শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুলাই, ২০২১ ২২:৩৭

যেভাবে অভিনয়ে এলেন তারা...

আলাউদ্দীন মাজিদ

যেভাবে অভিনয়ে এলেন তারা...
Google News

রিসিপশনিস্ট থেকে নায়ক রহমান

রহমান ১৯৫৮ সোলে শাহবাগ হোটেলে চাকরি নেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম শাহবাগ হোটেলে প্রায়ই আসতেন। তার সঙ্গে রহমানের ঘনিষ্ঠতা হয়ে যায়। তিনি রহমানকে বলতেন, তুমি দেখতে উত্তম কুমারের মতো। এহতেশাম পরিচালিত ছবি ‘এদেশ তোমার আমার’-এ প্রথম দিন শুটিংয়ে অংশ নিয়ে অভিনয় করতে পারছিলেন না। বারবার ঘাবড়ে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থা দেখে খান আতা বললেন, এহতেশাম এই ছেলেটাকে কোথা থেকে ধরে নিয়ে এসেছেন। এ কথা শুনে রহমান শুটিং স্পট থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তার একটু আসি কথাটি শুনে সন্দেহ হয় সেটের সবার। রহমান পালিয়ে যেতে পারলেন না। ‘এদেশ তোমার আমার’ মুক্তি পায় ১৯৫৯ সালে। এ ছবিটি হিট হয় একই সঙ্গে রহমানের অভিনয় প্রশংসিত হয়।

 

গায়ক নাজির থেকে নায়ক নাদিম

পুরান ঢাকার ছেলে নাজির বেগ শখের গায়ক হিসেবে এলাকায় নাম করেছিলেন। এক সময় চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমান এবং এহতেশামের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ১৯৬৭ সালে এহতেশাম চকোরী নামে একটি ছবি নির্মাণ করবেন। রহমান-শবনমকে জুটি করে সেই ছবির কাজও শুরু হলো। ৩০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর এই জুটি ছবিটিতে আর কাজ করতে চাইলেন না। চরম হতাশায় পড়লেন নির্মাতা। প্রধান সহযোগী পরিচালক আজিজুর রহমান হাল ছাড়ার পাত্র নন। তিনি এহতেশামকে অনেক বুঝিয়ে এই ছবিতে নাদিম আর শাবানাকে কাস্ট করে ছবিটির কাজ শেষ করলেন। ছবিটি বাম্পার হিট। সুপার স্টার বনে গেলেন নাদিম।

 

জহির রায়হানের নায়ক হলেন রাজ্জাক

আবদুর রাজ্জাক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতায়। কলকাতা থেকে ১৯৬৪ সালে ঢাকায় আসেন। কলকাতায় পড়াশোনা ও ফুটবল খেলার পাশাপাশি মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন। ঢাকায় এসে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তার সহকারী ও ছোটখাটো চরিত্রে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন। এক দিন ছবির রিলের কয়েকটি ক্যান নিয়ে এফডিসির প্রশাসনিক ভবনের সিঁড়ি বেয়ে উঠছিলেন। আরেক প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান তখন নামছিলেন। রাজ্জাকের নায়কোচিত চেহারা দেখে তিনি জানতে চাইলেন তার ইচ্ছার কথা। রাজ্জাক বললেন তিনি অভিনেতা হতে চান। তখনই জহির রায়হান তাকে বললেন, যদি অভিনয় করতে চাও তাহলে আজ থেকে ক্যান বহন করা মানে সহকারীর কাজ আর করবে না। এরপর জহির রায়হানই ১৯৬৬ সালে তার পরিচালিত ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘লখীন্দর’-এর ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ করে দেন রাজ্জাককে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী সত্তর দশকে রাজ্জাককে নায়করাজ উপাধি দেন।

 

হুলিয়া থেকে বাঁচতে ফারুক হন নায়ক

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন ফারুক। ছয় আর ১১ দফা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। তার নামে ৩৭টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের এবং জারি হয় হুলিয়া। গ্রেফতারের হাত থেকে বাঁচতে এক বন্ধুর পরামর্শে চলচ্চিত্র পরিচালক এইচ আকবরের কাছে যান তিনি। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর তার জলছবিতে তাকে নায়ক হিসেবে কাস্ট করেন। ছবিটি সফল হলে নায়ক হয়ে যান ফারুক।

 

রত্না থেকে নায়িকা শাবানা

মাত্র নয় বছর বয়সে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের হাত ধরে চিত্র জগতে অভিষেক শাবানার। তবে তখন তার নাম শাবানা নয়, ছিল রত্না। আজিজুর রহমান তাকে নিয়ে যান চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশামের কাছে। এহতেশামের আগ্রহেই ১৯৬১ সালে চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে নাম লেখান তারই পরিচালনার ছবি ‘নতুন সুর’-এ।  প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতার সময়ে রত্না হিসেবে পরিচিত হলেও এহতেশামই পরে তার ‘চকোরী’ ছবিতে নাম দেন শাবানা। ১৯৬৭ সাল, বাংলা চলচ্চিত্রে আবির্ভাব ঘটল এক নতুন অভিনেত্রীর।

 

রেণু থেকে রোজিনা

১৯৭৭ সাল। সংসদ ভবন এলাকায় একটি ছবির শুটিং। খবর পেয়ে সেখানে যান রেণু। ছবিটি ছিল কালীদাস পরিচালিত ‘জানোয়ার’। ছবির শুটিং দেখতে গেলেন রোজিনা। দৃশ্যটি ছিল এমন, শর্বরী নাচবেন, দারাশিকো মদ পান করবেন আর তা উপভোগ করবেন। পরিচালক উপস্থিত দর্শকের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে যেতে বললেন। তার কাজ হবে ট্রেতে মদের বোতলটা দারাশিকোকে দিয়ে আসা। রোজিনা বললেন, আমি যাব। তাকে একটি প্যান্ট আর শার্ট দেওয়া হলো। তা পরলেন। পরে ১৯৭৮ সালে এফ কবীর চৌধুরীর ‘রাজমহল’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন। ছবিটি হিট হলে রোজিনাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

 

এহতেশামের নায়ক নাঈম

নবাব পরিবারের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশামের সম্পর্ক ছিল মধুর। নবাব খাজা মুরাদকে নায়ক করে ছবি নির্মাণের ইচ্ছা ছিল এহতেশামের। এতে মুরাদের মা আসিয়া পন্নীর আপত্তি ছিল। এই আপত্তির কারণেই মুরাদ অভিনয়ে আসতে পারেননি। এক সময় মুরাদের সন্তান নাঈমকে দেখে এহতেশাম ধরে বসলেন মুরাদকে। তিনি কোনো আপত্তি করলেন না। তাকে নায়ক করে ১৯৯১ সালে নির্মাণ করলেন ‘চাঁদনী’ ছবিটি। ছবিটি নিয়ে সফল নাঈম।

 

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে শাবনাজ

শাবনাজ বললেন, একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এহতেশাম সাহেব আমাকে দেখেন। তার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও এক সময় এহতেশাম সাহেবের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে আমাকে দেখে বাবাকে তিনি বললেন আমাকে ‘চাঁদনী’ ছবির নায়িকা করতে চান। বাবা যেহেতু মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাই তিনি না করলেন না। বাবা বললেন, আমি যদি এই অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারি আমার মেয়ে কেন নয়।  ব্যস, বাবার উৎসাহে ‘চাঁদনী’ হয়ে গেলাম।