শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৩

সমুদ্রসম্পদ আহরণ

বড় আকারের ট্রলার নির্মাণের উদ্যোগ নিন

সমুদ্রসম্পদ আহরণ

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ৯০ শতাংশই ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। সমুদ্রসীমার প্রধান সম্পদ মাছ আহরণেও রয়েছে উদ্যোগের ঘাটতি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, গভীর সমুদ্রসীমায় মাছ ধরার মতো বড় কোনো নৌযান বাংলাদেশের নেই। অথচ বাংলাদেশ ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য গভীর সমুদ্রসীমায় মাছ ধরার উপযোগী নৌযান তৈরি করছে। নরওয়ে বাংলাদেশ থেকে ২০০০ টনের বেশি ধারণক্ষমতার ট্রলার আমদানি করছে। কিন্তু যে দেশটি এই জাহাজ তৈরি করে দিচ্ছে, তার নিজেরই সেই মানের জাহাজ নেই। যেখানে উন্নত বিশ্বে মাছ ধরার কাজে ২ হাজার মেট্রিক টন বা তারও বেশি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মাছ ধরার নৌযান ব্যবহার করা হয়, সেখানে বাংলাদেশের এ ধরনের নৌযানের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৩০০ মেট্রিক টন। এত ছোট নৌযান দিয়ে গভীর সমুদ্রের সম্পদ আহরণ সম্ভব নয়। বড় নৌযান না থাকায় বাংলাদেশের অর্জিত সমুদ্রসীমার শতকরা মাত্র ১০ ভাগ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। ৯০ ভাগ ব্যবহার করা যাচ্ছে না নৌযানের অভাবসহ অন্য সীমাবদ্ধতার কারণে। সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ নির্মাণ খসড়া নীতিমালার ভূমিকায় বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ৬৬৪ কিমি। এর মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৬০ কিমি এলাকা। কারণ সাগরের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা ও কনটিনেন্টাল সেলফ এলাকায় মাছ শিকার কিংবা অর্থনৈতিক ব্যবহারের সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি।’ বর্তমানে দেশে নৌযান তৈরিতে ২০টি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ১০০টি স্থানীয় মানের শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিপইয়ার্ডগুলো বছরে ১০০ জাহাজ তৈরি করতে পারে। দেশে বর্তমানে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের জাহাজও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো পড়ে আছে ৩০০ মেট্রিক টনের মাছ ধরার নৌযান নিয়েই; যা দিয়ে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিমি গভীর সমুদ্র পর্যন্ত মৎস্যসম্পদ আহরণ করা যায়। সমুদ্রসীমার পুরো অংশে মাছ ধরা সম্ভব হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি অন্তত ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে। দেশে যেহেতু উন্নতমানের নৌযান তৈরির সুযোগ রয়েছে সেহেতু এ ক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে।


আপনার মন্তব্য