শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৪

সার্ক নেতাদের ভিডিও কনফারেন্স

ঐক্যবদ্ধভাবে সবকিছু মোকাবিলার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐক্যবদ্ধভাবে সবকিছু মোকাবিলার সিদ্ধান্ত
করোনাভাইরাস নিয়ে করণীয় ঠিক করতে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সার্ক দেশের নেতারা -বাসস

সার্কভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মপন্থা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো এই রোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন সার্ক দেশগুলোর সরকার প্রধানরা। নিজ নিজ দেশে নেওয়া কাজের অভিজ্ঞতাও বিনিময় করেন তারা। সার্ক নেতারা এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বিনিময়ের ওপর জোর দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে সাড়া দিয়ে গতকাল বিকালে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেয় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে এ পর্যন্ত ১৫০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবে রাজাপক্ষে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা।

ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে একজোট হয়ে রুখতে হবে করোনাভাইরাসকে। পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্ক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন মোদি। মোদি ‘কভিড-১৯ ইমারজেন্সি ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে ভারত ১ কোটি ডলার দিয়ে এই তহবিলের শুরুটা করতে পারে। এই তহবিলের অর্থ ব্যয়ে সমন্বয়ের কাজটি ভারতের দূতাবাসগুলো করতে পারে বলে প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্ক দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেজন্য একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, যেন ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারি। বাংলাদেশ এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে, যদি আপনারা একমত হন। একটি ফোরাম গঠন করা যেতে পারে। আমরা আমাদের বিশেষজ্ঞদের শেয়ার করতে প্রস্তুত আছি। লজিস্টিক সাপোর্ট দেব, যদি প্রয়োজন হয়। কভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপ অন্য রাষ্ট্রনেতাদের কাছে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করব, এই ভিডিও কনফারেন্স করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমাদের লড়াইয়ে নতুন পথ দেখাবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবাই প্রস্তুত থাকুন, কিন্তু আতঙ্ক নয়, এই আমাদের মন্ত্র হওয়া উচিত। আমাদের গাছাড়া মনোভাব পরিহার করতে হবে। তাহলেই আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে। ভিডিও কনফারেন্সে এই অঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা এক হলে নিশ্চয়ই সুফল পাব। এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিষেবায় কিছু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে তৈরি থাকতে হবে, একসঙ্গে কাজ করতে হবে। করোনাভাইরাস রুখতে ভারত সরকার কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তাও জানান তিনি। নরেন্দ্র মোদি বলেন, ধাপে ধাপে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা করোনাভাইরাস আতঙ্ক দূর করতে ভারতের জন্য সহায়ক হয়েছে। দেশজুড়েই করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার শুরু হয়েছে এবং চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কাজও চলছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিনিং, সংক্রমণ খুঁজে বের করা, কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশন পরিষেবাও। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমস্যাকে হালকাভাবে দেখলে চলবে না, আবার ভয় পেলেও চলবে না। ভাইরাস মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশকে যৌথনীতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে সার্ক দেশের নেতারা। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে জরুরি এই পরিস্থিতিতে সার্ক নেতাদের দ্রুত উপায় খোঁজার তাগিদ দেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট গনি সাংহাই করপোরেশনে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারতের থাকার বিষয়টি তুলে ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের অভিজ্ঞতা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

টেলিমেডিসিন সেবার একটি অভিন্ন রূপরেখা প্রণয়নের জন্য সার্ক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান আফগান প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাফর মির্জাও সমন্বিত কাজের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমরা ভালোটা আশা করলেও সবচেয়ে খারাপ অবস্থার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে। শুক্রবার সকালে এক টুইট বার্তায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এক সঙ্গে কাজ করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান মোদি। তিনি বলেছিলেন, আমাদের নাগরিকদের কীভাবে সুস্থ রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করতে পারি। একসঙ্গে আমরা বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ  তৈরি করতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর গ্রহ গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারি। এরপর বাংলাদেশসহ সার্ক সদস্য দেশগুলো তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা জানায়।


আপনার মন্তব্য