শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মার্চ, ২০২১ ২৩:০৬

জলবিদ্যুৎ আমদানির আহ্বান জানিয়ে গেলেন নেপালের রাষ্ট্রপতি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

নেপালে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারী। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি। দুই দিনের সফর শেষে গতকাল বিকালে নেপাল এয়ারলাইনসের বিশেষ বিমানে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার ঢাকা এসেছিলেন বিদ্যাদেবী ভান্ডারী।

গতকাল সকালে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সকালে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছলে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা স্বাগত জানান। পরে তিনি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করেন এবং জাদুঘর পরিদর্শন করেন। বিকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। নেপালের রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, রাষ্ট্রপতি ভান্ডারী নেপালে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সচিব পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ বিষয়ক কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকগুলো ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে জলবিদ্যুৎ সেক্টরে বর্ধিত সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এ ছাড়া নেপালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে উভয় নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এটি স্বাক্ষরিত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করছি, চুক্তিটি দ্রুত স্বাক্ষরিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী নেত্রী আখ্যায়িত করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দক্ষিণ এশিয়া তথা সারা বিশ্বের জন্যই রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি চায় তবে সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চারটি দ্বিপক্ষীয় ইন্সট্রুমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালে সম্পাদিত নেপাল-বাংলাদেশ ট্রানজিট চুক্তির প্রটোকলের সংযোজনী হিসেবে রোহানপুর-সিংঘাবাদ রেল সংযোগ পয়েন্টকে অন্তর্ভুক্ত করে দুই দেশের বাণিজ্য সচিবদের মধ্যে একটি লেটার অব এক্সচেঞ্জ স্বাক্ষরিত হয়েছে এই সফরে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো স্থলবেষ্টিত নেপাল ও ভুটানের ব্যবহারের সুযোগ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। নেপাল চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে আগ্রহী। এক্ষেত্রে মোডালিটিজ নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেপাল। এ ছাড়া বাংলাদেশের সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট এবং নেপালের বিরাটগর বা ভদ্রপুরের মধ্যে সরাসরি বিমান সংযোগ স্থাপনেও নেপাল আগ্রহী। বাংলাদেশ প্রস্তাব দুটিকে স্বাগত জানিয়েছে।


আপনার মন্তব্য