শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৬

কেউ ক্ষুধার্ত গৃহহীন থাকবে না

ইতিহাসের দুই মাহেন্দ্রক্ষণের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

কেউ ক্ষুধার্ত গৃহহীন থাকবে না
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনের আয়োজনের তৃতীয় দিনে গতকাল ক্ষুধামুক্ত ও গৃহহীন মুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠুক। বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা আলো জ্বালব।

রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘মুজিব চিরন্তন’ শিরোনামে সিরিজ আয়োজনে গতকালের থিম ছিল ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’। বিকালে মিরপুরের সরকারি পিএইচ সেন্টারের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, মুজিববর্ষের থিম সংগীত, ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’ শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন এবং স্বাগত সম্ভাষণের পর থিমভিত্তিক আলোচনা করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের জাতিরাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ও বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। পরে অতিথিদের দেওয়া হয় ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধা-স্মারক। অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্ব শেষ হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ সব দিকে বাংলাদেশের মানুষ যেন উন্নত, সমৃদ্ধ জীবন পায়, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল, যা তিনি সব সময়ই বলতেন। আসুন, জাতির পিতার এই ১০১তম জন্মবার্ষিকী আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা সেই প্রতিজ্ঞা নিই, জাতির পিতা যেই স্বপ্ন রেখে গেছেন, সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করব। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সোনার বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হতে পেরেছি। কাজেই এই বাংলাদেশে আজ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা সরকারে থেকে উদযাপন করার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গভীর বেদনায় স্মরণ করেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার কথা। ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে বন্ধুপ্রতিম শ্রীলঙ্কার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে আমাদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। আমাদের এই অনুষ্ঠানকে তিনি মহিমান্বিত করেছেন। শ্রীলঙ্কাকে বাংলাদেশের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একই ধরনের মনোভাব পোষণ করে এবং দুই দেশ পরস্পরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু এবং তিনি সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে অবস্থান করেন। আমিও চেষ্টা করি সেই বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে। বাংলাদেশের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের যোগদান তাঁর নিজের এবং শ্রীলঙ্কার জনগণের আমাদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে এবং তাঁর দেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের জনগণের এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শেষ হলে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিদল একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন। এ ছাড়া ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও, ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’ থিমের ওপর সিরিজ অ্যানিমেশন ভিডিও, কবিতা আবৃত্তি, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ওপর লোকসংগীত পরিবেশনা, নৃত্যনাট্য, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান। প্রখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনসহ দুই প্রজন্মের শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় শেষ হয় তৃতীয় দিনের আয়োজন। আজ চতুর্থ দিনে আয়োজনের থিম নির্ধারিত রয়েছে ‘তারুণ্যের আলোকশিখা’।


আপনার মন্তব্য