শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪১

অবশেষে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তুরিন আফরোজকে অব্যাহতি

ফৌজদারি মামলার ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তুরিন আফরোজকে অব্যাহতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গতকাল তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে,  বোরকা পরে আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠক, আসামিকে মামলার নথি হস্তান্তর এবং আসামির সঙ্গে মামলার মেরিট নিয়ে আলোচনাসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে। গতকাল এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ। উপ-সলিসিটর এস এম নাহিদা নাজমীন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের দায়ে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত নিয়োগ বাতিলক্রমে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হলো। গত বছর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর প্রসিকিউশন টিমের সব কর্মকা- থেকে তাকে বিরত রাখা হয়।

এদিকে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। প্রজ্ঞাপন জারির পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধীর সঙ্গে তুরিন আফরোজ যে কথা বলেছেন তার রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। সেখানে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার (তুরিন আফরোজ) গলা প্রমাণিত হওয়ায় আমরা তাকে অপসারণ করেছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা এটা জানেন যে, তার (তুরিন আফরোজ) বিরুদ্ধে অভিযোগের নিউজ অনেক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি একজন আসামির সঙ্গে (যেই মামলা তিনি নিজেই করছিলেন) আলাপ-আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় তিনি এও বলেছিলেন যে, এ মামলার কোনো সারবর্তা (ম্যারিট) নেই। আইনমন্ত্রী বলেন, সেই কথোপকথনের টেপ রেকর্ড করা হয়। কথোপকথনের টেপ রেকর্ড এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউশন আমাদের নিকট পাঠায়। আমরা এটা নিয়ে সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছি। একই সঙ্গে উনার (তুরিন আফরোজ) যতটুকু কথা বলা প্রয়োজন মনে করেছি, কথা হয়েছিল। কিন্তু যেই সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে সেগুলো অল আর ডকুমেন্ট্রি।

ফৌজদারি মামলার ইঙ্গিত : ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। আইন মন্ত্রণালয় থেকে তুরিন আফরোজের অব্যাহতির আদেশ জারির পর তিনি বলেন, পেশাগত অসদাচরণের দায়ে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার।

যে কারণে অব্যাহতি : অভিযোগ ওঠে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এনএসআই ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক ডিজি মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হক গ্রেফতারের আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তুরিন আফরোজ প্রথমে তাকে টেলিফোন করে দেখা করার সময় চান। এরপর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেন তিনি। এ-সংক্রান্ত দুটি অডিও রেকর্ড পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত সংস্থার হাতে এলে তা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে হস্তান্তর করা হয়। অডিও রেকর্ড দুটি ওয়াহিদুল হক গ্রেফতার হওয়ার পর তার মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, দুটি অডিওর মধ্যে একটি টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ড। এটার দৈর্ঘ্য চার মিনিটের মতো। অন্য অডিওটি ওই গোপন বৈঠকের, প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টার মতো। টেলিফোনে কথা হয় ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর আর বৈঠকটি হয় ঢাকার অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্তোরাঁর গোপন কক্ষে পরদিন, অর্থাৎ ১৯ নভেম্বর। সেখানে তুরিন আফরোজ, তার সহকারী ফারবি, আসামি ওয়াহিদুল হকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দেন তুরিন আফরোজ। পরে ওইসব অডিও রেকর্ড আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। এরপর গত বছরের ৯ মে তুরিন আফরোজকে ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। অভিযোগের তদন্ত শেষে গতকাল তুরিন আফরোজকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর