শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:০৩

মিলনায়তন সংকটে ব্যাহত সংস্কৃতিচর্চা

মোস্তফা মতিহার

মিলনায়তন সংকটে ব্যাহত সংস্কৃতিচর্চা
মহড়া কক্ষের একটি দৃশ্য

মানুষের মনোজগতের সুস্থতার জন্য সংস্কৃতির রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। রাজধানীর ইটকাঠের এই যান্ত্রিক মহানগরীর প্রায় ২ কোটি বাসিন্দার চিত্তবিনোদন যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেভাবে হয়নি। সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চায় যে ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকার দরকার এই নগরীতে এখনো সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে এবং রাজধানীর বাসিন্দাদের বিনোদিত করার লক্ষ্যে মঞ্চ তথা মিলনায়তনই বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। উত্তরে-দক্ষিণে ও পূর্ব-পশ্চিমে রাজধানীর পরিধি বেড়েছে, সেই সঙ্গে ক্রমাগত বাড়ছে বিশাল সুরম্য অট্টালিকা, কাজের খোঁজে ও নানা কারণে রাজধানীতে বাসিন্দার সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু এত সব বৃদ্ধির মধ্যে থেমে আছে নাটক, সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের জন্য পর্যাপ্ত মিলনায়তন। যার কারণে সংস্কৃতিকর্মীদের সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশ যেভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ঠিক একইভাবে ব্যস্ত নগরীতে হাঁফিয়ে ওঠা বাসিন্দারাও নিজেদের বিনোদনের খোরাক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঢাকার সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন, একই এলাকার কচি-কাঁচার মিলনায়তন, নাটক সরণি-খ্যাত বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তন ২ কোটি বাসিন্দার নগরীর জন্য নিতান্তই সামান্য।

যানজটের এই নগরীতে উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী থেকে সেগুনবাগিচা কিংবা বেইলি রোডে এসে নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য প্রায় অতিরিক্ত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় বেশি গুনতে হয় বিনোদনপিপাসুদের। সেই সঙ্গে তো রয়েছে যানজটের তীব্র যন্ত্রণা। রাজধানীর সব এলাকার বাসিন্দাদের বিনোদনের কথা চিন্তা করে রাজধানীর উত্তরা, ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গুলশানসহ গুরুত্বপূর্ণ ও নির্দিষ্ট দূরত্বের এলাকায় মঞ্চ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ দাবি জানিয়ে আসছে সংস্কৃতি কর্মীরাও। তাদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট দূরত্বে আরও বেশ কয়েকটি মঞ্চ নির্মাণ করা হলে একদিকে সংস্কৃতি কর্মীদের সংস্কৃতি চর্চার পথ সুগম হবে আর  বিনোদন বঞ্চিতরাও নিজ নিজ বসতি এলাকার মিলনায়তনগুলোতে গিয়ে নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ইত্যাদি উপভোগ করতে পারবে।

এ বিষয়ে অভিনেতা ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিল্পকলা একাডেমি ও মহিলা সমিতি মিলনায়তনসহ হাতেগোনা কয়েকটি মিলনায়তন দিয়েই চলছে রাজধানীর প্রায় ২ কোটি বাসিন্দার বিনোদন। যার কারণে বেশির ভাগ নাগরিকই বিনোদন উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু রাজধানীবাসীই যে বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তা কিন্তু নয়, রাজধানীতে যারা সাংস্কৃতিক চর্চা করেন তারাও মিলনায়তনের অভাবে নিজেদের সংস্কৃতি চর্চাটা ঠিকমতো করতে পারছেন না। সংস্কৃতিকর্মীদের সংস্কৃতি চর্চার পথকে সুগম করে রাজধানীর বাসিন্দাদের বিনোদিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, পল্লবী, মোহাম্মদপুর, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি মঞ্চ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ থিয়েটারের অধিকর্তা খন্দকার শাহ আলম বলেন, আমাদের যে পরিমাণ নাটকের দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে সে তুলনায় আমাদের মঞ্চ সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

শুধু মঞ্চ সংকটের কারণে অনেক নাটকের দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়মিত তাদের চর্চা অব্যাহত রাখতে পারে না। কবে হল পাবে আর কবে নাটক মঞ্চায়ন করবে এ ধরনের চিন্তা তো আমাদের মাথায় সব সময়ই থাকে। এত চিন্তা মাথায় নিয়ে আর যাই হোক সংস্কৃতি চর্চাকে গতিশীল রাখা যায় না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেক মঞ্চ স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাই।

নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক নাটকের দল প্রাঙ্গণেমোর-এর দলপ্রধান অনন্ত হিরা বলেন, নাটকের দল বাড়লেও মিলনায়তন বাড়েনি। যার কারণে নতুন নতুন অনেক দল মিলনায়তন পাচ্ছে না। ফলে তাদের সংস্কৃতি চর্চার ব্যাঘাত  ঘটছে ভীষণভাবে।

নাটকের দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আরও বাড়বে, কিন্তু মিলনায়তনের সংখ্যা যদি না বাড়ে তাহলে তারা চর্চাটা করবে কোথায়।  যার কারণে আমি চাই রাজধানীতে আরও অনেকগুলো মঞ্চ নির্মাণ করা হোক।


আপনার মন্তব্য