শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২২

অনলাইন কেনাকাটায় শুভঙ্করের ফাঁকি

জবাবদিহি নেই বুকিং নিয়ে সাত দিন থেকে দুই মাস পর জানানো হয় পণ্য দেওয়া হবে না টাকা ফেরতে ঝামেলার শেষ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনলাইন কেনাকাটায় শুভঙ্করের ফাঁকি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক মোবাইল ফোন কেনার জন্য অর্ডার দেন অনলাইন কেনাবেচার প্ল্যাটফরম দারাজে। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৪২ হাজার টাকা পেমেন্ট করেন তিনি। পাঁচ দিন পর দারাজ থেকে জানানো হলো তারা মোবাইল ফোন ডেলিভারি দিতে পারবেন না। পেমেন্ট করা টাকা ১০-১২ দিন পর ফেরত দেওয়া হবে বলে জানায় দারাজ। পিঁয়াজের চড়ামূল্যের সময় আরেক ক্রেতা ৫ কেজি পিঁয়াজের জন্য অনলাইনের আরেকটি প্ল্যাটফরমে অর্ডার দেন। ১৫ দিন পর জানানো হয় সেই পিঁয়াজ তারা দিতে পারবে না। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সময় নেওয়া হয় আরও বেশ কিছুদিন।

প্রতারণার আরেক নাম ফাল্গুনী শপ ডটকম। অনেক কমমূল্যে বিভিন্ন পণ্য স্বল্প সময়ে ডেলিভারি করার আশ্বাস দিয়ে ভোক্তাদের কাছে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা টাকা পরিশোধ করা ভোক্তাকে কোনো পণ্যই দিচ্ছে না। প্রায় দুই-তিন মাস পর মূল টাকা ফেরত দিচ্ছে এই অনলাইন শপের চক্রটি। এভাবে গ্রাহকদের টাকা অবৈধভাবে আটকে রাখছে চক্রটি। আকতারুজ্জামান নামের এক ক্রেতা গতবছরের ডিসেম্বরে একটি ল্যাপটপ কিনতে ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করেন। এই ক্রেতাকে জানানো হয় এক মাসের মধ্যে নির্ধারিত অরিজিনাল পণ্য দেওয়া হবে। আরও জানানো হয়, পণ্য দিতে না পারলে প্রডাক্টটির বাজারমূল্য পরিশোধ করা হবে। কিন্তু প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ভোক্তা তার পণ্য পাননি। দফায় দফায় হটলাইনে ফোন করলে ফাল্গুনী শপ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিয়ে পাভেল নামের এক ব্যক্তি জানান, প্রডাক্টটি দেওয়া হবে না, পরিশোধকৃত টাকা রিফান্ড করা হবে। বাজারমূল্যের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দুই মাসের বেশি সময়েও বাড়তি কোনো টাকাই পরিশোধ করেননি। অনলাইনের ক্রেতারা বলছেন, দারাজ ও ইভ্যালিসহ বাংলাদেশের সব অনলাইন প্ল্যাটফরমের চিত্রই এক। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোতেও নকল ভেজাল পণ্যের অভিযোগ অহরহ। অনেক অনলাইনে পণ্য অর্ডার দিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও মিলছে না ডেলিভারি। টাকা জমা দিয়ে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। নিজের অর্ডারের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যাচ্ছে না। কাস্টমার কেয়ারে ফোনের পর ফোন দিলেও মেলে না সাড়া। সাড়া মিললেও উত্তর আসে শেখানো বুলির মতো। এমনকি অর্ডারের বিষয়ে খোঁজ নিতে ইভ্যালির অফিসে গিয়ে গ্রাহককে মারধরের শিকারও হতে হয়েছে সম্প্রতি এমন ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে পণ্য ডেলিভারির আগে টাকা কেটে নেওয়া হয় না। অর্ডার দিলে ক্রেডিট কার্ডের সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আটকে রাখা হয়, পরে পণ্য ডেলিভারির সময় সেই টাকা কাটা হয়। আন্তর্জাতিক হোটেল-মোটেল রিজার্ভেশনের পেমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রেও একইরকম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও একই রকমের পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। তাতে কোম্পনিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা ও জনগণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমতে পারে। ইকমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে। কিন্তু এখনো স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর খসড়া পড়ে আছে। এটা এখনো প্রক্রিয়াধীন। ফলে যেহেতু কোনো গাউডলাইন নেই। তাই সবাই ফ্রি স্টাইলে চলছে। সরকার যত তাড়াতাড়ি দিকনির্দেশনা দেবে তত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।