Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০১৯ ২২:৪৬

আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বিজেপির শরিক দলের সঙ্গে বৈঠক

ইসিতে কংগ্রেসসহ ২২টি দলের ইভিএম নিয়ে উদ্বেগ

নয়াদিল্লি ও কলকাতা প্রতিনিধি

আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বিজেপির শরিক দলের সঙ্গে বৈঠক

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের গণনা আগামীকাল। কিন্তু তার আগেই গতকাল বিজেপি তার জোট এনডিএ’র শরিক দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বিজেপির সদর দফতরে এ বৈঠক হয়। এদিকে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে গতকাল ইভিএম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কংগ্রেসসহ ২২টি বিরোধী দল।

শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের নেতাদের নিয়ে দিল্লির অশোক-এ নৈশভোজের আয়োজন করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। নৈশভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, নীতিন গড়কড়ি, মনোজ সিনহা, বিজয় গোয়েল, জিতেন্দ্র সিং, পীযূষ গোয়েল, রামদাস আত্তালের মতো ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা। এছাড়াও নৈশভোজে হাজির ছিলেন শরিক দল লোক জনশক্তি পার্টির নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসওয়ান, আকালি দল নেতা প্রকাশ সিং বাদল, জেডিইউ সভাপতি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের মতো এনডিএ’র শরিক দলের নেতারা।

ফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে জোট শরিক দলগুলোকে নিয়ে ফল প্রকাশ-পরবর্তী কৌশল অর্থাৎ পরবর্তী সরকার গঠনের রূপরেখা, সরকারের অভিমুখ নিয়ে আলোচনা করার জন্যই এই বৈঠকের ডাক দিয়েছেন অমিত। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েও বিজেপির শীর্ষ নেতারা শরিক দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও সেরে ফেলেছেন বলে খবর।

ভোটের ফল ঘোষণার আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ভোট গণনার দিনও যদি বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস মিলে যায় সেক্ষেত্রে কেন্দ্রে আগামী ৫ বছরের জন্য এনডিএ শরিকদের শক্তি কিছু খর্ব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় শরিক দলের কতজন জায়গা পাবেন বা নিজেদের পছন্দমতো তারা মন্ত্রণালয় পাবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে এক বৈঠক হয়। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর ডাকা ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যরা ও এলজেপি নেতা রামবিলাস পাসওয়ান, আকালি দলের নেতা মন্ত্রী হরসিমরাত কউর বাদল, আপনা দল নেত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেলের মতো শরিক দলের নেতারা। গত পাঁচ বছর ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা দেশের জন্য যে সেবা দিয়েছেন, যে কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তার কৃতজ্ঞতা জানান। 

ইভিএম নিয়ে উদ্বেগ : বুথফেরত জরিপের পর পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী শরিকদের নিয়ে যখন আলোচনা চালাচ্ছিলেন মোদি-অমিত শাহসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা- ঠিক তখন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেসসহ ২২টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও ভোটার ভেরিফায়েড পেপার ট্রেইল মেশিন (ভিভিপ্যাট) নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাতেই কমিশনে আসেন বিরোধীরা। এদিন বিকালে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে ভোট গণনা শুরুর আগেই ভিভিপ্যাট যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। এ ব্যাপারে বিরোধী দলের তরফে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা ইসিকে বলেছি যে, ভিভিপ্যাট যন্ত্রগুলোকে প্রথমেই গণনা করতে হবে এবং সেখানে যদি কোনোরকম গরমিল থাকে সেক্ষেত্রে ওই অংশের সব ভিভিপ্যাট যন্ত্রগুলোই গণনার আওতায় আনা উচিত।’

ইভিএম নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু।

নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা : প্রণব ॥ যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কমিশনের কাজেরই প্রশংসা করলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। তার অভিমত নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। সোমবার দিল্লিতে ‘ডিফাইনিং ইন্ডিয়া থ্রু দেয়ার আইজ’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক অনুষ্ঠানে প্রণব বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানই সুন্দর এবং বহু বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। আমি মনে করি কেবল একজন খারাপ কর্মীই তার যন্ত্রপাতির সঙ্গে ঝগড়া করেন। আর একজন ভাল কর্মী জানেন কীভাবে এসব যন্ত্রপাতিকে ব্যবহার করতে হয়।’ তিনি আরও জানান, ‘আমরা যদি আমাদের প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে চাই, তবে এটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ওই প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশে খুব ভালো পরিসেবা দিচ্ছে এবং গণতন্ত্র যদি সফল হয় তবে তার কৃতিত্ব সুকুমার সেন থেকে শুরু করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে ইসির নিখুঁত পরিচালন দক্ষতা। তারা প্রত্যেকেই ভালো কাজ করে চলেছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে নিজের রাজনৈতিক জীবন কংগ্রেসের সঙ্গে কাটিয়েছেন প্রণব মুখার্জি। এমন একটা সময় তিনি মন্তব্য করলেন যখন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী থেকে শুরু তৃণমূলসহ অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হয়ে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যকে এম জে আকবর, মুক্তার আব্বাস নাকভি, পুনম মহাজনের মতো বিজেপি নেতারা সমর্থন জানালেও কংগ্রেস মুখপাত্র পিএল পুনিয়া সমালোচনা করেছেন।


আপনার মন্তব্য