শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জুন, ২০২০ ২৩:২১

আত্মহত্যা নয় ধৈর্য ধরতে বলে ইসলাম

মাহমুদুল হক জালীস

আত্মহত্যা নয় ধৈর্য ধরতে বলে ইসলাম

বর্তমান সময় আত্মহত্যা একটি ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। মাঝে মধ্যেই পত্রিকার পাতায় টেলিভিশনের খবরে আত্মহত্যার সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা যায়। মানুষ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে বেছে নেয় আত্মহননের মতো দুর্ভাগ্যজনক পথ। জীবনের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমায় পরপারে। শেষ করে দেয় নিজের জীবন নিজের হাতেই। ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যার কোনো স্থান নেই। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আত্মহত্যা কর না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর যে কেউ সীমা লঙ্ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে খুব শিগগিরই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজসাধ্য। সূরা আন নিসা, আয়াত : ২৯, ৩০।

এই আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয়, আত্মহত্যা মহাপাপ। এর মাধ্যমে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে। ইসলাম তাকে সমর্থন করে না। বেঁচে থাকতে বলে। এভাবে নিজের জীবনকে আত্মহত্যার মাধ্যমে ধ্বংস করা থেকে নিষেধ করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না’। সূরা আল বাকারা, আয়াত : ১৯৫। গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের সমাজে আত্মহত্যা নানাবিধ কারণে ঘটে থাকে। কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া-বিবাদ, মা-বাবা ও ছেলেমেয়েদের মাঝে মনোমালিন্য, পরীক্ষায় অকৃতকার্য, প্রেম-ভালোবাসায় বিরহ, ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি ও ব্যর্থতাসহ অনেক কারণে আত্মহত্যার মতো জঘন্য পথ বেঁচে নেয় মানুষ। এ ছাড়া যখন কোনো ব্যক্তির জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক ও উপলব্ধি শক্তি লোপ পায়, অথবা কোনো কারণে নিজেকে অসহায়-ভরসাহীন মনে হয়, তখনো ধর্ম-কর্ম ভুলে মানুষ আত্মহত্যা করে বসে। দুনিয়ার জীবনের দুঃখ-কষ্ট, লাঞ্ছনা ও অপমানকে দূর করতে চায় মৃত্যুর মাধ্যমে। অথচ এটা সর্বনিকৃষ্ট কাজ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষপান করতে থাকবে। আর যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ বুখারি ও মুসলিম। আত্মহত্যার শাস্তি ঘোষণা করতে গিয়ে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যেই জিনিস দ্বারা আত্মহত্যা করে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই জিনিস দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে, সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে, সে দোজখেও সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে।’ তিরমিজি। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘একজন ব্যক্তি জখম হলে, সে (অধৈর্য হয়ে) আত্মহত্যা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ বললেন, আমার বান্দা আমার নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজের জীবনের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমি তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিলাম। বুখারি।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য