শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১০ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মে, ২০২১ ২২:৫৭

করোনার বিপজ্জনক গোত্র

স্বাস্থ্যবিধি মান্যতায় কঠোর হতে হবে

Google News

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য সাক্ষাৎ হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভারতীয় ধরনের করোনাভাইরাস। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের যেসব বিপজ্জনক ভেরিয়েন্ট বা ধরন থাবা বিস্তার করেছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ। ভারতে এখন প্রতিদিন করোনার থাবায় মারা যাচ্ছেন চার হাজারের বেশি লোক। বিশেষজ্ঞদের ধারণা প্রকৃত মৃত্যুর হার এর দ্বিগুণ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ করোনা শনাক্তের পর কারও মৃত্যু হলে সেটিই কেবল হিসাবের মধ্যে আসে। এটি ভারত বাংলাদেশের মতো পশ্চাৎপদ দেশের জন্য যেমন সত্যি তেমন সত্যি যুক্তরাষ্ট্রের মতো সবচেয়ে উন্নত দেশের জন্যও। বাংলাদেশে ভারতীয় ধরনের করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ভারত থেকে যশোরের বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে আসা আটজনের নমুনা পরীক্ষায় ছয়জনের শরীরে ভেরিয়েন্ট শনাক্তের তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অতিদ্রুত সংক্রামক এ ভাইরাস শনাক্তে জিনোম সিকোয়েন্সিং ও সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্টের আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭। মিউটেশনের কারণে এর তিনটি সাব টাইপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া গেছে বি.১.৬১৭.২ ভেরিয়েন্টটি। ভারতে প্রথম এ মিউট্যান্ট শনাক্ত হয়েছিল বলে একে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট বলা হয়। ইতিমধ্যে প্রায় ১৭টি দেশে করোনাভাইরাসের এ ভেরিয়েন্টটি পৌঁছে গেছে, তাতে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ভাইরাসের ভারতীয় তিনটি ভেরিয়েন্টের মধ্যে বি.১.৬১৭.২টি অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শঙ্কা সৃষ্টি করেছে মহামারী রোধে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা এবং আন্তজেলা পরিবহন বন্ধ রাখার পরও তা লঙ্ঘন করে লাখ লাখ মানুষের গাদাগাদি করে বিভিন্ন পরিবহনে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার ঘটনায়। বিপদ উত্তরণে সরকারের উচিত শুধু লকডাউন ঘোষণা নয়, তার বাস্তবায়নে আরও কঠোর হওয়া, স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের যে কোনো ঘটনাকে আইনের আওতায় আনা।