শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৪

কোনো উন্নতি নেই বিশ্ব পরিস্থিতির

বাড়ছে আক্রান্ত বাড়ছে মৃত্যু, দেশে দেশে শুধুই অনিশ্চয়তা, ১৯৯ দেশে আক্রান্ত ৭ লাখ ২ হাজার ২২, মৃত্যু ৩৩ হাজার ১৭৮

প্রতিদিন ডেস্ক

কোনো উন্নতি নেই বিশ্ব পরিস্থিতির

করোনা করুণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে বিশ্বজুড়ে। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত, বাড়ছে মৃত্যু। লকডাউন, কারফিউ, ঘরবদ্ধ জীবনের কারণে এখন বিশ্বে নেমে এসেছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা। স্তব্ধ হয়ে আছে স্বাভাবিক সব কার্যক্রম। একেবারে স্থির হয়ে আছে মানবজগৎ। ভয়াল ভাইরাসের কবল থেকে বেরিয়ে আসার কোনো অবস্থাই তৈরি হচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নতির বদলে কেবলই হচ্ছে অবনতি। গতকাল রাতে পাওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটার, আল-জাজিরা ও সিএনএনের খবর অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ২ হাজার ২২, মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৭৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হন প্রায় ৪০ হাজার জন এবং মারা যান প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আক্রান্ত হন ৭ হাজার ৮২৫ জন এবং মারা যান ১০৮ জন, স্পেনে নতুন আক্রান্ত হন ৬ হাজার ৫২৮ জন এবং মারা যান ৮৩৮ জন, ফ্রান্সে নতুন করে আক্রান্ত ৪ হাজার ৬১১ জন এবং মারা যান ৩১৯ জন, ইরানে নতুন আক্রান্ত ২ হাজার ৯০১ জন এবং মারা যান ১২৩ জন, যুক্তরাজ্যে নতুন আক্রান্ত ২ হাজার ৪৩৩ জন এবং মারা যান ২০৯ জন, নেদারল্যান্ডসে নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ১০৪ জন এবং মারা যান ১৩২ জন, বেলজিয়ামে নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৭০২ জন এবং মারা যান ৭৮ জন।

এর আগে গতকাল সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৮১ এবং মোট মৃত্যু ২ হাজার ২২৯ জন (এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৪৫৫ এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৮৮৩ জন), ইতালিতে মোট আক্রান্ত ছিল ৯২ হাজার ৪৭২ এবং মোট মৃত্যু ১০ হাজার ২৩ জন, চীনে মোট ৮১ হাজার ৪৩৯ এবং মোট মৃত্যু ৩ হাজার ৩০০ জন, স্পেনে মোট আক্রান্ত ৭৩ হাজার ২৮৫ এবং মোট মৃত্যু ৫ হাজার ৯৮২ জন, জার্মানিতে মোট আক্রান্ত ৫৮ হাজার ২৪৭ এবং মোট মৃত্যু ৪৫৫ জন, ফ্রান্সে মোট আক্রান্ত ৩৭ হাজার ৫৭৫ এবং মোট মৃত্যু ২ হাজার ৩১৪ জন, ইরানে মোট আক্রান্ত ৩৫ হাজার ৪০৮ এবং মোট মৃত্যু ২ হাজার ৫১৭ জন, যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্ত ১৭ হাজার ৮৯ এবং মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯ জন, সুইজারল্যান্ডে মোট আক্রান্ত ১৪ হাজার ৩৫২ এবং মোট মৃত্যু ২৮২ জন, বেলজিয়ামে মোট আক্রান্ত ১০ হাজার ৮৩৬ এবং মোট মৃত্যু ৪৩১ জন, নেদারল্যান্ডসে মোট আক্রান্ত ৯ হাজার ৭৬২ এবং মোট মৃত্যু ৬৩৯ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট আক্রান্ত ৯ হাজার ৫৮৩ এবং মোট মৃত্যু ১৫২ জন, অস্ট্রিয়ায় মোট আক্রান্ত ৮ হাজার ৪১১ এবং মোট মৃত্যু ৮৬ জন, তুর্কিতে মোট আক্রান্ত ৭ হাজার ৪০২ এবং মোট মৃত্যু ১০৮ জন, কানাডায় মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৬৫৫ এবং মোট মৃত্যু ৬০ জন, পর্তুগালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ১৭০ এবং মোট মৃত্যু ১০০ জন। এ সময় পর্যন্ত বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৬৯ হাজার ১২৪ এবং মোট মৃত্যু ছিল ৩১ হাজার ৬৮ জন।

