Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৪

সুস্থ শিল্প বিকাশে শিল্পকলা একাডেমির ভূমিকা

কীভাবে কাজ করবে শিল্পকলা একাডেমি

কীভাবে কাজ করবে শিল্পকলা একাডেমি
দেশের শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার ধারক-বাহক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। শহরের বাইরে সংস্কৃতি বিনিময়ের সুযোগও কম। কীভাবে এ অঙ্গনকে জাগিয়ে তোলা যায়, এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- পান্থ আফজাল

 

প্রধান কেন্দ্রগুলোতে দরকার অডিটোরিয়াম : ড. ইনামুল হক

যারা বর্তমান সময়ে থিয়েটার করছে তাদের আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি নেই। তবে দর্শকদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার। ঢাকা, বিভাগীয় শহর এবং জেলাগুলোতে মঞ্চের জন্য আরও হল বাড়ানো দরকার। ঢাকার আশপাশের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে দরকার অডিটোরিয়াম। প্রত্যেক অঞ্চলকে সংস্কৃতিবান্ধব করে গড়ে তোলা সময়ের চাহিদা। কেউ এককভাবে কোনো কিছুর পরিবর্তন আনতে পারব না। সবাই মিলে জায়গাটাকে সমৃদ্ধ করতে হবে। সব জায়গায়ই সংকট রয়েছে। সংকটের মাঝেই কাজ করে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও ছিল বড় অবদান। সাংস্কৃতিক কাজগুলো একটি সংঘবদ্ধ প্রয়াস। তৃণমূল পর্যায়ে শিল্পাঙ্গনকে মাদকমুক্ত রাখতে ও সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে শিল্পকলা একাডেমির ভূমিকা অগ্রগণ্য। শিল্পকলা একাডেমিকে জাগিয়ে তুলতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি বলে মনে করি।

 

শিল্পকলা একাডেমি তো কোমায় নেই : লিয়াকত আলী লাকী

শিল্পকলা একাডেমি তো কোমায় নেই যে, তাকে জাগিয়ে তুলতে হবে! শিল্পকলা একাডেমি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সদাজাগ্রত। গত ৫ বছরে আমরা শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমরা দেশের ৬৪টি জেলায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করছি। প্রতিটি জেলা শহরকে শিল্পচর্চার নান্দনিক নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। আরও লক্ষ্য রয়েছে, শিল্পকলার উদ্যোগে ৫৬ হাজার বর্গমাইল এলাকাবিধৃত এদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া। শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। গত কয়েক বছর ধরে আমরা প্রতিবন্ধী শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করে আসছি। জঙ্গিবিরোধী ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ায় শিল্পকলা রাখছে অগ্রণী ভূমিকা। বিভাগ, জেলাশহর থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করাসহ ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত করে আসছে শিল্পকলা একাডেমি। শিল্প ও সংস্কৃতি বিকাশে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগও হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

সাংস্কৃতিক চর্চা জীবনাচরণে প্রয়োগ করতে হবে : রোকেয়া প্রাচী

শিল্পকলা এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেটি প্রায় সব জেলাশহরেই আছে। কিছু জায়গায় নেই, তবে অচিরেই হয়ে যাবে। দেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শিল্পকলা। গান, যাত্রাপালা, নাটক, সার্কাসসহ বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও বিকাশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জাগরণ দরকার। শিল্পকলা শুধু যে নগরকেন্দ্রিক তা নয়; প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। আর বর্তমান সরকার সংস্কৃতিবান্ধব; তাই শিল্পের বিকাশ এখন অনুকূলে। এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্ভর কর্মকাণ্ড, সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা, ঐতিহ্য সামনে নিয়ে আসা জরুরি। সব পর্যায়ে শিল্পকলাকে সম্পৃক্ত করা উচিত। তৃণমূল পর্যায়ের সবাইকে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। আর শুধু শিল্পকলা নয়; মাদকমুক্ত সমাজ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা আমাদের জীবনাচরণে প্রয়োগ করতে না পারলে সেটি হবে ভয়াবহ। শিল্প চর্চার মধ্যে থাকলে অপসংস্কৃতি ও মাদকের করালগ্রাসও থাকবে না। শিল্পকলা একাডেমিতে শিল্পীসহ ইয়াং জেনারেশনের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিল্পাঙ্গনকে মাদকমুক্ত রাখতে দেশজুড়ে নিয়মিত কালচারাল অনুষ্ঠান      করতে হবে।


আপনার মন্তব্য