শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৮

বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত সহযাত্রী : মোদি

গোপালগঞ্জে মন্দিরে পূজা, সাতক্ষীরায় মৈত্রী কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের আগ্রহ

গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ভারত সহযাত্রী হিসেবে থাকবে উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতকে এগিয়ে চলতে হবে। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলা উভয়ই নিজেদের বিকাশ ও প্রগতির চেয়ে সারা বিশ্বের বিকাশ ও প্রগতি চায়। দুই দেশই বিশ্বে অস্থিরতা ও সন্ত্রাসের পরিবর্তে শান্তি চায়। ভারত ও বাংলাদেশের একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা উচিত। এটা আমাদের কর্তব্য। ভারত আজ সবার সঙ্গে, সবার বিকাশ, সবার বিশ্বাস-এ মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখানে সহযাত্রী। বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে বিকাশ ও পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। এখানে ভারত আপনাদের সহযাত্রী। গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালি মন্দিরে পূজায় অংশ নেন।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ওড়াকান্দি আসতে পেরে আমার বহুদিনের আকাক্সক্ষা পূর্ণ হয়েছে। একইভাবে এই স্থান ভারত ও বাংলাদেশের আত্মিক সম্পর্কের তীর্থস্থান। আমাদের সম্পর্ক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক। মনের সঙ্গে মনের সম্পর্ক। ভারতের হাজার হাজার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ওড়াকান্দি এসে যে অনুভব করে, আমিও ঠিক তেমন অনুভব করছি। এই পবিত্র দিনের অপেক্ষা আমার বহু দিনের। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন বাংলাদেশে আসি তখনই আমি এখানে আসার ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম। আমার সেই প্রত্যাশা ও কামনা আজ পূর্ণ হলো। করোনা মহামারীতে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, উভয় দেশ নিজেদের সামর্থ্যরে পরিচয় দিয়েছে। এ মহামারী একসঙ্গে মিলে মোকাবিলা করছে। মেড ইন ইন্ডিয়া ভ্যাকসিন বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে যাতে পৌঁছায় সেজন্য ভারত একে নিজেদের কর্তব্য মনে করে কাজ করছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ওড়াকান্দিতে ভারত সরকার মেয়েদের মিডল স্কুল আপগ্রেড করবে। একই সঙ্গে ভারত সরকার এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করবে। এটি ভারতের কোটি কোটি মানুষের পক্ষ থেকে শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। যারা এ কাজে আমাদের পাশে আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানজীর নেতৃত্বে উনার ভিশন আর বাংলাদেশের লোকেদের ওপর উনার বিশ্বাস এক উদাহরণস্বরূপ।’ এর আগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মতুয়াদের প্রধান তীর্থপীঠ ওড়াকান্দিতে আসেন। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি ও মতুয়া নেতৃবৃন্দ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তিনি ওড়াকান্দির হেলিপ্যাড থেকে সরাসরি মতুয়া মতবাদের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি পূজা-অর্চনায় অংশ নেন। পূজা শেষে বিশেষ প্রার্থনা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থনা শেষে ওড়াকান্দি তীর্থ পরিদর্শন করেন। এ সময় কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয় শংকর, হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, গোপালগঞ্জ সদর আসনের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-১ আসনের এমপি লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, মতুয়া নেতৃবৃন্দ ও ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মতুয়া মতবাদের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাভূমি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি। ওড়াকান্দির হরিচাঁদ মন্দিরটি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। ভারত-বাংলাদেশ মিলিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ৫ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত ৩ কোটি মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।

সাতক্ষীরায় দুর্যোগসহনীয় কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণে আগ্রহী মোদি : এর আগে গতকাল সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালি মন্দিরে পূজা ও আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মন্দিরে আগত সুধীজনদের সঙ্গেও কুশলবিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি ভারত-বাংলাদেশের সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে সাতক্ষীরায় একটি দুর্যোগসহনীয় কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে যশোরেশ্বরী মা কালি দেবি মন্দিরে পৌঁছান নরেন্দ্র মোদি। মন্দির চত্বরে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্যে স্বাগত জানানো হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। পরে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে পৌঁছালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৃতী সন্তান প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। এ সময় ৪১ বছর ধরে তাঁর পূর্ব পুরুষরা মন্দিরটি দেখভাল করছেন বলে মোদিকে জানান তিনি। পরে নরেন্দ্র মোদি মন্দিরে আগত সুধীজনদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন, পূজা-অর্চনায় যোগ দেন। পূজা শেষে প্রার্থনা করেন তিনি। এ সময় কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এস এম জগলুল হায়দারসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্দিরে ৩০ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে যশোরেশ্বরী কালি মন্দির ত্যাগ করেন নরেন্দ্র মোদি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর