শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০১৯ ২৩:১৭

প্রশংসনীয় প্রজ্ঞাপন

ব্যাংকগুলোর সুমতি ফিরুক

প্রশংসনীয় প্রজ্ঞাপন

ব্যাংকের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সরকার শেষ পর্যন্ত জুতসই পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংক ঋণের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে ব্যর্থ হবে সেসব ব্যাংকে এডিপির অর্থ জমা রাখা হবে না। স্মর্তব্য, গত বছরের ২ মে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে ব্যাংক মালিকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনবেন। কিন্তু সরকারি ব্যাংক ছাড়া বেশির ভাগ ব্যাংক এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। এর আগে গত বছরের ১ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবসায় নিয়োজিত বেসরকারি ব্যাংকগুলো অথবা ১৪টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফ) অথবা উভয় ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এডিপির আওতায় সরকার থেকে প্রাপ্ত তহবিলের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমানত হিসেবে জমা রাখা যাবে। ব্যাংকগুলোকে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল ঋণের সুদহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা যাতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয় তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা অর্থমন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েও তা রক্ষা করেননি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২ মের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যেসব ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে ব্যর্থ হবে সেসব ব্যাংকে এডিপির আওতাধীন সরকারি তহবিলের অর্থ জমা রাখা হবে না। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী এডিপির অর্থ আমানত হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬ শতাংশ সুদে গচ্ছিত রাখা হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বেপরোয়া ব্যাংকগুলোকে প্রতিশ্রুতি পালনে বাধ্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ সরকারি অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা বন্ধ হলে তাদের ঋণদানের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়বে। সরকারের প্রজ্ঞাপনটি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে স্বস্তিদায়ক খবর হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছে ব্যাংক ঋণের সুদের উচ্চহার। দুনিয়ার কোনো দেশে এত উচ্চহারের সুদ গুনতে হয় না ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে। ব্যাংক ঋণের সুদহার হ্রাস পেলে তা বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাবে। বৃদ্ধি পাবে কর্মসংস্থানের হার।

 

 


আপনার মন্তব্য