ালা- এগুলো যাচাই করা হবে। সেজন্য একটি দিন নির্ধারণ করেছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে তার কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে। হয়তো পুরস্কৃত হবে, নয় তো সাজাপ্রাপ্ত হবে।  এর কোনো বিকল্প নেই। আমল ভালো হলে পুরস্কৃত হবে, অনন্তকাল জান্নাতে থাকবে; আর মন্দ হলে সাজাপ্রাপ্ত হবে।

            লেখক : খতিব গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ।


আপনার মন্তব্য