শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:১০

ভ্রাতৃত্বচর্চায় আলোকিত জীবন

মাওলানা মাহমূদ হাসান তাসনীম

ভ্রাতৃত্বচর্চায় আলোকিত জীবন
Google News

মোমিনদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক ইমানের দাবি। আল্লাহতায়ালা কর্তৃক মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলামে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে সব মোমিন ভাই ভাই। স্বয়ং আল্লাহ নিজেই আল কোরআনে এ ভ্রাতৃত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। ইরশাদ করেছেন, ‘মোমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ সুরা হুজুরাত।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির ক্ষেত্রে মোমিনদের দৃষ্টান্ত এক দেহের মতো, যার একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে গোটা দেহ জ্বর ও অনিদ্রায় আক্রান্ত হয়।’ বুখারি, মুসলিম।

ভ্রাতৃত্বের এ শিক্ষা ছড়িয়ে আছে মোমিনের কদমে কদমে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে প্রতিদিনই সে উপস্থিত হয় মসজিদে। ধনী-গরিব, আপন-পরের সব ভেদাভেদ ভুলে দৈনিক পাঁচবার একই কাতারে করোনা মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়। অনুরূপ শিক্ষা পাওয়া যায় জুমার নামাজে, ঈদের উৎসবে এবং হজের ময়দানে। লাখ লাখ মুসলমান গায়ে দুটি সাদা চাদর জড়িয়ে, বুকে এক লক্ষ্য, মুখে এক উচ্চারণ নিয়ে এক প্রভুর আহ্‌বানে হাজির হয়। ঈদুল আজহায় ভ্রাতৃত্ব রক্ষার ধরনটা অপূর্ব। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা কোরবানি করে। এরপর এর কিছু অংশ নিজের ঘরে রেখে কিছু বিলিয়ে দেয় আত্মীয়স্বজন আর পড়শিদের মাঝে, আর কিছু দেয় গরিব ও অসচ্ছলদের, যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য ছিল না। ফলে সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও ঈদ ও কোরবানির আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয় না তারা। এভাবেই পূর্ণ হয় ইমানি ভ্রাতৃত্বের দাবি।

মদিনায় হিজরতের পর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসার আর মুহাজির সাহাবিদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন। প্রিয় নবীর হাতে গড়ে দেওয়া ভ্রাতৃত্বের এ বন্ধনকে আনসার সাহাবিরা এতটাই সাদরে গ্রহণ করেছিলেন যে তারা তাদের মুহাজির ভাইদের নিজেদের ঘরে আশ্রয় দেন, নিজেদের সম্পদে অংশীদার বানান, এমনকি কেউ কেউ তো নিজের একাধিক স্ত্রীর কাউকে তালাক দিয়ে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলেন। ইমানি এ ভ্রাতৃত্ব কীভাবে রক্ষা করতে হবে সেজন্যও রয়েছে ইসলামের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা। নির্ধারণ করা হয়েছে মোমিনদের জন্য বেশ কিছু হক। যেমন এক হাদিসে আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা কোরো না, একে অন্যকে ধোঁকা দিও না, বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, একজন আরেকজনের পেছনে লেগে থেক না, একজনের বিক্রির সময় আরেকজন আগে বেড়ে বিক্রি করতে যেও না, বরং সবাই আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও, ভাই ভাই হয়ে যাও। মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তাকে জুলুম করতে পারে না, তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না, তাকে তাচ্ছিল্য করতে পারে না। তাকওয়া তো এখানেই- নিজ বুকের দিকে ইশারা করে তিনি তিনবার এ কথা বলেন। এরপর বলেন, একজন মানুষের অন্যায় হিসেবে এতটুকুই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় ও তাচ্ছিল্য করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই অন্য মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান হারাম।’ মুসলিম।

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক।