শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৭

শাবান মাসের তাৎপর্য ও আমল

যুবায়ের আহমাদ

শাবান মাসের তাৎপর্য ও আমল

হিজরি বর্ষের অষ্টম মাস ‘শাবান’ বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ।

রজব ও রমজানের মাঝখানের এ মাসটিকে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুবই গুরুত্ব দিতেন। উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একদিন আমি রসুলুল্লাহকে শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, লোকেরা রজব ও রমজান এ দুই মাসের মধ্যবর্তী এ মাসটিকে উপেক্ষা করে চলে। অথচ এ মাসেই বান্দার আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হয়।’ মুসনাদে আহমাদ। শাবান পেরিয়েই মুসলমানদের কাছে রহমত, বরকত আর অবারিত মাগফিরাতের বারতা নিয়ে হাজির হয় মাহে রমজান। তাই শাবান এলো মানেই আমাদের জন্য শুরু হয়ে গেল রমজানের প্রস্তুতিমূলক নানা ব্যস্ততা। বিশেষ কিছু আমলের মধ্য দিয়ে রমজানের জন্য এ মাসে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি। এক. নফল রোজা রাখা : শাবান মাসের শেষের কয়েকদিন ছাড়া প্রায় মাসজুড়েই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নফল রেজা রাখতেন। নফল রোজার মধ্যে শাবানের রোজা ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মাসগুলোর মধ্যে রসুলুল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিল শাবান মাসে রোজা রাখা, অতঃপর রমজানে উপনীত হওয়া।’ বায়হাকি।

অন্য হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা রাখতেন এমনকি আমরা মনে করতাম তিনি আর রোজা ভাঙবেন না। আবার তিনি রোজা রাখতেন না এমনকি আমরা মনে করতাম তিনি আর রোজা রাখবেন না। আমি তাঁকে রমজান ছাড়া আর কোনো সময় পূর্ণ মাসব্যাপী রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে বেশি রোজাও অন্য কোনো মাসে রাখতে দেখিনি।’ বুখারি, মুসলিম। নফল রোজার মধ্যে শাবানের রোজা বেশি ফজিলতপূর্ণ বলেও বর্ণিত হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রসুল! কোন রোজার ফজিলত বেশি? উত্তরে তিনি বললেন, রমজান মাসের সম্মানার্থে শাবান মাসে পালনকৃত রোজার ফজিলত বেশি।’ বায়হাকি। রমজানের রোজার শক্তি সঞ্চারে শাবানের শেষ কয়েকদিন নফল রোজা ছেড়ে দিয়ে বাকি পুরো মাস রোজা রাখতে পারি আমরা।

দুই. রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ : দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসেই রোজা ফরজ হওয়াসংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়। শাবানের আমলগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া। রমজান যেহেতু খাওয়ার মাস নয়, বরং দিনের বেলা না খেয়ে থাকার মাস তাই রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ মানে এক মাসের খাদ্যদ্রব্য মজুদ করা নয়। কোরআনে নিষিদ্ধ জিনিসগুলোকে ‘না’ বলে সেগুলো ত্যাগ করা এবং নির্দেশিত বিষয়গুলোর চর্চার প্রশিক্ষণেরও এক মহাসুযোগ রমজান। কীভাবে আমি গুনাহের কাজ ত্যাগ করতে পারব, বেশি সওয়াব অর্জন করতে পারব সে প্রস্তুতি ভালোভাবে প্রত্যেক মুসলমানের নেওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন।

লেখক :  খতিব, বাইতুশ শফীক মসজিদ, বোর্ডবাজার, গাজীপুর।


আপনার মন্তব্য