শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৮

অভিনব এক চেক প্রতারক

৫০ হাজার টাকা ধার দিয়ে আড়াই কোটি টাকার চেক লিখে নেয়

মাহবুব মমতাজী

অভিনব এক চেক প্রতারক

৫০ হাজার টাকা ধার দিয়ে আড়াই কোটি টাকার চেক লিখে নেয় নিজের নামে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই প্রথমে উকিল নোটিস, পরে মামলা। নিজের নামে অর্থ ও জমি বাগিয়ে নিতে ছাড়েননি মা ও ভাইকেও। এখন পর্যন্ত তার এই চেক প্রতারণার শিকার হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই ঠুকে দেন মিথ্যা মামলা। গত ২৮ নভেম্বর এই প্রতারককে রাজধানী থেকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। এই অভিনব চেক প্রতারক হলেন লক্ষ্মীপুরের সামসুল হুদা (৪৮)। নিজেকে ইমাম হিসেবে পরিচয় দিলেও এর অন্তরালে তিনি একজন চেক প্রতারক। প্রথমে অন্যের সমস্যা সমাধানের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। পরে খালি চেক চেয়ে নিজেই বসিয়ে নেন টাকার পরিমাণ। এভাবেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে সৌদি আরব গিয়ে মক্কার একটি উপশহরে মসজিদে ইমামতি করতেন। ২০১২ সালে তিনি দেশে আসেন। জমানো টাকার কিছু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন। এখানে তিনি ২০১৩ সালে কিছু টাকা ধরাও খান। এ সময় থেকে অর্থের প্রতি তার লোভ বেড়ে যায়। প্রথমে তিনি তার তিন ভাইকে টার্গেট করেন। একেকজনকে অল্প কিছু টাকা দেন। এরপর তাদের ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে বলেন। আর টাকা নেওয়ার বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে চেক জমা নেন। বিভিন্ন কায়দায় খালি চেক নেন। এক ভাইয়ের কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকা, অন্য দুই ভাইয়ের চেকে ৩৮ লাখ টাকা লিখে নেন। এভাবে তাদের বিরুদ্ধে চেক ডিজ অনারের মামলা করেন। প্রতিটি মামলা তিনি ঢাকাতে করেছিলেন। পরে মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তিন ভাই ও তার মায়ের জায়গা-জমি লিখে নেন। তার এক ভায়রা থাকেন গাজীপুরের শ্রীপুরে। তাদেরও তিনি টার্গেট করেন। তার সেই ভায়রা ও তার স্ত্রীর এক ভাইকে পর্যায়ক্রমে ১৭ লাখ, ১৯ লাখ করে টাকা ধার দেন। জামানত হিসেবে তাদের কাছ থেকেও চেক জমা নেন। ওই টাকা দেওয়ার এক সপ্তাহ পরেই ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে একটা উকিল নোটিস পাঠান। এসব ঘটনার কিছু দিন পর ৩/৪ বছরের পরিচিত শান্তিনগর জামে মসজিদের ইমাম মোবারক হোসেনকেও ৫০ হাজার টাকা ধার দেন। ধার দেওয়ার সময় তাকে ব্যাংকে নিয়ে যান সামসুল। বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দেবেন। ব্যাংকে যাওয়ার পর মোবারকের কাছ থেকে একটি চেক জমা নেন। যখন তিনি চেকে স্বাক্ষর করেন, তখন টাকার অঙ্ক লেখার আগে তাকে টাকা গুনতে দেন। এ সুযোগে মোবারকের ব্লাঙ্ক চেক নিয়ে সামসুল চলে আসেন। ওই চেকে সামসুল ৫০ হাজারের স্থানে আড়াই কোটি টাকা উল্লেখ করেন। এর সাত দিন পর ঢাকার জজ কোর্টের এক উকিলের নোটিস পান মোবারক। পরে তিনি ওই উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, আপনি এটা কি নোটিস দিয়েছেন, এ বিষয়ে তো আমি কিছুই জানি না। এ পরিস্থিতিতে গত জুনে সামসুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন মোবারক। ওই মামলায় গত ২৬ জুন সামসুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামসুল হুদা জানিয়েছেন, ব্যাংক চেক নিয়ে তিনি নিজের মতো টাকা বসিয়ে মামলা দিতেন। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, সে বিভিন্নজনের সঙ্গে প্রতারণা করে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হতো তারা নিজের জায়গা-জমি, পালের গরু বিক্রি করে টাকা দিয়ে আপস করত। তার কাছ থেকে নিজের মা, ভাই-বোনেরাও রক্ষা পায়নি। এমনকি মোবারককে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলে তার বাড়ি লিখে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর