শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৬

ইয়াবার নতুন রুট বান্দরবান

কবির হোসেন সিদ্দিকী, বান্দরবান

বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়িতে সহজলভ্য হয়ে পড়েছে মরণ নেশা ইয়াবা। টেকনাফের পর ইয়াবা কারবারিদের জন্য এটি এখন নিরাপদ রুট। নাইক্ষ্যংছড়ির অন্তত দেড় শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে। যাদের চূড়ান্ত কোনো তালিকার মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অভিযানে একটি গোয়াল ঘর থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের পর এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নাম আবারও উঠে এলো। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নাইক্ষ্যংছড়ি-কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়ার একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে চাকঢালা-আশারতলী-ফুলতলী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা এনে তা পাচার করছিল। এই সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। জানা গেছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মাদক পাচারের অন্যতম রুট রয়েছে অন্তত ৯টি। বিশেষ করে আশারতলী, চেরারকূল, কম্বনিয়া, প্রধানঝিরি, ফুলতলী,  দৌছড়ি পাইনছড়ি, কোলাচি, বাইশফাড়ি, তুমব্রু, সোনাইছড়ি, নিকুছড়ি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিঘ্নে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতিপূর্বে নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিয়ে পুলিশের জেলা বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে। যেখান থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের বিশেষ প্রতিবেদনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২১ জনের নাম রয়েছে। এরপর ২০১৬ সালে ৭১ জনের আরও একটি তালিকা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৈরি করে। যদিও ২০১৩ সালের পর নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবার আরও বিস্তার ঘটেছে। এখানকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী মহলের কাছের লোক হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছে না। এই প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আসাদুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিজিবি’র ডিজি’র নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ করে ইয়াবা চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। শুধু মাদক নয়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র পাচার, অবৈধ কাঠ পাচার ও পরিবহন, অন্যান্য অবৈধ পণ্যসহ যে  কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মুলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রসঙ্গত, সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসা বিস্তারের পর নাইক্ষ্যংছড়ির একাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবাসহ আটক হলেও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াবা ব্যবসায়ী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।


আপনার মন্তব্য