ইতালিতে করোনার তা-ব : গত শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে এ দিন ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৮৯ জন মারা গেছেন। এর আগে দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯৭৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।

২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে ২২২ মৃত্যু : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবরে বলা হয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতেই করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত করোনার সবচেয়ে বেশি ভয়াবহতা রয়েছে জনবহুল নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখন ‘করোনা পজিটিভ’ রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৮৬০। গোটা বিশ্বের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এ সময় পর্যন্ত নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৮৪৮ জন।

মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হলো শিশুও : এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বছরেরও কম বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। চিকিৎসকরা এ মৃত্যুকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ এর আগে করোনায় এক বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়নি।

গত শনিবার শিকাগোয় এই শিশুর মৃত্যু হয়। জনস্বাস্থ্য দফতরের ডিরেক্টর এনগোজি এজিকে বলেছেন, ‘এর আগে কখনো কভিড-১৯ এর ফলে শিশুমৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেনি। শিশুটির মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে সম্পূর্ণ তদন্ত হবে।’ ইলিনয় প্রদেশের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার বলেছেন, ‘এই খবর ছোট্ট ওই শিশুটির পরিবারের জন্য খুবই দুঃখজনক।’ উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে প্যারিসে ১৬ বছরের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছিল। ওই কিশোরীর দেহে করোনার সংক্রমণ জটিল আকার নিয়েছিল। আর গত সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেসে মৃত্যু হয় এক কিশোরের। কিন্তু এক বছরেরও কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম।

থমকে আছে আমেরিকা : যে আমেরিকা রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকত, সেই আমেরিকা এখন রাত-দিন অচল-স্তব্ধ হয়ে আছে। ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলাও এভাবে থমকে দিতে পারেনি দেশটিকে। কিন্তু এবার অদৃশ্য শত্রুর আক্রমণে গোটা আমেরিকার অর্ধেকের বেশি মানুষের জীবনযাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাজারো আমেরিকান হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দেওয়ায় বিশ্বে সবচেয়ে ধনী ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের নাগরিকরাও আজ হতাশ। এই বাস্তবতায় নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে কমপক্ষে ১৫ বাংলাদেশিরও মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন জ্যাকসন হাইটস মসজিদের মুয়াজ্জিন লিটন, ব্যবসায়ী সূর্য বণিক, গৃহবধূ আমিনা ইন্দ্রালিব তৃষা হাওলাদার, এম এ বাতেন, রোহেনা আকতার, এটিএম সালাম প্রমুখ। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সাংবাদিক ফরিদ আলম, বিএনপি নেতা খালেক আকন্দ, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির সাইদ মইনুল প্রমুখ। এদিকে করোনা পরিস্থিতির গুরুতর আকার ধারণ করায় নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ১৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকার মধ্যে ১৬টির প্রকাশনাই স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঠিকানা, বাঙালি, আজকাল, পরিচয়, বাংলা পত্রিকা, বাংলাদেশ, জন্মভূমি, বর্ণমালা, বাংলা টাইমস, প্রবাস, জনতার কণ্ঠ, মুক্তকণ্ঠ প্রভৃতি পত্রিকা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

করোনায় মারা গেলেন স্পেনের রাজকুমারী : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন স্পেনের রাজকুমারী মারিয়া টেরেসার। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে এই প্রথম কোনো রাজপরিবারের সদস্যের প্রাণ গেল। মারিয়া টেরেসার ভাই প্রিন্স সিক্সতো এনরিকে ডি বারবন ও ডিউক অব আরানজুয়েজ জানান, মারিয়া টেরেসার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর গত শুক্রবার প্যারিসে তার মৃত্যু হয়েছে। ওই দিনই মাদ্রিদে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, প্রিন্স হাভিয়ার ও ম্যাডেলিন ডি বারবনের ছয় সন্তানের অন্যতম মারিয়া টেরেসা ১৯৩৩ সালের ২৮ জুলাই প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

স্পেনে এক দিনে রেকর্ড ৮৪৪ মৃত্যু : রয়টার্স জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর গত শনিবার সবচেয়ে ভয়াবহ দিন পার করেছে স্পেন। এদিন দেশটিতে ৮৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা তাদের জন্য এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ অবস্থায় স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অনাবশ্যক কর্মীদের আগামী দুই সপ্তাহ বাসায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা যথারীতি বেতন পেয়ে যাবেন, তবে পরবর্তী কোনো সময়ে কাজ করে এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্পেন সরকার। দেশটির রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া নেই বললেই চলে। কেউ বাইরে বের হলেই কারণ জানতে চাচ্ছে পুলিশ। অপ্রয়োজনে বের হলে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। গত ১৪ মার্চ থেকে দেশটির সব স্কুল, বার, রেস্টুরেন্ট, অনাবশ্যক পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। মহামারীর কারণে সপ্তাহ তিনেক ধরে প্রায় অবরুদ্ধ রয়েছে গোটা স্পেন।

কাতারে বাংলাদেশির মৃত্যু : কাতারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মারা যাওয়া বাংলাদেশির বয়স ৫৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। এটি কাতারে প্রথম মৃত্যু।’ প্রাণ হারানো এই বাংলাদেশির বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। তিনি কাতারে ব্যবসা করতেন। গত ১৬ মার্চ তাকে কাতারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

জার্মানিতে আক্রান্ত ১০ বাংলাদেশি : জার্মানিতে বসবাসরত আরও পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। এ নিয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০ বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। তাদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য, যারা বার্লিনের বাসিন্দা। বাকি দুজনের একজন মিউনিখ এবং অন্যজন মুনস্টার শহরের বাসিন্দা। তিনি আরও বলেন, বার্লিনে করোনা আক্রান্ত পরিবারের এক পুরুষ সদস্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের অবস্থা উন্নতির দিকে। মিউনিখে যিনি আক্রান্ত হয়েছেন তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন, তবে এখন তার অবস্থা উন্নতির দিকে। আর মুনস্টারে আক্রান্ত ব্যক্তি হোম  কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দুজনের বয়স চল্লিশের  কোঠায় আর বাকি তিনজনের বয়স ত্রিশের নিচে।

শ্রীলঙ্কায়ও মৃত্যু : শ্রীলঙ্কায় প্রথম কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস অনিল জয়সিংহে। দেশের দ্বিতীয় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন এই বৃদ্ধ। আক্রান্ত ব্যক্তি ইতালির পর্যটকদের সংস্পর্শেও এসেছিলেন। উল্লেখ্য, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

লকডাউনের মেয়াদ বাড়াল সৌদি এবং আমিরাত : সৌদি আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচল স্থগিত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রাতে তার নাগরিকদের চলাচলের ওপর কারফিউ জারির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সব ধরনের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী উপস্থিতির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিমান উড্ডয়ন, ট্রেন, বাস এবং ট্যাক্সি চলাচল স্থগিত থাকবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত রাস্তাঘাটসহ সর্বজনীন স্থানগুলোকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য তার নাগরিকদের চলাচলের ওপর রাত্রিকালীন কারফিউ জারি আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকার ঘোষণা দিয়েছে। আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফরিদা আল হুসাইনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই সময়ের মধ্যে সব নাগরিক, অধিবাসী এবং পর্যটক বাসায় অবস্থান করবেন।’ উল্লেখ্য, এর আগের দিন শনিবার সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে ৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন। ফলে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এ দিন আরব আমিরাতে ৬৩ জন, ওমানে ২১ জন এবং কুয়েতে ১০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১৪০০ : পাকিস্তানে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। গত শনিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০। রাত পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪০৮ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। এই মারণ ভাইরাসের উৎসস্থল হিসেবে উঠে এসেছে পাঞ্জাব প্রদেশ। জানা গেছে,  বেশির ভাগ আক্রান্তেরই ইরান ভ্রমণের রেকর্ড রয়েছে। এদিন পাঞ্জাব প্রদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৯০।  যেখানে শুক্রবার সেই সংখ্যা ছিল ৪১৯। এর ফলে আক্রান্তের হিসাবে সিন্ধু প্রদেশকে ছাড়িয়ে গেছে পাঞ্জাব।

হুবেই-এ চালু হলো বিমান সার্ভিস : ধাক্কা সামলে উঠেছে চীনে করোনা সংক্রমণের কেন্দ্র হুবেই প্রদেশ। ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পর এবার গতকাল থেকে সেখানে ফের চালু হলো দেশীয় বিমান সার্ভিস পরিষেবা। তবে হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরে যাত্রীবাহী বিমান সার্ভিস এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। এখানে যাত্রীবাহী বিমান সার্ভিস চালু হবে ৮ এপ্রিল থেকে। গত শুক্রবার চীনের অসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, উহানসহ গোটা হুবেই প্রদেশে এরই মধ্যে বাস ও ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর