শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জুন, ২০১৬ ২৩:১৭

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা

খালাস স্থগিত ১১ আসামির

নিজস্ব প্রতিবেদক

খালাস স্থগিত ১১ আসামির

গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ১১ আসামির খালাসের রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ১৪ জুলাই এ বিষয়ে শুনানি হবে। ওইদিন পর্যন্ত ১১ আসামির খালাস স্থগিত করা হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ। যাদের খালাস স্থগিত করা হয়েছে তারা হলেন— আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল (পলাতক), লোকমান হোসেন ওরফে বুলু, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির (পলাতক), খোকন (পলাতক), দুলাল মিয়া, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, আইয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর ও মনির। এর মধ্যে আমির হোসেন, বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, লোকমান, রনি, খোকন ও দুলাল নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন। আর রাকিব, আইয়ুব, জাহাঙ্গীর ও মনিরকে বিচারিক আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। গত ১৫ জুন হাইকোর্ট এই ১১ জনকে খালাস দেয়। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ সে রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। ২০০৪ সালে জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি আহসান উল্লাহ মাস্টারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ মামলায় নিম্ন আদালতে ফাঁসির আদেশ পাওয়া ২২ জনের মধ্যে হাইকোর্ট ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, সাতজনকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও সাতজনকে খালাস দেয়। অন্য দুই আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাদের মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যায়। বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির মধ্যে একজনের দণ্ড বহাল, চারজন খালাস পেয়েছেন। অন্য একজন আপিল না করায় তার দণ্ডও বহাল রয়েছে। বিচারিক আদালত থেকেই খালাস পান দুই আসামি কবির হোসেন ও আবু হায়দার ওরফে মিরপুরইয়া বাবু। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় পরদিন ৮ মে নিহতের ভাই মতিউর রহমান টঙ্গী থানায় ১৭ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিচার শেষে ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায়ে ৩০ আসামির মধ্যে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।


আপনার মন্তব্য