শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩১

সাংবাদিকদের ওপর হামলা পরিকল্পিত

রিমান্ডে তিন বন্ড সন্ত্রাসী একজনের স্বীকারোক্তি

আদালত প্রতিবেদক

সাংবাদিকদের ওপর হামলা পরিকল্পিত

পুরান ঢাকার নয়াবাজারে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তিন বন্ড সন্ত্রাসীকে একদিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জিয়াউর রহমান রিমান্ডের এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন গোলাম মোস্তফা সুমন, ইলিয়াস কবির জনি ও মোহাম্মদ সাব্বির। এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আরেক বন্ড সন্ত্রাসী মেহেদী হাসান নয়ন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নয়ন তার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাংবাদিকদের ওপর  হামলা হয়। গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার মেহেদী হাসান নয়ন এই স্বীকারোক্তি দেন। আসামি নয়নসহ মোট চারজনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম মিয়া আসামি নয়নের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। ভারপ্রাপ্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের কাছে পাঠান। পরে হাকিমের খাসকামরায় নয়ন জবানবন্দি দেন। হাকিম আসামিকে যথেষ্ট সময় দিয়ে নয়নের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন। আদালত সূত্র জানায়, আসামি নয়ন সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতকে জানান, তিনি নিজেও বন্ড সুবিধায় আনা কাগজের ব্যবসা করেন। বেশ কিছুদিন ধরে বন্ড সুবিধায় আনা কাগজের কেনাবেচা নিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন নিউজ করছেন। বিষয়টিতে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হন। মঙ্গলবার কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট তাদের নয়াবাজার ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সাংবাদিকরা আসতে পারেন এটা জেনেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে পাহারা বসান। সাংবাদিকরা এলে হামলা করা হবে এই পরিকল্পনা করা হয়। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নয়ন ও তার সঙ্গে থাকা অনেকে নয়াবাজারের কাছে বাবুবাজার মাজার-সংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে নিউজ টোয়েন্টিফোরের একটি গাড়ি দেখেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েন। গাড়ি থেকে দুজন সাংবাদিককে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়িভাবে তারা মারতে থাকেন। এ সময় গাড়ি ভাঙচুরও করেন তারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, নয়ন তার স্বীকারোক্তিতে এই হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন তাদের নাম বলেছেন। পরিকল্পনায় অংশ নেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, যারা বন্ড সুবিধায় আনা কাগজের ব্যবসা করেন। যারা হামলায় অংশ নেন তারা ওই সব ব্যবসায়ী নেতার নির্দেশে এ কাজ করেছেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল, অভিযান যেখানে চলছিল সেখানে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। নয়ন যাদের নাম বলেছেন, সূত্র তাদের নাম প্রকাশ করেনি। নাম প্রকাশ করলে আসামিদের গ্রেফতার করা কঠিন হবে এ কারণেই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে আসামিদের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স¦ার্থে মূল রহস্য উদ্্ঘাটনসহ বাদীর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং হামলার ঘটনা সংগঠনকারীদের গ্রেফতার করে পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের লক্ষ্যে এই আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। মঙ্গলবার বন্ড চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। হামলায় আহত হন নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক ফখরুল ইসলাম ও ক্যামেরাপারসন শেখ জালাল। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলাম বংশাল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের একটি অভিযানের সংবাদ কাভার করতে নয়াবাজারে যাই। আমাদের দেখামাত্র ৭০-৮০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করে। তারা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং গাড়িতে থাকা লাইভ করার ডিভাইস, মেমোরি কার্ড ও ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’ মামলা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ওই হামলার সময় বন্ড সন্ত্রাসীদের একটি সংঘবদ্ধ দল সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও ব্যাকপ্যাক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ভাঙচুর করে তাদের বহনকারী গাড়িও। হামলার আগে চোরাকারবারিরা অভিযান পরিচালনাকারী কাস্টমস বন্ড কর্মকর্তাদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাদের মুক্ত করেন। এরপর পুলিশের সহায়তায় পুনরায় অভিযান চলে। জানা গেছে, বন্ড সুবিধা নিয়ে আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিল নয়াবাজারের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। তখন বন্ড সন্ত্রাসী বাহিনী কাস্টমস কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। পরে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পরিদর্শক (অপারেশনস) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং ছিনতাই করা ক্যামেরা উদ্ধার করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর