শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৩৩

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর

ভূমি মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নবগঠিত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের সময় আমিও নিজ হিসাব জমা দিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে দেশের সব উপজেলা, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য এখনই মৌখিক নির্দেশ দিচ্ছি। মন্ত্রণালয়ে গিয়েই অফিস অর্ডার বা নোটিস ইস্যু করব। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বা ওই মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সবাই নিজ নিজ সম্পদের হিসাব জমা দেবেন।’ গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশের কথা জানান তিনি। সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘শিগগিরই আগের মতো বিভিন্ন ভূমি অফিসে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু করব। ভূমি অধিগ্রহণের নোটিস ইস্যুর পর যে মামলা হয়, সেগুলোর সঙ্গে ভূমি অফিসের নিচু শ্রেণির কিছু কর্মী জড়িত থাকেন। এ নোটিসের পর মামলার বিষয়ে একটি ভালো সিস্টেম বের করছি। এতে সবার উপকার হবে।’চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেই ধারাবাহিকতায় হাজার হাজার কোটি টাকার কাজও হচ্ছে। রয়েছে কক্সবাজার-ঘুনধুম রেললাইনসহ অনেক বড় বড় প্রকল্প। তিনি বলেন, বে-টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সব বড় প্রকল্পের ভূমি ছাড়ের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কর্ণফুলীর দুই পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সারা দেশে ভূমি অফিসে অনেক সমস্যা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মকর্তাদের সাহস দিতে চাই। মাঠপর্যায়ে হাত দিচ্ছি। উপজেলা, ইউনিয়নের সব ভূমি অফিসকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসব। ভয়েস রেকর্ডিংয়ের সুযোগ রাখব বিভিন্ন পয়েন্টে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকব।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যারা অভ্যাস বদলাতে পারবেন না তাদের কেটে পড়া উচিত। আমি এসেছি সম্মানের জন্য। দুর্নীতি যেদিন স্পর্শ করবে সেদিন হবে আমার শেষ দিন। যে কেউ প্রশ্ন করলে জবাব দিতে বাধ্য থাকব। সবার সেবক হিসেবে থাকতে চাই।’ ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে আমাকে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। তখন অভিজ্ঞতা ছিল না। তবু নিজ উদ্যোগে অনেক কাজ করেছি। ওই সময় অনেক ভালো কাজ করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ে জটিলতা, হয়রানি কাটাতে অটোমেশনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর সুফল পেতে থাকবে মানুষ।’ তদবিরে বিশ্বাস করেন না জানিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘যা কপালে থাকবে তা-ই হবে। তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, সততার বিকল্প নেই। শুভানুধ্যায়ীরা বিব্রত বোধ করেন এমন কোনো কাজ করব না। দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব। প্রধানমন্ত্রী আমাকে পূর্ণ মন্ত্রী করে পুরস্কার দিয়েছেন। আমি সততা, দক্ষতা, স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে কাজ করব।’ তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় একসময় ছিল ডাম্পিং  স্টেশন। কিন্তু এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ বছরের মধ্যে এটিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসব। অটোমেশনসহ সব উদ্যোগ গতিশীল করব। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারব। চট্টগ্রাম থেকে তিনজন মন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রী মিলে সারা দেশের পাশাপাশি এ জনপদের উন্নয়নে কাজ করব। মিলেমিশে কাজ করার আনন্দ অনেক। জনগণকে ভালো কিছু দেওয়ার মধ্যেই আমাদের তৃপ্তি।’ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, নির্বাহী সদস্য শহীদ উল আলম, ম. শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক পঙ্কজ কুমার দস্তিদার, তপন চক্রবর্তী, মোস্তাক আহমেদ, এম নাসিরুল হক, এজাজ মাহমুদ, শফিউল আলম, একরামুল হক, আলমগীর সবুজ, সুমন দাশ, আলমগীর অপু প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য