শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৯ ২৩:১৭

সময়োপযোগী আহ্বান

অর্থনৈতিক কূটনীতি হোক পাথেয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার লন্ডনের একটি হোটেলে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান সময়োপযোগী ও তাৎপর্যের দাবিদার। দেশের কূটনীতিকরা প্রথাসিদ্ধভাবে এত দিন রাজনৈতিক কূটনীতিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান ঘটায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কূটনীতির লক্ষ্য বিদেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো, জনশক্তির বাজার সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও নিবিড় হয়। অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছেন। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর প্রয়াস চালাতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ কর্মস্থলে বিভিন্ন দেশের বাজার পরিবীক্ষণ করে সে দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বাধাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শও দিয়েছেন। বাংলাদেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে- এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসে কর্মরত কূটনীতিকদের এ লক্ষ্য অনুসরণে তাদেরও নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজনে দ্রুত এবং উন্নত সেবা প্রদানের জন্যও কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে বলেছেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করাকে লক্ষ্য হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেসব দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়, যেসব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশি। এদিক থেকে যেহেতু বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, সেহেতু অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা হলে বিনিয়োগ আকর্ষণে কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

 


আপনার মন্তব্য