বিষাক্ত সাপের সঙ্গে লড়াইয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জিতে যায় বেজি। কিন্তু কেন? এটা নিয়ে গ্রামবাংলায় জনপ্রিয় কিছু মিথ প্রচলিত আছে। অনেকেই বলে থাকেন যে, সাপ দংশন করলে বেজি জঙ্গলে গিয়ে কোনো বিশেষ গাছের পাতা খেয়ে আবার লড়াইয়ে ফিরে আসে। ওই গাছের পাতা খেলে সাপের বিষ পানি হয়ে যায়। এ ছাড়া বেজি সাপের শরীরের এক পাশ থেকে লাফিয়ে অন্য পাশে যেতে পারলে সাপের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। এ কারণেই বেজির জয় হয়।
তবে বিজ্ঞান বলছে, এসব তথ্যের কোনো প্রমাণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা এখনো প্রমাণ পাননি যে বেজি সত্যিই কোনো নির্দিষ্ট গাছের পাতা খেয়ে বিষ নষ্ট করতে পারে। তবে গ্রামাঞ্চলে দেখা গেছে, সাপ-বেজির লড়াই চলাকালীন বেজি যদি আঘাত পায়, তখন সে কিছুক্ষণের জন্য জঙ্গল বা ঝোপে চলে যায়। মূলত, ধকল কাটিয়ে উঠতে বেজি লড়াই থেকে কিছুটা বিরতি নেয়।
বিজ্ঞান বলছে, বেজির শরীরেই প্রাকৃতিকভাবে সাপের বিষের প্রতি আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। তাই সাপের কামড়ে অন্য প্রাণী মারা গেলেও বেজি অনেক সময় বেঁচে যায়। তবে সেই প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি নয়। বড় বিষাক্ত সাপের ছোবল লাগলে মারা যেতে পারে বেজি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লড়াইয়ে বেজির গায়ে ছোবল বসাতে পারে না সাপ। এর মূল কারণ বেজির ক্ষিপ্র গতি ও ঘন লোম। ঘন লোমের কারণে বেজির শরীরে সাপের দাঁত গভীরভাবে ঢুকতে পারে না। আর ক্ষিপ্র গতি ও দ্রুত নড়াচড়ার কারণে সাপের ছোবল এড়িয়ে যায় বেজি। এ ছাড়া বেজি সাধারণত সাপের মাথার দিকে আক্রমণ করে, একবার সুযোগ পেলেই গলা চেপে ধরে মেরে ফেলে। এ কারণে সাপ-বেজি লড়াইয়ে অধিকাংশ সময় জয় হয় বেজির। তবে যদি সাপটি খুব বড় এবং শক্তিশালী হয়, আর বেজি ছোট হয়, তাহলে সাপ জয়ী হতে পারে। একেবারে অভিজ্ঞতাহীন বা ক্ষুধার্ত বেজি হলে সে হেরে যেতে পারে।