শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৪

আড়াই বছরে আনিসের যত চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই বছর ছয় মাস ২৪ দিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্বে ছিলেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। এ অল্প সময়েই নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেন স্বপ্নবাজ এই মেয়র। দৃঢপ্রত্যয়ী আপসহীন ব্যক্তিত্ব, দুর্নীতিমুক্ত নগর ভবন, জন-অগ্রাধিকারে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে প্রকল্প নির্ধারণসহ অসংখ্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। আনিসুল হকের কর্মউদ্যমের চমক লেগেছে নগরে, নগরবাসীর মনে। এ অল্প সময়ে আনিসুল হকের নেওয়া যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হলো :

তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল উচ্ছেদ : বহু বছর ধরে সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশের সড়কগুলোয় অবৈধভাবে ট্রাক রাখা হতো। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সড়কজুড়ে লেগে থাকত দীর্ঘ যানজট। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক সড়কটি দখলমুক্ত করতে গিয়ে ট্রাকশ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। সেদিন ট্রাকস্ট্যান্ডে ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন মেয়রকে। ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘কয়েকটি কাজ আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে করেছি। শহরের মধ্যে তেজগাঁও, সাতরাস্তা অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে আমার এবং ছয় সহকর্মীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। ঘরে ফিরে যেতে পারব কিনা জানতাম না। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাহস নিয়ে এগিয়ে গেছি।’ আনিসুল হকের উদ্যোগে ডিএনসিসির আরও আটটি এলাকা পার্কিংমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে গাবতলী, কল্যাণপুর, আমিনবাজার, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড অন্যতম। মোনায়েম খানের অবৈধ দখল করা বাড়ি উদ্ধার : ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতাবিরোধী মোনায়েম খানের পরিবারের অবৈধ দখল থেকে ১৪ কাঠা জমি উদ্ধার করেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। বিমানবন্দর সড়ক ও বনানী ২৭ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে ১১০ নম্বর প্লটসংলগ্ন অবৈধ দখলে থাকা জায়গাটি দখলমুক্ত করায় বেড়েছে সড়কের প্রশস্ততা। উদ্ধার করা জায়গা নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন আনিসুল হক। ছয় কোম্পানির ৪ হাজার বাস : রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছয়টি নির্দিষ্ট কোম্পানির ৪ হাজার বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন আনিসুল হক। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে আনিসুল হক পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেন। বর্তমানের শখানেক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চেয়েছিলেন আনিসুল হক। পরীক্ষামূলকভাবে গুলশানে চালু করেছিলেন ‘ঢাকা চাকা’। বাস নামানোর কাজ সিটি করপোরেশনের নয়। নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মেয়র আনিসুল হক তাঁর দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যানজট নিরসনে ১১ ইউটার্ন : রাজধানীর যানজট নিরসনে সাতরাস্তা-গাজীপুর পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন তৈরির প্রকল্প নিয়েছিলেন আনিসুল হক। পরিকল্পনা ছিল যানজট ও দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাত্রীদের নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার। এর মধ্যে তিনটি চালু হয়েছে। এর সুফল পাচ্ছে যাত্রী পরিবহনসহ সাধারণ মানুষ। এলইডি বাতি ও সিসি ক্যামেরা : ডিএনসিসি এলাকাকে আলোঝলমলে ও নিরাপদ করতে এলইডি বাতি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। নিরাপদ রাস্তা, সুন্দর ফুটপাথের ব্যবস্থা করেছিলেন আনিসুল হক। গ্রিন ঢাকা ক্লিন ঢাকা : এ স্লোগান দিয়ে নগরবাসীর ভোট চেয়েছিলেন আনিসুল হক। নির্বাচিত হওয়ার পর নগরে সবুজায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দিয়েছিলেন তিনি। ফুটওভার ব্রিজ, সড়ক বিভাজনে লাগানো হয়েছিল বাগানবিলাসসহ বাহারি ৫ হাজার গাছ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ৫৫টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করেছিলেন। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্লান্ট তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়েছিলেন আনিসুল হক। নগরীতে ১০০ অত্যাধুনিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩০টির বেশি নগরবাসী এখন ব্যবহার করছে। সেবা সংস্থার সমন্বয় সভা : রাজধানীবাসীকে সেবাদানকারী ২৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় করতে নিয়মিত সভা করতেন আনিসুল হক। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিপত্র জারি করার জন্য ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট ২৬টি সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে প্রথম সমন্বয় সভা করেন তিনি। ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি ডিএনসিসি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা ওয়াসা ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে আরেকটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঠিকাদারদের বিল পৌঁছানোর উদ্যোগ : নগর ভবনে বিলের জন্য যেন ঠিকাদারদের ঘুরতে না হয় সে ব্যবস্থা করেছিলেন মেয়র আনিসুল হক। এজন্য প্রতিটি বিলের চেক ঠিকাদারদের অফিসে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। এতে দালাল ও রাজনীতির বলয়মুক্ত হয়েছিল নগর ভবন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর