শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:০৮

ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে চট্টগ্রাম নেওয়ার মাধ্যমে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু, আজ জাহাজে করে পৌঁছাবে নতুন ঠিকানায়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি

ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা
বাসে করে নতুন ঠিকানার উদ্দেশে রোহিঙ্গারা। স্বজনকে বিদায় জানাতে আসা এক নারী -এএফপি

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে ২০টি বাসে করে স্থানান্তরের জন্য চট্টগ্রামে নেওয়া হয় একদল রোহিঙ্গা নাগরিককে। করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর আজ সকালে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচরে নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গার দলটি থাকবে ভাসানচরের অত্যাধুনিক আবাসন প্রকল্পে। পর্যায়ক্রমে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় ভাসানচরে গিয়ে থাকতে রাজি রোহিঙ্গাদের এ দলটির মাধ্যমে আশ্রয়ণ প্রকল্প হিসেবে যাত্রা হতে যাচ্ছে  ভাসানচরের। রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নিয়ে যাচ্ছে নৌবাহিনীর ১২টি ও সেনাবাহিনীর একটি জাহাজ। এরই মধ্যে ভাসানচরে মজুদ রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ভাসানচরে প্রথম ধাপে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রাখা হবে ৫ থেকে ১১ নম্বর ক্লাস্টারে। তিন মাসের মজুদ সক্ষমতার খাদ্য গুদামে প্রস্তুত ৬৬ টন খাদ্যপণ্য। তবে প্রথম দিকে রোহিঙ্গাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করবে বেসরকারি সংস্থাগুলো। ইতিমধ্যে ২২টি এনজিওর প্রতিনিধিরা ভাসানচরে কাজ শুরু করেছেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথম দফায় ১০টি বাস উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে রওনা দেয়। পৌনে ১টায় রোহিঙ্গাদের বহনকারী আরও ১০টি বাস ছাড়ে। প্রতি ১০ বাসের বহরে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি পুলিশের গাড়ি রয়েছে। এতে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিটি বাসে ৩০ থেকে ৪০ জন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াতসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। ভাসানচর রওনা হওয়া এসব বাসের সামনে ও পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলে জানান স্থানীয় দোকানি আবুল কালাম।

এর আগে বুধবার রাতে ভাসানচরে স্বেচ্ছায় যেতে আগ্রহ প্রকাশকারী রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। অন্যদিকে রাতেই উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো করা হয় অন্তত শতাধিক বাস। এর পর থেকে ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করতে দেখা যায়।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না পাঠানোর আহ্বান এইচআরডব্লিউ ও অ্যামনেস্টির : রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে শিগগিরই রোহিঙ্গাদের প্রত্যন্ত ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করা। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম বন্দরনগর থেকে ভাসানচর পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সেখানে স্থানান্তরিত শরণার্থীদের পুরোপুরি সম্মতি, জাতিসংঘের কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরেক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হামাদি বলেছেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে ভাসানচরে আরও রোহিঙ্গা শরণার্থীর স্থানান্তর বন্ধ করা উচিত। যারা সেখানে আছেন তাদের মূল ভূখন্ডে  ফিরিয়ে আনা উচিত। স্থানান্তরের যে কোনো পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণসহ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান সাদ হামাদি। অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ক্যাম্পেইনার বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের (রোহিঙ্গা) সম্পূর্ণ ও অবহিতপূর্বক সম্মতি ছাড়া তাদের ভাসানচর বা অন্য কোনো জায়গায় স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেওয়া যাবে না।

এর আগে জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কক্সবাজার থেকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ভাসানচরে প্রারম্ভিক স্থানান্তরের কাজ আগামী কিছু দিনের মধ্যে শুরু করার সম্ভাবনাবিষয়ক কিছু প্রতিবেদন সম্পর্কে জাতিসংঘ অবগত রয়েছে। ওই স্থানান্তরের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অথবা শরণার্থীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। স্থানান্তরের সার্বিক কর্মকান্ড সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘের কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্ধৃতি দেয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর