শিরোনাম
শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু

প্রশংসনীয় উদ্যোগ সুচারুরূপে বাস্তবায়ন হোক

বায়োমেট্রিক হলো মানুষের অপরিবর্তনীয় দৈহিক বা আচরণের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যবহার করে তার পরিচিতি নির্ধারণ পদ্ধতি। আঙুল, হাত, পা, মুখ, চোখ, কান, দাঁত, রগ, স্বর, স্বাক্ষর, চলাফেরা এ বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তবে আঙুলের ছাপ, চোখ এবং মুখের অবয়বকে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের সরকারগুলো বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রলোভনে পড়ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ করে আধুনিক রাষ্ট্রগুলোয় এ পদ্ধতি হয়তো অনিবার্য। বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতিগুলো মানুষের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য তাদের আঙুলের বা হাতের ছাপ, মুখমন্ডল, কণ্ঠস্বর, কনীনিকা, শিরার মানচিত্র এমনকি মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো ব্যবহার করে। পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাই এবং নিরাপত্তার হুমকি শনাক্ত করতে বিভিন্ন দেশ এ প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। প্রকৃত আসামি শনাক্ত করতে দেশের সব কারাগার ও থানায় ক্রমান্বয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তিনটি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলেছে। সেগুলো হলো- বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সব থানায় আসামির হাতের আঙুল ও তালুর ছাপ, চোখের মণি, বায়োমেট্রিক পদ্ধতির প্রচলন। গ্রেফতারের পর আসামির সম্পূর্ণ মুখের ছবি ধারণ ও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ এবং দেশের সব কারাগারে আঙুল ও হাতের তালুর ছাপ, চোখের মণি সংরক্ষণের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ সিস্টেম চালু করা। তবে এ প্রযুক্তিগুলোর ঝুঁকির বিষয়টি কারোরই ছোট করে দেখা উচিত হবে না। আঙুল বা চোখের মণির ছাপ নেওয়ার সময় ত্রুটিপূর্ণ হলে ভবিষ্যতে যাচাইয়ের সময় এসব ছাপ মেলে না। এ ছাড়া দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে যেসব শ্রমিক কাজ করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আঙুলের ছাপ পরিবর্তিত হতে পারে। তখন রেকর্ড করা ছাপের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। তার পরও প্রশংসনীয় এ উদ্যোগ যেন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।