শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৫

স্কুলভবনে বসতবাড়ি

চার যুগ ধরে চলছে এ নৈরাজ্য

স্কুলভবনে বসতবাড়ি

দেশের প্রত্যন্ত কোনো এলাকা নয়, রাজধানীতেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে বসতবাড়ি বজায় রাখার নৈরাজ্য চলছে প্রায় চার যুগ ধরে। শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮। এর মধ্যে নিয়মিত উপস্থিত হয় দুই থেকে তিনজন শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘর দখল করে সেখানে থাকছে অন্তত আটটি পরিবার। পুরান ঢাকার প্যারিদাস রোডের এই স্কুলের বেশির ভাগ অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ বসবাস করছেন স্কুলের জমিদাতা জগদীশ চন্দ্র দাসের নাতি কমল চন্দ্র দাস। তারা স্কুলের ক্লাসরুমেও ইচ্ছামতো থাকা শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে এক ঘরেই নিতে হয় পাঁচটি ক্লাস। বিদ্যালয়টিতে নেই শৌচাগার ও খাওয়ার পানির ব্যবস্থা। বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা বাড়িটিতে সব মিলে রুম আছে ১০টি। মূল সড়কের পাশে প্রথম ঘরটি ছাড়া বাকিগুলো বেদখলে। স্কুলে শিক্ষকদের বসার রুমও নেই। একটি ঘরে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য আছে ছয়টি টেবিল ও বেঞ্চ। আবার ওই রুমের মধ্য দিয়েই আসা-যাওয়া করেন ভিতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা। বিদ্যালয়ের জমিদাতা জগদীশ চন্দ্র দাস স্থানীয় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য নিজের বাড়িতেই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার নাতির ভাষ্য, ব্রিটিশ আমলে পাঠশালার মতো করে তাদের বাড়িতে স্কুলটি চলছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর সব প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণার মধ্যে এটিকেও ১৯৭৩ সালে সরকারি করা হয়। কিন্তু তাদের থাকার মতো বাড়ি না থাকায় তিনি ও তার দুই ভাই এবং তাদের এক পিসি সরকারি এ স্কুলের একাংশে বসবাস করছেন। বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় চার যুগ ধরে বসতবাড়ির অবস্থান আমাদের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার হতশ্রী অবস্থারই একটি খণ্ডচিত্র। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় আমরা আশা করব এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক সমাধান অচিরেই পাওয়া যাবে। তবে এ ঘটনা প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের দায়িত্ববোধ নিয়ে বড়

মাপে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে তারা দায়িত্ববোধের পরিচয় দিলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে যে প্রহসন বছরের পর বছর ধরে রাজধানীতে অভিনীত হচ্ছে, সেই বিরক্তিকর অধ্যায়ের ইতি ঘটানো সম্ভব হতো।

 


আপনার মন্তব্য