আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে আজ বুধবার সারাদিন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠে মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হয়।
এদিন সকাল ১১টায় নিজে মক ভোট দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
উদ্বোধনের পর অসংখ্য নারী-পুরুষ উৎসবমুখর পরিবেশে পৃথক দুটি লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত মক ভোট প্রদান করেন। আসল নির্বাচনের মতোই এখানে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট, ব্যালট সবকিছুই ছিল।
মক ভোট প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এবার সংসদ নির্বাচনের সাথে গণভোট হচ্ছে। কিন্তু গণভোট সম্পর্কে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকাতে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসেমব্লিতে শিক্ষকরা গণভোট সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করছেন ও তাদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকরা গণভোট সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন।
এছাড়া জেলার ১২ হাজার মসজিদে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। জুম্মার নামাজের খুতবার আগে ইমাম সাহেবরা গণভোট সম্পর্কে মুসল্লিদের ধারণা দিচ্ছেন।
এর বাইরে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে গণভোট সম্পর্কে প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মক ভোটিংসহ এ ধরণের প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।
রাজগঞ্জ এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হবে শুনে কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলাম। মক ভোটিংয়ে অংশ নিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার হয়েছে। ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়নি’।
ঝাঁপা গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গণভোট কখনও দিইনি, তারপরও টিক চিহ্ন দিয়ে খুব সহজেই গণভোট দিলাম’। একই এলাকার সুমন নামের এক যুবক বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে ভোটের আয়োজন হচ্ছে। যারা সংস্কার চান, তারা হ্যাঁ, যারা চান না তারা ‘না’ চিহ্নে টিক দেবে। খুবই সহজ। ভোটের আগে বিভিন্ন এলাকায় এ ধরণের মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা উচিৎ’।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