অর্থনৈতিক সঙ্কটে শ্রীলঙ্কায় হাহাকার, মানুষের ঘরে খাদ্য নেই, জ্বালানি তেল নেই; দিনে টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। নিত্যপণ্যের দাম তরতর করে বাড়ছে। দিনে দিনে সবকিছু চলে যাচ্ছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে হাজারও মানুষ।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোতাবায়া মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন। তবে এই ডাকে সাড়া দেয়নি বিরোধীরা। আন্দোলনকারীরাও সরকারের কোনও আশ্বাসে ঘরে ফিরছে না। এই অবস্থা দেখে বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজেরও মন পুড়ছে। এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিজ দেশের মানুষের দুর্দশা দেখে তার কেমন লাগছে সেই অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন এই শ্রীলঙ্কান অভিনেত্রী।
তিনি বলেছেন, ‘একজন শ্রীলঙ্কান হিসেবে আমার দেশ ও দেশের মানুষ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। ঘটনা শুরুর পর থেকেই হাজার রকম মতে আমি প্লাবিত হয়েছি। তবে আমি বলতে চাই, এত দ্রুত কোনও বিচার বা সিদ্ধান্তে যাবেন না। কেবল একটা গ্রুপের কথায় অসম্মানও করবেন না। বিশ্ব আর আমার দেশের মানুষ কোনও বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই এখন, তারা চায় কেবল সমানুভূতি ও সমর্থন। আপনারা তাদের ভালো চেয়ে দুই মিনিট নীরবে প্রার্থনা করুন, দেখবেন আপনার পরিস্থিতি না বুঝে মন্তব্য করার চেয়ে এটা বেশি কাজে দেবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আশা করছি আমার দেশ ও দেশের মানুষের এই পরিস্থি অচিরেই কেটে যাবে। শান্তিপূর্ণভাবেই হবে সমাধান, মানুষ লাভবান হবে।’
২০০৬ সালে মিস ইউনিভার্স শ্রীলঙ্কা খেতাব পেয়েছিলেন জ্যাকুলিন। এরপর কিছুদিন সাংবাদিকতায় কাটিয়ে ২০০৯ সালে তিনি মডেলিং ও চলচ্চিত্রে কাজ করতে পাড়ি জমান ভারতের মুম্বাইতে। ধীরে ধীরে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বলিউডে। কাজের জন্য বেশি সময় তার কাটে ভারতে, তবে দেশের জন্য সবসময়ই তার মন পোড়ে।
সূত্র: সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস, ইনস্টাগ্রাম
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল