শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও ২০ জনসহ গ্রেফতার ৮৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Google News

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, সহিংস ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে হরতাল চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘাটুরা এলাকায় অবস্থিত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মূল হোতা শামীম মিয়াও রয়েছে। এসব ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৩টি, আশুগঞ্জ থানায় ৩টি ও সরাইল থানায় ২টি ও রেলওয়ে থানায় ১টিসহ মোট ৪৯টি মামলা হয়েছে। এ সব মামলায় ২৮৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৬৭ জন, আশুগঞ্জ থানায় ১২ জন এবং সরাইল থানায় চারজনসহ ৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনায়, বিএনপি কর্মী আরমান ও হেফাজত কর্মী বাকেরকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালত। গতকাল দুপুরে আসামিদের আদালতে তোলা হলে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করে।

জেলা পরিষদের ক্ষতি ৫ কোটি টাকা : হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের তান্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এমএসসি। গতকাল দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তিনি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, গত ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ চলাকালে ৪০০-৫০০ মাদরাসাছাত্র এবং দুষ্কৃতকারী শহরের কাউতলি এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ডাকবাংলোতে অবস্থানরত তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কেয়ারটেকার কোনোরকমে আত্মরক্ষা করেন। বাংলোর তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত একজন শ্রমিক ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আরও বলেন, ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতাল চলাকালে বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র ও দুষ্কৃতকারীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে তারা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো মেরামতে ২ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে। আর মোট ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৫ কোটি টাকা। যারা রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শফিকুল আলম এমএসসি।