শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৫

টিআইবি বলছে রাজউক ও দুর্নীতি সমার্থক, মন্ত্রী বললেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

টিআইবি বলছে রাজউক ও দুর্নীতি সমার্থক, মন্ত্রী বললেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

রাজউক ও দুর্নীতি- এখন সমার্থক বলে মনে করেন দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সংস্থা টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি গবেষণা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দুর্নীতিতে একাকার। অনিয়ম ছাড়া সেবা পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বিরল। নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা বাদ দিয়ে মুনাফা অর্জনকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে রাজউক। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য নিরপেক্ষ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতায়িত এবং প্রভাবমুক্ত সম্পূর্ণ পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তবে অনলাইনে নকশা অনুমোদন, ই-নথি কার্যক্রমসহ প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা প্রদানে রাজউকের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। অপরদিকে সংস্থাটির এই গবেষণা প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন টিআইবি গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা রহমান এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাতেমা আফরোজ।  সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এখন এমন একটা ধারণা করা হয় যে, রাজউক আর দুর্নীতি সমার্থক। রাজউক এতদিনেও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারেনি। এমনকি রাজউক নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রতিষ্ঠানও নয়। রাজউকের ওপর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার যে দায়িত্ব অর্পিত, তারা তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাজউক এখন তার মূল ভূমিকা থেকেই সরে গেছে। তাই রাজউকের দুর্নীতির বিষয়গুলো দুদকের গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের নামে মুনাফা অর্জন ও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা আলাদা করতেই হবে।

প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : রাজউক নিয়ে সকালে টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুপুরে সচিবালয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, রাজউকে সেবা নিতে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লাগে। এই বক্তব্যটি কোনোভাবে সত্য নয়, এর কোনো ভিত্তি নেই। নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ খারিজ করে তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী হওয়ার পর আজ পর্যন্ত কোনো নিয়োগই হয়নি। নিয়োগ না হলে রাজনৈতিক প্রভাবের অবকাশ আসল কোথা থেকে? নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে, আমরা এখন পর্যন্ত অ্যাডমিট কার্ডও ইস্যু করিনি। এর ভিতরে তারা বললেন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা, এটাতে তারা দুর্নীতির একটি অভিযোগ হিসেবে উত্থাপন করেছেন। মন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজউকে আইন করে দেওয়া হয়েছে, যে কোনো সেবা নিতে গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর