শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৮

আইন আছে প্রয়োগ নেই উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানছে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বায়ুদূষণ রোধে আইন ও দূষণকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলেও নেই আইনের কার্যকর প্রয়োগ। ফলে দূষণের কবল থেকে মুক্তি মিলছে না ঢাকাবাসীর। দিন দিন বিষে ভরে উঠছে রাজধানীর বাতাস। দূষণ রোধে উচ্চ আদালত একাধিকবার বিভিন্ন নির্দেশনা দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি তার অধিকাংশই।

মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরীক্ষার উদ্দেশ্য      ছাড়া ক্ষতিকর ধোঁয়া নিঃসরণকারী যানবাহন চালুই করা যাবে না। অথচ, রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহন। ফিটনেসবিহীন বাস, মিনিবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়াও ঢাকায় নিবন্ধিত ৭৪ হাজার ৩৩০টি ট্রাকের বড় একটি অংশই কালো ধোঁয়া ছাড়ছে। রাতে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া পুরান ঢাকা এলাকায় সন্ধ্যার পর বিভিন্ন কারখানায় পোড়ানো হচ্ছে টায়ার ও প্লাস্টিক। এতে ভয়াবহ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে।

উপেক্ষিত আদালতের নির্দেশনা : রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি নয় দফা নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত। নির্দেশনায় বলা হয়, ঢাকা শহরের মধ্যে বালি বা মাটি পরিবহনকারী ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহনে ঢাকনা যুক্ত করতে হবে; ঢেকে নির্মাণ কাজ পরিচালনা করতে হবে; পূর্বের নির্দেশ অনুযায়ী ঢাকার সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে; মেগা প্রজেক্টের নির্মাণ কাজ এবং কার্পেটিংয়ের কাজ আইনকানুন এবং চুক্তির শর্ত মেনে করা নিশ্চিত করতে হবে; কালো ধোঁয়া নিঃসরণকারী গাড়ি জব্দ করতে হবে; সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করতে হবে এবং পুরনো গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে; লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে; পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া টায়ার পোড়ানো এবং ব্যাটারি রিসাইকিলিং বন্ধ করতে হবে; মার্কেট এবং দোকানের বর্জ্য প্যাকেট করে রাখতে হবে এবং মার্কেট ও দোকান বন্ধের পরে সিটি করপোরেশনকে ওই বর্জ্য অপসারণ করতে হবে।

হাই কোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ নিতে শুরু করলে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার দূষণ কমতে শুরু করে। বর্ষা এলে কমে যায় বাতাসে ধুলা। অক্টোবরে শীত পড়তে শুরু করলে ফের ধুলা ও ধোঁয়ায় ধুসর হয়ে যায় ঢাকার আকাশ। ২৪ নভেম্বর ফের এক রায়ে আগে দেওয়া নয় নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয় ৩০ দিনের মধ্যে। বায়ুদূষণ নিরসনে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারিতেও উচ্চ আদালত নির্দেশনামূলক রায় দেয়। তাতে রাজধানীতে বায়ুদূষণে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। তবে গত কয়েক দিন তথ্য পর্যালোচনা ও সরেজমিন রাজধানী ঘুরে এসব নির্দেশনাগুলোর অধিকাংশেরই বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি। প্রতিটা নির্মাণাধীন সড়ক ও মেগা প্রজেক্ট এলাকা ধুলায় ঢেকে আছে। নিয়মানুযায়ী ছিটানো হচ্ছে না পর্যাপ্ত পানি। এসব এলাকা দিয়ে একটি যানবাহন গেলেই পিছনের পুরো এলাকা ধুলায় সাদা হয়ে যাচ্ছে। না ঢেকেই নির্মাণসামগ্রী নিয়ে চলাচল করছে ট্রাক। রাস্তায় ১০ মিনিট দাঁড়ালেই মিলছে কালো ধোঁয়া নিঃসরণকারী যানবাহন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশ দূষণ রোধে মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদফতরের। এ ছাড়া বিআরটিএ, নগর কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব আছে। যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার দূষণের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র প্রতিষ্ঠানটির কাছে নেই। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছেও নেই কালো ধোঁয়ার দূষণ পরিমাপের যন্ত্র। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরিবেশ সার্কেল থাকলেও কালো ধোঁয়া বন্ধে তাদের উদ্যোগ নেই। নেই ধোঁয়া দূষণ পরিমাপের যন্ত্র।

এই বিভাগের আরও খবর