Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুন, ২০১৯ ২৩:১২

সারা বছর পণ্য মান পরীক্ষার নির্দেশ হাই কোর্টের

ক্ষমা চাইলেন খাদ্য কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমা চাইলেন খাদ্য কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান

ঢাকাসহ সারা দেশে নামি-দামি ব্র্যান্ডের সব পণ্যের মান ঠিক রাখতে বছরজুড়ে এর ল্যাব পরীক্ষা করতে  নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। বিএসটিআইকে নিয়মিতভাবে এ পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। এদিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে হাই কোর্টের আদেশ অমান্য করার দায় থেকে পার পেয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক। বিএসটিআইকে উদ্দেশ করে আদালত বলেছে, আপনাদের মতো আমাদেরও অনেকের সঙ্গে পরিচয় আছে। এ রকম অভিযোগ পাই যে, পণ্যের ওপর ল্যাব পরীক্ষা করার আগে লেনদেন হয়ে থাকে। যদি এ রকম কিছু শুনতে পাই তাহলে দুদকে নয়, সরাসরি কারাগারে পাঠিয়ে দেব। এই লেনদেনের সঙ্গে যত বড় কর্মকর্তাই জড়িত থাকুক না কেন। এ ছাড়া ভেজাল খাদ্যপণ্য ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি রাখার বিষয়ে ভোক্তারা যাতে যে কোনো সময় অভিযোগ জানাতে পারে সেজন্য দুই মাসের মধ্যে হটলাইন সার্ভিস চালু করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, ওই হটলাইন চালুর পূর্ব পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার সংক্ষরণ অধিদফতরের একটি নম্বর (০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৩৩৩ এবং জাতীয় হটলাইন ৯৯৯-এর মাধ্যমে ভোক্তারা যাতে ছুটির দিনসহ ২৪ ঘণ্টাই অভিযোগ জানাতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট এই আদেশের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন নিরাপদ খাদ্যের চেয়ারম্যান : ভেজাল ও মানহীন পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করেছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক। সে কারণে তলব আদেশে গতকাল তিনি হাই কোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কামাল-উল আলম বলেন,  আমাদের জনবল সীমিত। এরপরেও আমরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিছু পণ্য বাজার থেকে জব্দ করেছি। আদেশ বাস্তবায়ন করেছি। আদালত বলে, যখন বাস্তবায়ন করার দরকার ছিল তখন করেননি। আর যিনি হাজির হয়েছেন তাকে শাস্তি দেওয়া আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নয়। আদালত বলে, টেস্ট রিপোর্ট দেখে মনে হচ্ছে বাজারে কোনো পণ্যই পিউর নেই। অথচ সরকারি সংস্থাগুলো  আইন প্রয়োগ করছে না। এরপরই আদালত নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়।

অধিকার লঙ্ঘিত হলে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা আছে : হাই কোর্ট বলে, যেখানে ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সেখানে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা আছে। এমনকি টিকিটের মূল্য বা আইনজীবী যদি মক্কেলের কাছ থেকে বেশি ফিস নেয় সেটা  দেখারও সুযোগ রয়েছে এই সংস্থার। এই সংস্থার উচিত এখন থেকে উপজেলা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করার। সেখানে ভেজাল ও মানহীন পণ্য রয়েছে।

বাজার থেকে স্যাম্পল নিয়ে পণ্য পরীক্ষা করতে হবে : বিএসটিআইয়ের উদ্দেশে হাই কোর্ট বলে, কোম্পানিগুলোর দেওয়া স্যাম্পলের ভিত্তিতে ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করে ৫২ পণ্যের মধ্যে ২৬টি মান উত্তীর্ণ করেছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো মান ঠিক না রেখে পণ্য বাজারে ছাড়তে পারে। সেজন্য বাজার থেকে দফায় দফায় স্যাম্পল সংগ্রহ করে পণ্যের ল্যাব পরীক্ষা করতে হবে। শুনানিকালে আদালতে বিএসটিআইয়ের পক্ষে আইনজীবী সরকার এম আর হাসান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষে কামরুজ্জামান কচি ও সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মাসুম আরেফিন এবং রিটকারী আইনজীবী সিহাব উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেন।


আপনার মন্তব্য