শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৩

রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদদের হাতে নেই

------ তোফায়েল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদদের হাতে নেই

সদ্যপ্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের শোকসভায় আওয়ামী লীগের  উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, কিংবদন্তিতুল্য রাজনীতিবিদ ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তিনি বঙ্গবন্ধুর বন্ধু ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যেমন সততার প্রশ্নে কোনো আপস করেননি তেমনি অধ্যাপক মোজাফফরও আপস করেননি। তাঁর মতো সৎ রাজনীতিবিদ পাওয়া খুব কঠিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। সত্যিকারের রাজনীতিবিদ এখন কমই পাওয়া যায়। জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব। যুগে যুগে এভাবেই স্বৈরশাসকরা রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গতকাল অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের শোকসভার আয়োজন করে তারই দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির কার্যকরী সভাপতি আমিনা আহমদ। বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, জাতীয় পার্টি-জেপি সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ নেতা শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাহাদাত হোসেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের কন্যা আইভি আহমদ প্রমুখ। তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ জাতীয়ভাবে সমাহিত না হলেও তিনি জাতীয় নেতা। এ জাতির মহান নেতা। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নাম ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, কিংবদন্তিতুল্য এই রাজনীতিবিদের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। তিনি রাজনীতি করেছেন আদর্শের জন্য। ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছিলেন কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। অথচ এখন ছাত্রনেতাদের নামেও টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির কথা শোনা যায়। আমরা যখন ছাত্ররাজনীতি করেছি এসব ভাবতেও পারিনি। আমরা একটি আদর্শের জন্য রাজনীতি করেছি। রাশেদ খান মেনন বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বলেছিলেন, রাজনীতি পেটনীতি নয়। রাজনীতিকে টাউট-বাটপারদের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারলে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে থাকবে না। আজ আমরা কী দেখছি? রাজনীতি এখন লুটেরাদের দখলে। আ স ম আবদুর রব বলেন, এমন দুর্নীতিগ্রস্ত গণতন্ত্রের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এমন দুর্নীতিগ্রস্ত গণতন্ত্র চাননি। তিনি চেয়েছেন ধর্মকর্ম-সাম্যের রাজনীতি। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ইতিহাসের নেতা সবাই হতে পারে না। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ শুধু জাতীয় নেতা নন, তিনি ইতিহাসের নেতা। তাদের আমলে রাজনীতিবিদরা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন, এখন রাষ্ট্রযন্ত্র রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির লক্ষণ। হাসানুল হক ইনু বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করতেন না। অন্য কেউ সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রতিও সমর্থন দিতেন। ’৭৫-এর পরও প্রতিবাদ করতে দ্বিধা করেননি। তিনি ক্ষণে ক্ষণে মত বদলাতেন না। আজ রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ইঁদুরেরা মানচিত্রটাকে পোকায় কাটা মানচিত্রে পরিণত করার চক্রান্ত করছে।


আপনার মন্তব্য