শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৪৭

সিনহার ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধানে দুদক

ডিআইজি মিজানকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন অনুসন্ধানে নেমেছে। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে তলব করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া অন্য ঘটনায় অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে দুদক বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। সিনহার লেনদেনের বিষয়ে দুদকের কেউ গতকাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি। তবে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, মোহাম্মদ শাহজাহান ও নিরঞ্জন সাহা নামের দুই ব্যবসায়ীকে তলব করে চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। তারা ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহক। আগামী ৬ মে সকাল ৯টায় তাদের দুজনকে দুদকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন ওই ব্যবসায়ীরা। পরে ওই টাকা ‘রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তি হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর পাঠানো তলবি নোটিসে তাকে আগামী ৩ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদক জানায়, নামে-বেনামে ডিআইজি মিজানের শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে দুদকের কাছে। সেই অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে তাকে তলব করা হয়েছে। এর আগেও ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করেছিল দুদক। কিন্তু তখন কেবল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে এবার নতুন করে অনুসন্ধানে তার চাকরি জীবনের যাবতীয় আয়-ব্যয়, এনবিআরে দেওয়া সম্পদের তথ্য, নারীঘটিত বিষয়ে অর্থ খরচের পেছনে টাকার উৎস, বিদেশে পরিবার-পরিজনের জন্য পাঠানো অর্থসহ পুরো বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে। দুদক জানায়, ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। চাকরি জীবনে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা উপায়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। একাধিক ব্যাংক হিসাবে রয়েছে বিপুল অর্থ ও ফিক্সড ডিপোজিট। এমনকি দেশের বাইরে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডিআইজি মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ বছরের জানুয়ারিতে তাকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।