শিরোনাম
রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আশা জাগানিয়া

দুর্নীতি এক বিষবৃক্ষের নাম, যার ছায়া মাড়ালেই মানুষ বিষে আক্রান্ত হয়। ক্যান্সারের সঙ্গেও তুলনা করা হয় দুর্নীতিকে। যা দেহে বাসা বাঁধলে সর্বনাশ অনিবার্য হয়ে ওঠে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, আমাদের এ ভূখন্ডে সুনীতি উপেক্ষিত শত শত বছর ধরে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে দুর্নীতি হয়ে ওঠে সবকিছুর নিয়ন্তা। পাকিস্তানি বর্বর শাসনামলে বাংলাদেশকে শোষণ তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় এবং এ দুর্নীতির অপপ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় স্তরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩ বছর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরপর তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের কৃতিত্বও দেখিয়েছেন তিনি। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের তৃতীয় বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া টিভি ও বেতার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দুর্নীতিবাজ যে দলের আর যত শক্তিশালীই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং হবে না। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এ ব্যাধি দূর করতে সামাজিক সচেতনতা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ করেছেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করাকে তাঁর সরকার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলেই মনে করে। ‘গত ১৩ বছরে আমরা দেশবাসীর জন্য কী কী করেছি তা জনগণই মূল্যায়ন করবে’। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলতে পারেন তাঁরা তাঁদের ওয়াদা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সরকারের বিগত ১৩ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাৎপর্যের দাবিদার। বর্তমান সরকারের ১৩ বছরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশ তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সে তুলনায় সাফল্য কম। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি সত্ত্বেও সরিষার মধ্যে ভূত থাকায় কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জিত হচ্ছে না। সরকারের বাকি দুই বছরে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে এমনটিই প্রত্যাশিত।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর