শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৩

বৈধ প্রার্থী ২২৭৯ জন বাতিল ৭৮৬ জন

মনোনয়ন বাতিলের রেকর্ড

বাতিলের খাতায় খালেদা জিয়া, মোরশেদ খান, মীর নাছির, আমানউল্লাহ আমান, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, নাজমুল হুদা, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আফরোজা আব্বাস, গোলাম মাওলা রনি, কাদের সিদ্দিকী, গিয়াস উদ্দিন কাদের, রুহুল আমিন হাওলাদার, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, রেজা কিবরিয়া, ইমরান এইচ সরকার, হিরো আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

মনোনয়ন বাতিলের রেকর্ড

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মামলা, ঋণ-বিল খেলাপি, স্বাক্ষর জাল, হলফনামায় স্বাক্ষর না করাসহ ছোটখাটো ত্রুটির কারণেও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বাছাই-পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আজ থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল করা যাবে। এরপর ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি। আপিলেও যদি প্রার্থিতা বাতিল হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টরা আদালতে যেতে পারবেন। ছোটখাটো ভুলত্রুটি তথা তাত্ক্ষণিকভাবে সমাধান সম্ভব এমন ভুল মনোনয়নপত্র দাখিলকারীর মাধ্যমে সংশোধন করে নেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, এই বিধান অনেক রিটার্নিং অফিসার আমলে নেননি।

গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রার্থিতা বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে ব্যাংক ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই ঋণ ও বিল খেলাপিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ৩০৬৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৭৮৬ জনের। এর মধ্যে বৈধ প্রার্থী হলেন ২২৭৯ জন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় কয়েকটি আসনে আপাতত বিএনপির প্রার্থীশূন্য। আসনগুলো হলো—বগুড়া-৭, ঢাকা-১, শেরপুর-১ ও মানিকগঞ্জ-২। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। আসনগুলো হলো ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭। তার দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ার বিষয়টিকেই মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর। তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ঋণখেলাপি হওয়ায় পটুয়াখালী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনএ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে গণফোরামের প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল কবীর মুরাদ। নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দুটি মামলায় তার দণ্ডাদেশ থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলাউদ্দিন মৃধার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও বগুড়া-৪ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। টেলিফোন বিল বকেয়া ও ঋণখেলাপি হওয়ায় ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ভোটারদের এক শতাংশ সমর্থনে ‘ত্রুটি থাকায়’ কুড়িগ্রাম-৪ আসনে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : ঢাকা : ঢাকা-১ আসনে বিএনপির চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন— ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা, নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ঢাকা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি ফাহিমা হোসাইন জুবলী ও তারেক হোসেন। ঢাকা-৭ আসনে ১৯ জনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী নাসিমা আক্তার কল্পনা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোতালেব ও মাসুদুর রহমান খোকন, আওয়ামী লীগের মো. নাজমুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ঢাকা-৮ আসনে সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন— জাতীয় পার্টির মাহমুদা রহমান মুন্নী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার, জগদীশ বড়ুয়া (দলের নাম জানা যায়নি), জাতীয় পার্টির আরিফুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাদুল হাসান ও রহমত উল্লাহ। ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১০ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে গণফোরামের প্রার্থী খন্দকার ফরিদুর আকবরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি রসিদ দেখাতে পারলে মনোনয়নপত্র বহাল হবে। ঢাকা-১১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের শাহাজাদা সাইফুদ্দিন (হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা), আজমীরা সুলতানা (জামানত দেননি), বিএনপির সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (ঋণখেলাপি), জাকের পার্টির কায়সার হামিদ (ঋণখেলাপি) ও জাকির হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৫ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে মো. মুকুল আমিন (জাপা) এবং মনোনয়নপত্রে ভোটারদের ভুয়া স্বাক্ষরের কারণে মো. সলিমুদ্দিন (স্বতন্ত্র) ও আবদুর রহিমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৬ আসনে গণফোরামের খন্দকার ফরিদুল আকবর (ঋণখেলাপি), বিএনপির এ কে মোয়াজ্জেম হোসেন (ঋণখেলাপি), জাতীয় পার্টির আমানত হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসমাইল হোসেনের (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর) মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের স্থগিত ও ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে তারা হলেন— জেএসডির নজরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের আকবর হোসেন পাঠান (চিত্রনায়ক ফারুক)। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র যাদের বাতিল হয়েছে তারা হলেন— ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা (মনোনয়ন ফরমে নিজ দলের নাম বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনোটিই উল্লেখ নেই), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাসির (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর), বিকল্পধারার আরিফুল হক (ঋণখেলাপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইনামুল হক (ঋণখেলাপি), বিএনপির শওকত আজিজ (লঙ্কাবাংলা ও জনতা ব্যাংকের কাছে ঋণখেলাপি)। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী লেলিন চৌধুরী, মেজর (অব.) মামুনুর রশীদ (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর), আনিসুজ্জামান খোকন, মো. আবদুর রহিম, (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর) ও শামসুল হুদা চৌধুরী (ভুয়া ভোটারের স্বাক্ষর), আওয়ামী লীগের রুবেল আজিজের (ঋণখেলাপি) মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সুলতানা আহম্মেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম : সাজা ও ঋণখেলাপির কারণে চট্টগ্রামে কপাল পুড়েছে বিএনপির ৭ হেভিওয়েট প্রার্থীর। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও তার পুত্র ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র সামির কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুল আলম হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ভোলা : ভোলার চারটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন— ভোলা-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির সেলিম এবং ভোলা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) আবদুল মান্নান। বাগেরহাট : বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে মহাজোট, ঐক্যফ্রন্ট ও বিভিন্ন দলসহ ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাগেরহাট-১ আসনে ঋণ খেলাপির দায়ে জাতীয় পার্টির এস এম আল জোবায়ের, বাগেরহাট-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ মোস্তাফিজুর রহমান ও বাগেরহাট-৪ আসনে এনপিপির প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম খানের সম্পদ বিবরণীতে স্বাক্ষর না করাসহ ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফেনী : ফেনীতে বিভিন্ন অভিযোগে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন— ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া (বিএনপি), নূর আহম্মদ মজুমদার (বিএনপি), মিজানুর রহমান (স্বতন্ত্র), আবুল বাশার চৌধুরী (স্বতন্ত্র)। ফেনী-৩ আসনে আবদুল লতিফ জনি (বিএনপি), আনোয়ারুল কবির রিন্টু (স্বতন্ত্র), হাছান মাহমুদ (স্বতন্ত্র)। রাঙামাটি : সংসদীয় আসন-২৯৯ রাঙামাটিতে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলরা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী অমর কান্তি দে ও আশিষ দাস গুপ্ত। কুষ্টিয়া : জেলার ৪টি আসনে নয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না থাকায় সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া একই আসন থেকে ঋণখেলাপির দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের (বাদল) প্রার্থী অধ্যক্ষ রেজাউল হক ও আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় মুসলিম লীগ প্রার্থী আবদুল খালেক সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল গফুর ও বশির আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা হয়। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বর্তমান এমপি আবদুর রউফের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই আসন থেকে ঋণখেলাপির দায়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মেহেদী হাসান, জাকের পার্টির তসির উদ্দিন ও সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) প্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩টি সংসদীয় আসনে ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুজনসহ ৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ভোটার তালিকা জমা না দেওয়া ও স্বাক্ষরে ত্রুটি প্রমাণিত হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নবাব মো. শামসুল হুদা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও খুরশিদ আলম বাচ্চু, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈয়ব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (জামায়াত) ইয়াহিয়া খালেদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। গাইবান্ধা : গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৬৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ছয়টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপির অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় ভোটারদের এক শতাংশের সমর্থনসূচক জমা দেওয়া কাগজে ভুল থাকায় পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ বি এম মিজানুর রহমান, জয়নাল আবেদিন (সাদা), মো. আবদুর রহমান, আফরুজা বারী ও এমদাদুল হক নাদিমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ভোটারদের এক শতাংশের সমর্থনসূচক জমা দেওয়া কাগজে ভুল থাকায় তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম রেজাউল কবীর, মকদুবর রহমান সরকার ও ওয়াহেদ মুরাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মনজুরুল হকের দলীয় কাগজ না থাকায় তা বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটারদের এক শতাংশের সমর্থনসূচক জমা দেওয়া কাগজে ভুল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌফিকুল আমিন মণ্ডল টিটু, আমিনুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. জাহিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে স্থানীয় ভোটারদের এক শতাংশের সমর্থনসূচক জমা দেওয়া কাগজে ভুল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ডা. আবদুর রহিম সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হয়েছে বিএনপি নেতা নাজেমুল ইসলাম প্রধানের মনোনয়নপত্র। রংপুর : রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে দেওয়া পদত্যাগপত্র জমা দিলেও গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাবলুসহ ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিলখেলাপির অভিযোগে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সি এম সাদিকেরও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঝিনাইদহ : চারটি আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মসিউর রহমান, সাবেক এমপি ওয়াহাব ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি আবদুুল মান্নানসহ ১৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাতিল ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ঝিনাইদহ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল ওহাব রয়েছেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মসিউর রহমান, মীর রবিউল ইসলাম লাভলু, জাকের পার্টির আবু তালেব সেলিম, আওয়ামী লীগের সাইদুল করিম মিন্টু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ আলী রয়েছেন। ঝিনাইদহ-৩ আসনে জাপার কামরুজ্জামান স্বাধীন, বিএনএফের ইসমাইল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনে আবদুুল ওয়াদুদ, কামরুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, ফণীভুষণ ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এদের মধ্যে আদালত থেকে সাজা হওয়ায় বিএনপির মসিউর রহমান ও আবদুুল ওহাবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় বিএনপির অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ ও আওয়ামী লীগের সাইদুল করিম মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় বলে জেলা রিটার্নিং অফিসারের দফতর থেকে জানানো হয়। কুড়িগ্রাম : এ জেলায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ইমরান এইচ সরকার ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুল খালেকসহ ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাতিলকৃত ১৯ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৩ জন। লালমনিরহাট : এ জেলায় ৩টি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র বাতিল হলো যাদের— বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদ হোসেন সাজু, হাবিব মো. ফারুক, মাহবুবুল আলম প্রামাণিক, শামীম হোসেন চৌধুরী। টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে ১৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। টাঙ্গাইল ৪ ও ৮ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়াও ঋণখেলাপির দায়ে টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহাবুব আনাম স্বপন ও টাঙ্গাইল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী নূর মোহাম্মদ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানীসহ তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামছুল আলম খান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জামালপুর : জামালপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর-৩ আসনে গণফোরামের প্রার্থী নঈম জাহাঙ্গীর, জামালপুর-৩ আসনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান, জামালপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ও জাতীয় পার্টির মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার, জামালপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী নজরুল ইসলামসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মাগুরা : মাগুরা-১ আসনে গণফোরামের প্রার্থী ডা. মিজানুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, মাগুরা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার মেহেদী আল মাসুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। নওগাঁ : এ জেলার ৬টি আসনে বিভিন্ন দলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৯টি ও প্রত্যাহার হয়েছে ১টি। নওগাঁ-১ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিকল্পধারার প্রার্থী আবু হেনা মোস্তফা কামাল, নওগাঁ-২ আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. ইঞ্জিনিয়ার আখতারুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিবুল ইসলাম ও বিকল্পধারার আবদুর রউফ মান্নান, নওগাঁ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন ও আবদুুর রাকিব, নওগাঁ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজমুল হক সনি ও জাপার ইফতেখারুল ইসলাম বকুল এবং নওগাঁ-৬ আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলালের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল বাকী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সিলেট : সিলেটের ৬টি সংসদীয় আসনে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনের জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি ও বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিনও রয়েছেন। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন— সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনের বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আনোয়ার উদ্দিন। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনে মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. এনামুল হক সরদার, মুহিবুর রহমান ও আবদুর রবের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। সিলেট-৩ আসনে (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) স্বতন্ত্র প্রার্থী জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ও আবদুল ওয়াদুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় মোট ভোটারের এক শতাংশের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া একই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুুল কাইয়ুম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয় হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়। সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে ইসমাইল আলী আশিকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সিলেট-৫ আসনে বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলখেলাপির জন্য ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী এম এ মতিন চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিল ও ঋণখেলাপির দায়ে ইসলামী আন্দোলনের নূরুল আমিনের, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ আল ওয়ালীর এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়জুল মুনীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। সিলেট-৬ আসনে (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়ার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আসনটিতে প্রার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে দলটি। ঋণখেলাপি থাকার কারণে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আসনটিতে দুজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় এখানে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে থাকছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া। নির্বাচনে তিনি মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পল্লী বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকার কারণে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার-১ আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরী (রিটার্ন দাখিল না করায়) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম সমর্থকের স্বাক্ষর জালের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হয়। মৌলভীবাজার-২ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল কাদির চৌধুরীর ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।  মৌলভীবাজার-৩ আসনে মোট ৯ প্রার্থীর মধ্যে বিএনএফের আশা বিশ্বাস (মামলার তথ্য গোপন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মুসাব্বিরের (তথ্যে গরমিল থাকার কারণে) মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ-১ আসনে এমপি প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াপুত্র ড. রেজা কিবরিয়া ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ডিভিশন এবং ঢাকা ব্যাংক থেকে প্রেরিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অন্যদিকে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার কারণে কেয়া চৌধুরী এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলার দুটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে হেভিওয়েটসহ আলোচিতরা কেউ বাদ পড়েননি। ঝালকাঠি-১ আসনে স্বতন্ত্র ৬ জনই ১ পার্সেন্ট সমর্থক তালিকায় হেরফের থাকায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— মনিরুজ্জামান মনির, মো. শাহজালাল শামীম, ইয়াছমিন আক্তার পপি, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও নূরুল ইসলাম মুকুল মৃধা। ঝালকাঠি-২ আসনে বাতিল হওয়া একমাত্র প্রার্থী গণফোরামের জাহান শাহ কবির পারভেজ। কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনসহ জেলার ৬টি আসনে ২১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপি থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনে শরীফুল ইসলাম ও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (বিএনপি), অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান (জেএসডি), মো. মোস্তাইন বিল্লাহ (জাতীয় পার্টি), মোহাম্মদ ইউসুফ (বিকল্পধারা)। কিশোরগঞ্জ-২ আসনে এরশাদ উদ্দিন (জাতীয় পার্টি), নূরুল ইসলাম (সিপিবি), মো. লুত্ফুর রহমান (জেএসডি), মো. সালাউদ্দিন রুবেল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মীর আবু তৈয়ব মো. রেজাউল করিম (মুসলিম লীগ), আনিসুজ্জামান খোকন (স্বতন্ত্র)। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে সাইফুল ইসলাম সুমন (বিএনপি), ড. মিজানুল হক (স্বতন্ত্র), ডা. এনামুল হক (সিপিবি), মো. আম্মান খান (স্বতন্ত্র), মো. মনিরুজ্জামান নয়ন (স্বতন্ত্র)। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে সুরঞ্জন ঘোষ (বিএনপি)। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে সেলিনা সুলতানা (জাসদ)। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আয়ুব হুসেন (স্বতন্ত্র) ও মোহাম্মদ মুছা খান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)। খাগড়াছড়ি : মামলার সাজা স্থগিত না হওয়া, দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবং ভুল তথ্য দেওয়ায় খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়াও রয়েছেন। মাদারীপুর : মাদারীপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্রে ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দেওয়ায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা মিঠু, জাতীয় পার্টি মনোনীত জহিরুল ইসলাম মিন্টু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ আবু জাফর ও জাকের পার্টির শাহ নেওয়াজের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মাদারীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল-আমীন মোল্লা ও এম এ কাদের মোল্লার সমর্থিত ব্যক্তিদের ভুয়া স্বাক্ষর আর মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মাদারীপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত এম এ খালেক মনোনয়নপত্রে হলফনামা জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মানিকগঞ্জ : জেলার ৩টি নির্বাচনী আসনে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এ প্রার্থীরা মানিকগঞ্জ-১ আসনে তোজাম্মেল হক (বিএনপি), মোহাম্মদ আতোয়ার রহমান (জাকের পার্টি), মানিকগঞ্জ-২ আসনে মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও আবিদুর রহমান খান রোমান (বিএনপি), এস এম  আবদুল মান্নান (জাতীয় পার্টি) মো. মাসুম মিয়া ও মো. মোশাররফ হোসেন (স্বতন্ত্র) এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আতাউর রহমান আতার (বিএনপি) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নরসিংদী : এ জেলায় ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে নরসিংদী-১ এ ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা মো. ইসহাক, নরসিংদী-২ এ হলফনামা না থাকায় জাসদের প্রার্থী জায়েদুল কবির, ১ পার্সেন্ট ভোটারের সমর্থন তালিকায় ভুয়া স্বাক্ষর থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতামাশ কবির, একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মহসিন আলী ও অসম্পূর্ণ হলফনামার কারণে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এ ছাড়া নরসিংদী-৩ অসম্পূর্ণ হলফনামার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গাজীপুর : এ আসনে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গাজীপুর-১ আসনে মো. কামাল উদ্দিন সিকদার (আওয়ামী লীগ), মো. হুমায়ূন কবির (মুসলিম লীগ), মো. আলী হোসেন মণ্ডল (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ)। গাজীপুর-২ আসনে মো. মাহবুব আলম (জাতীয় পার্টি) ও মো. জয়নাল আবেদীন (জাতীয় পার্টি)। গাজীপুর-৩ আসনে মো. জহিরুল হক মণ্ডল বাচ্চু (জাসদ) ও মো. আ. রহমান (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ)। গাজীপুর-৪ আসনে মনির হোসেন (স্বতন্ত্র), মো. মোশারফ হোসেন (জাতীয় পার্টি)। গাজীপুর-৫ আসনে মো. আবু আশরাফ ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র)। জয়পুরহাট : জয়পুরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলেয়া বেগমের মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমান সদর উপজেলা চেয়াম্যান হওয়ায় তার পদত্যাগপত্রটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগের কপি না আসায় বাতিল করা হয়। লক্ষ্মীপুর :  লক্ষ্মীপুরের ৪টি সংসদীয় আসনের ৪৬ জন প্রার্থীর মধ্যে রামগঞ্জের এমপি লায়ন এম এ আউয়ালসহ ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সিআইবি রিপোর্ট অনুযায়ী ঋণ খেলাপির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি লায়ন এম এ আউয়াল (জাকের পার্টি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহবুব আলমের। তথ্যে অমিল থাকায় লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন), ভোটার তালিকা অনুযায়ী শতকরা ১ ভাগ লোকের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় একই আসনের আবদুল মতিন (স্বতন্ত্র), লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র) এবং  জেলা বিএনপির সদস্য আবুল ফয়েজ ভূঁইয়ার (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মেহেরপুর : মেহেরপুর-১ আসনে ৫ জন এবং মেহেরপুর-২ আসনের ৫ জন করে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়।  মেহেরপুর-১ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া নেতারা হলেন-মিয়াজান আলী, সাবেক এমপি ও অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান। মেহেরপুর-২ আসনে এম এ খালেক, আহমেদ আলী, মোখলেসুর রহমান মুকুল, নুরজাহান বেগম ও ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বরগুনা : বরগুনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান তালুকদার, বরগুনা-২ আসনে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল মনোনীত প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন ও এনপিপি মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নাটোর : যাচাই-বাছাইয়ে নাটোর-১ আসনে সাম্যবাদী দলের বিরেন শাহা, নাটোর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মামলায় সাজা থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। নাটোর-৪ আসনে ঋণ খেলাপির দায়ে জাতীয় পার্টির আলাউদ্দিন মৃধা, সই না থাকায় জামায়াতের দেলোয়ার হোসেন খান ও জাসদের ডি এম আলম ও মুসলিম লীগের একজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের দুটি আসনে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কমিটি। এরা হলেন— পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র তৌহিদুল ইসলাম ও পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ।  পটুয়াখালী : হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনে ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের শতকরা একভাগ ভোটারের স্বাক্ষরসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলে ত্রুটিপূর্ণ ও গড়মিল পাওয়া যায়। একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান খানেরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু নাইম মল্লিকের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রদত্ত আয়-ব্যয়ের হিসাবে কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। ফলে তারও মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী আলমাস হোসেন ও মুসলিম লীগ প্রার্থী মেরিনা আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এ ছাড়া এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর হাকিম ও রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। খুলনা : খুলনায় বিএনপির জেলা সভাপতি শফিকুল আলম মনাসহ চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা-২ আসনে জাপা প্রার্থী এরশাদুর জামান ডলার, খুলনা-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল কাদের ও সুব্রত কুমার বাইন যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন। রাজশাহী : রাজশাহীতে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতাসহ ২৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন— রাজশাহী-১ আসনের ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের নাদিম মোস্তফা ও রাজশাহী-৬ আসনের আবু সাঈদ চাঁদ। এ ছাড়া রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন, স্বতন্ত্র অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাসদের আলফাজ হোসেন, স্বতন্ত্র সুজা উদ্দিন, শহিদুল করিম শিবলী, সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস ও সাইদুর রহমান; রাজশাহী-২ আসনে এনপিপির সাইফুল ইসলাম স্বপন ও স্বতন্ত্র মাসুদ রানা; রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপির মতিউর রহমান মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বতন্ত্র আরেক প্রার্থী আতিকুর রহমান, স্বতন্ত্র মাজেদুর রহমান; রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির আবদুল গফুর ও যুক্তফ্রন্টের সরদার মোহাম্মদ সিরাজুল করিম; রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির আবু বকর সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের ওবায়দুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং রাজশাহী-৬ আসনের বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক। বগুড়া : জেলার সাতটি আসনে প্রার্থী বাছাই শেষে ৮৩ জনের মধ্যে ২৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আলোচিত-সমালোচিত হিরো আলম স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে বাদ পড়েছেন। বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মামলায় সাজাপ্রাপ্ত থাকায় খালেদা জিয়ার মনোনয়ন দুটি আসন থেকেই বাতিল হয়ে যায়। শেরপুর : শেরপুর-১ আসনের জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শেরপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে মুখলেছুর রহমান রিপনের মনোনয়নপত্র উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করার পত্রটি আইনসিদ্ধ না হওয়ায় আপাতত স্থগিত করা হয়। শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাহরোয়ার্দী বাহাদুর লাল ও ইন্তাজ আলীর মনোনয়নপত্র দুটি নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট আসনের এক ভাগ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় বাতিল