শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৯

ইন্টারভিউ

মাঝখানে ভেবেছিলাম গান ছেড়েই দেব...

গানের ভুবনে খুব পরিচিত একটি নাম ডলি সায়ন্তনী। যার অসংখ্য জনপ্রিয় গান আমাদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। দীর্ঘ বিরতি শেষে মাসতিনেক আগে বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবরের সঙ্গে মিলে ‘ভালোবাসি তোকে’ শিরোনামে নতুন গান ও গানের ভিডিও প্রকাশ করেন ডলি। এছাড়া হাতে আছে আরও বেশকিছু গান। গান ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন- আলী আফতাব

মাঝখানে ভেবেছিলাম গান ছেড়েই দেব...
ছবি : রাফিয়া আহমেদ

নতুন গানের কী খবর?

আমার কাছে বর্তমানে বেশকিছু গান আছে। তার মধ্যে আমার আগে গাওয়া ‘শ্যাম তুমি লীলা বুঝ’ ও ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এই দুটি গান আবার নতুন করে করছি দর্শক-শ্রোতাদের জন্য। ‘শ্যাম তুমি লীলা বুঝ’ এই গানটির সংগীতায়োজন করেছে আমার সঙ্গে যারা যন্ত্রসংগীতে থাকে তারা। আর ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ গানটি করেছে ক্লোজাপ ওয়ান তারকা কণ্ঠশিল্পী সাব্বির ও গিটারিস্ট এমিল। গান দুটির কাজ শেষ, এখন মিউজিক ভিডিওর জন্য শুটিংয়ে যাব।

এছাড়া ‘দেখলে তোমায় লাগে ভালো’ শিরোনামের আরও একটি গানের কাজ শেষ করে রেখেছি। এরই মধ্যে গানটি প্রকাশ হবে। এই গানটির কথা লিখেছেন ইমন লিটন এবং সুর করেছেন জাহাঙ্গীর রানা। সংগীত আয়োজন করেছেন আকাশ।

 

মাঝে অনেকটা সময় গান থেকে দূরে ছিলেন কেন?

নানা কারণে গানে অনিয়মিত ছিলাম দীর্ঘদিন। এছাড়া আগে গানের যে পরিবেশ ছিল এখন তা নেই। এছাড়া আগে অডিও কোম্পানিগুলো শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত আর এখন শিল্পীরা অডিও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমি এই নীতিতে বিশ্বাস করি না। এসব নানা কারণে মনে হয়েছিল আর গান করব না। আমার একটি ফেসবুকের ফেন পেজ আছে। আমি যখন ইনবক্সে যাই, আমার ভক্ত-শ্রোতাদের এসএমএস দেখলে আমার অনেক কষ্ট লাগে। তারা আমার গান শুনতে চায়। আর আমি কেন তাদের আমার গান শুনাব না। এসব কারণে আবারও গানের জগতে ফিরে এসেছি।

 

এখন গান প্রকাশের ধরন পরিবর্তন হয়েছে, তাই না?

একসময় গান প্রকাশ হতো অ্যালবামে। বছরে একটি কিংবা দুটি ক্যাসেট নিয়ে সারা বছর ব্যস্ত থাকতে হতো। তখন একটি গানের ক্যাসেট বাজারে আসা মানে একজন কণ্ঠশিল্পীর জন্য অনেক কিছু। কোম্পানিগুলোও সারা বছর ব্যস্ত থাকত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে অনেক কিছু। পরিবেশের পাশাপাশি বদলে গেছে গান প্রকাশের ধরন এবং মাধ্যম। ৮-১০টি গান নিয়ে এখন অ্যালবাম প্রকাশ হয় না। একক গান প্রকাশ পায় ইউটিউবে। এখন গান শোনার সঙ্গে সঙ্গে দেখারও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিউজিক ভিডিও, ইউটিউবের গুরুত্ব আছে, তবে যাচ্ছেতাই হলে চলবে না।

 

নতুন শিল্পীদের গান শোনা হয়?

হ্যাঁ। এই সময়ে গান শোনা হয়। অনেকেই এখন ভালো কাজ করছেন। আমি বেশ কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কাজও করেছি। তবে নতুনদের আরও চর্চা করতে হবে। আমি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গান শিখিনি। আমার গানের হাতেখড়ি আমার মার কাছে। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি ভালো কিছু গান করতে। আর এজন্য এখনো গানের চর্চা করি। আমি জানি ভালো গান না করতে পারলে কেউ আমাকে মনে রাখবে না। 

 

আগের মতো এখন গান বেশি স্থায়ী হতে পারছে না কেন?

