Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুন, ২০১৯ ২২:২৯

গবেষণা সংকট

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মাহাত্ম্য হারাচ্ছে

গবেষণা সংকট

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নামের মাহাত্ম্য হারাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য গবেষণার সুযোগ থাকবে এমনটিই আশা করা হয়। কিন্তু দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার সুযোগ নেই বললেই চলে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা তো না বলাই ভালো। এগুলো স্থাপনের ঘোষিত উদ্দেশ্য যা-ই থাক, মূল উদ্দেশ্য যেভাবেই হোক অর্থ উপার্জন করা। শিক্ষাকে বাণিজ্য হিসেবেই দেখেন বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা। বাংলাদেশ প্রতিদিনের শীর্ষ প্রতিবেদনেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মৌলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কাজ হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ খাতে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এক-চতুর্থাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণাই হচ্ছে না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজ হচ্ছে তা মানসম্মত না হওয়ায় এর ৯০ ভাগের বেশি ছাপার সুযোগ পাচ্ছে না আন্তর্জাতিক জার্নালে। এজন্য বরাদ্দ কম থাকার অভিযোগ করলেও যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তাও খরচ করতে পারছে না অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। মৌলিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা কমে যাওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে দেশের উচ্চশিক্ষা। গবেষণা প্রকল্প প্রদানে স্বজনপ্রীতি, ভালো ল্যাব না থাকা, গবেষণার বরাদ্দে অপ্রতুলতা, ভালো গবেষণার স্বীকৃতি না পাওয়া, পদোন্নতিতে গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য দেওয়ায় মেধাবী শিক্ষকরা গবেষণাবিমুখ হচ্ছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত ডিগ্রিদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা আরও নাজুক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যানুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেট অনুমোদন করা হয় ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়ন বাজেট ৫ হাজার ৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গবেষণা বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা যা অনুন্নয়ন বাজেটের ১.২৬ শতাংশ। গবেষণার জন্য প্রতি বছরই আগের বছরের চেয়ে বরাদ্দ কমছে। কর্তৃপক্ষের কাছে গবেষণা যে গুরুত্ব হারাচ্ছে নগণ্য বরাদ্দ তারই প্রমাণ। শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য একসময় গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের কৃতিত্বকে গুরুত্বের চোখে দেখা হতো। এখন তার বদলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা গুরুত্ব পাওয়ায় শিক্ষকরা রাজনীতিতেই বেশি ব্যস্ত থাকছেন। ফলে সর্বনাশের কিনারে ধাবিত হচ্ছে দেশের উচ্চশিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো। এ প্রবণতায় বাদ সাধা জরুরি।


আপনার মন্তব্য