করা হয়। যশোর : যশোরের ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন যশোর-১ আসনে জাকের পার্টির সাজেদুর রহমান, স্বতন্ত্র মাওলানা আজিজুর রহমান; যশোর-২ আসনে মুহাম্মদ মহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র এবিএম আহসানুল হক, ইসলামী ঐক্যজোটের (নেজামী) শহিদুল ইসলাম ইনসাফী, বিএনএফের আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহ, গণফোরামের মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান, বিএনপির সাবিরা সুলতানা; যশোর-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মফিজুল আলম, জেএসডির বিপ্লব আজাদ, বিএনএফের প্রশান্ত বিশ্বাস, বিকল্পধারার মারুফ হাসান কাজল, স্বতন্ত্র শাহীন চাকলাদার; যশোর-৪ আসনে এনপিপির মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিকল্পধারার নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, জাকের পার্টির লিটন মোল্লা; যশোর-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইবাদুল ইসলাম খালাসী, জাকের পার্টির রবিউল ইসলাম, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ মুসা, জাগপার নিজামুদ্দিন অমিত, স্বতন্ত্র কামরুল হাসান বারী; যশোর-৬ আসনে জাকের পার্টির প্রভাষক সাইদুজ্জামান, স্বতন্ত্র নূরুল ইসলাম, বিএনএফের প্রশান্ত বিশ্বাস এবং স্বতন্ত্র শাহীন চাকলাদার। কুমিল্লা : জেলার ১৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের চার বিদ্রোহীসহ ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এরা হলেন— কুমিল্লা-২ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ; কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে এম মুজিবুল হক, তার ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জুন্নুন বসরী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও তার ছেলে আহসানুল আলম কিশোর; কুমিল্লা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ; কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস এবং কুমিল্লা-১০ আসনে আবদুল গফুর ভূঁইয়া। এদিকে কুমিল্লা-১ আসনে ৩ জন, কুমিল্লা-২ আসনে ৫ জন, কুমিল্লা-৩ আসনে ১০ জন, কুমিল্লা-৪ আসনে ৫ জন, কুমিল্লা-৫ আসনে ৪ জন এবং কুমিল্লা-৬ আসনে ১ জন, কুমিল্লা-৮ আসনে ১ জন, কুমিল্লা-৯ আসনে ৩ জন, কুমিল্লা-১০ আসনে ৩ জন, কুমিল্লা-১১ আসনে ১ জনসহ সর্বমোট ৩৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। কুমিল্লা-৫ (ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং)-এ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ ছাড়া বিএনপির অপর প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহম্মদ ইউনুসের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। এর ফলে এই আসনে এখন শওকত মাহমুদই বিএনপি ও ধানের শীষের একমাত্র বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মো. আবদুল্লাহ বিএনপি, মো. আমিনুল ইসলাম রতন স্বতন্ত্র, মো. সাহাব উদ্দিন স্বতন্ত্র। শেখ আবদুল্লাহর ক্রেডিট কার্ডে ৬ হাজার ৬৭০ টাকা বকেয়া ছিল। সাত দিন আগে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তিন দিন আগে জমা দিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মো. নোমান মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী ফয়সল বিপ্লবের স্ত্রী চৌধুরী ফাহরিয়া আফরিনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্র্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির আটজন, আওয়ামী লীগের একজন এবং জাতীয় পার্টির তিনজন রয়েছেন। ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ১১টি আসনে ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সদর আসনের বিএনপির প্রার্থী ও ড্যাব নেতা ডা. জাহিদ হোসেনের প্রার্থিতা প্রথমে স্থগিত করলেও পরে বাতিল করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ : ৫টি সংসদীয় আসনে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে তথ্যগত ভুল থাকায় বাতিল হয়েছে জাকের পার্টির প্রার্থী মাহফুজুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেহান আফজালের মনোনয়নপত্র। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হানিফ হৃদয়ের। নারায়ণগঞ্জ-৩ আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করলেও দলের সভানেত্রীর চিঠি না থাকায় শফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ পার্সেন্ট ভোটার তালিকার স্বাক্ষর না থাকায় জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী অনন্যা হুসেইন মৌসুমী, গণফ্রন্টের প্রার্থী মো. সিরাজুল হক ও শাহাবুদ্দিন ছাড়াও ঋণখেলাপির কারণে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ পার্সেন্ট ভোটার তালিকা সংযুক্ত না করা ও মামলার বিবরণ না দেওয়ায় ওই মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল হয় স্ট্যাম্প না থাকায়। একই আসনে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের ঋণখেলাপি ও তার ছেলে জিএম কায়সার মনোনয়নপত্র দিলেও সেখানে ১ পার্সেন্ট ভোটার তালিকার স্বাক্ষর না থাকায় বাতিল করা হয়েছে। একই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে জেলা বিএনপির সেক্রেটারি মামুন মাহমুদের। নারায়ণগঞ্জ-৫ কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য