এখন খুব কম গানই স্থায়িত্ব পাচ্ছে। পুরনো গানগুলো এখনো জনপ্রিয় হয়ে আছে। আগের গানে যে মাদকতা ছিল এখন আর তা পাওয়া যায় না। ভালো লাগার মতো গান খুব কম হচ্ছে এখন। কিন্তু আমরা গানের পেছনে সময় ব্যয় করেছি অনেক। গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীরা প্রতিনিয়ত গান নিয়ে বসেছি। গানের কথা ও সুর নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের পর শিল্পীর কণ্ঠে উঠত। সে জন্যই তখনকার গানগুলো এত জনপ্রিয় এবং কালজয়ী হয়ে আছে।

 

আচ্ছা, আপনার নাকি শিল্পী হওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না?

আমার বড় ভাই বাদশাহ বুলবুল, ছোট বোন পলি সায়ন্তনী এবং আমি কণ্ঠশিল্পী হতে পেরেছি মায়ের দূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে। যদিও ভাইবোন দুজনই শিল্পী হতে চেয়েছে, ব্যতিক্রম শুধু আমার বেলায়। কেননা শিল্পী হওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিল না। এটা ঠিক যে, গানের প্রতি ভালো লাগা, ভালোবাসা সবসময় ছিল, তার পরও শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি।

 

তবে শিল্পী হলেন কি করে?

এটা হয়ে গেছে হঠাৎ করেই। ঢাকায় আসার পর আমাদের পড়াশোনার পর্ব শুরু হয়েছিল গুলশান-১-এর ওরিয়েন্টাল কিন্ডার গার্টেনে। কীভাবে যেন আমাদের প্রিন্সিপাল জেনে গিয়েছিলেন আমরা তিন ভাইবোন গাইতে পারি।

যে জন্য স্কুলের প্রতিটি আয়োজনে আমাদের গান গাওয়া ছিল অনেকটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু স্কুলের অনুষ্ঠানের গান গাওয়া আর শিল্পী হওয়া এক বিষয় নয়। পরে বুঝেছি, সেখান থেকেই আমাদের মনে শিল্পী হওয়ার বীজ বপন হয়ে গিয়েছিল।

 

প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের গল্পটি জানতে চাই।

বাড়িতে মাঝে মাঝে গানের আসর বসত। তা বেড়ে গিয়েছিল বুলবুল ভাই অ্যালবামের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করার পর। তখন অনেক গীতিকার-সুরকার বাসায় আসতেন। বুলবুল ভাইয়ের অ্যালবামের যখন হারমোনাইজের জন্য শিল্পী দরকার হলো, তখন আমাকে আর পলিকে ডাকা হলো। এসব করতে গিয়ে প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার মিল্টন খন্দকারের নজরে পড়ে যাব ভাবিনি।

একদিন বাসায় কথায় কথায় মা আর বুলবুল ভাইকে তিনি বলছিলেন, ডলির কণ্ঠের মধ্যে একধরনের জাদু আছে। ওকে দিয়ে একটা অ্যালবাম করলে কেমন হয়। মা আপত্তি করেননি। মা আর বুলবুল ভাই সাহস দিয়েছেন। তখন সবে ক্লাস এইটে পড়ি। অথচ সেই বয়সে একক অ্যালবামের কাজ শুরু করেছি, এটা ভাবলে এখনো মনে বিস্ময় জাগে। সে যাই হোক, মিল্টন ভাইয়ের সঙ্গে ঝঙ্কার রেকর্ডিং স্টুডিওতে দিনরাত একাকার করে নতুন কিছু গান তৈরি করি। অ্যালবামের কাজ শেষ হয়। কিন্তু সারগাম, ডনসহ যতগুলো বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল কোনোটাই আমার অ্যালবাম প্রকাশ করতে চায়নি। শেষমেশ মিল্টন ভাই নতুন অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেলেক্সের মুরাদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অ্যালবাম বের করতে রাজি হয়ে যান। এই অ্যালবামের নাম রাখা হয় ‘হে যুবক’। যদিও অ্যালবাম নিয়ে প্রকাশকের বড় কোনো প্রত্যাশা ছিল না। তার ধারণা বদলে যায় ‘হে যুবক’ প্রকাশের কিছুদিন পর। দেশের আনাচে-কানাচে বাজতে থাকে অ্যালবামে টাইটেল গান ‘রঙচটা জিন্সের প্যান্ট পরা’। এরপর মুরাদ ভাই নিজে বাসায় এসে দ্বিতীয় অ্যালবামের প্রস্তাব দেন। শুরু হয় শিল্পী জীবনের নতুন অধ্যায়। সেই থেকে এখনো চেষ্টা করছি ভালো গান করার।


আপনার মন্তব্য